সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আপনারা লাঙলে ভোট দেন, পরে তাদের নৌকায় তুলে নেব – প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগদান করায় তাকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। জনসভায় সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে আওয়ামী লীগের
নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সকল প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকধারীদেরও পরিচয় করিয়ে দেন; তাদের পক্ষে ভোট চান।
এসময় তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আপনারা লাঙলে ভোট দেন। আমরা পরে তাদের নৌকায় তুলে নেব। যেভাবে ধানের শীষের এমএম শাহিনকে নৌকায় তুলে নিয়েছি। যিনি বিকল্পধারা থেকে মৌলভীবাজার-২ আসনে নির্বাচন করছেন।’
শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেলা ২টা ৬মিনিটে এ জনসভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা শুরু করেন ৪টা ৫ মিনিটে।
এদিকে জনসভায় চা শ্রমিকদের কাছে কৃতজ্ঞ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চা শ্রমিকরা সব সময় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আসছেন। সেজন্য আমি সকল চা শ্রমিকদের কাছে কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেছেন, ‘আগে চায়ের নিলাম শুধুমাত্র চট্টগ্রামে হতো। আমরা সেই নিলাম সিলেটে যাতে হয়, তার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। চা শ্রমিকদের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কাজ করেছি। চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য স্কুলের ব্যবস্থা করেছি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমরা সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। মা বোনেরা এখন বাড়ির পাশে চিকিৎসা নিতে পারেন।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। মানুষ শান্তিতে থাকে। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই জনগণের অধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। দুর্নীতি করে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতিম খানার টাকা দুর্নীতির কারণে খালেদা জিয়া কারাভোগ করছেন। বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মারতে পারে। ২০১৪ সালে আন্দোলনের নামে মানুষ মেরেছে।,
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সিলেটসহ সারাদেশে কত মানুষকে বিএনপি-জামায়াত সরকার কত মানুষকে হত্যা করেছে, পুড়িয়ে মেরেছে তার হিসেব নেই। তারা বাংলাদেশকে বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। দেশের মান-সম্মান সব ধুলিস্যাৎ করেছে, মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বছরই জানুয়ারিতে এসেছিলাম। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলাম। আবারও বিজয়ের মাসে এসেছি। যাদেরকে আমরা প্রার্থী দিয়েছি তাদের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে।’
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। উন্নয়নের জোয়ার সিলেটে এসেছে। আমরা সিলেট বিভাগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। আমরা ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে পেরেছি। আজ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। প্রবাসী যারা আছেন, তারাও বিনিয়োগ করতে পারবেন। সকলের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছি, যেখানে কর্মসংস্থান হবে।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বক্তব্যে আরও বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়নের জন্য স্কুল, রাস্তাঘাট করে দিয়েছি। গত জানুয়ারিতে এসে অনেক প্রকল্প উদ্বোধন করে যাই। সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। সিলেটের সকল জেলায় যাতে বিশ্ববিদ্যালয় হয়, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় করতে উদ্যোগ নিচ্ছি। সিলেট-ঢাকা চারলেন সড়ক দ্রুত শুরু হবে। সিলেট বিভাগের সকল প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে দিচ্ছি। সিলেটে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছিল। এখন লন্ডন থেকে সরাসরি বিমান দেশে আসে। জলাবদ্ধতা যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা করেছি। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম করে দিয়েছি। দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়াম এখন অনেকেই দেখতে আসে।’
সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে সিলেটের এই মাঠ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলাম।
আবারও আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। বিজয়ের মাসে আপনাদের সামনে এসেছি। আগামী নির্বাচনে আমরা যে প্রার্থী দিয়েছি, তাদের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রীকে শাহ এ এমএস কিবরিয়াকে হত্যা করা হলো। সারাদেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ দেশ হিসেবে, জঙ্গিবাদি দেশ হিসেবে, সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়েছে। দেশের মানুষের মানইজ্জত সব শেষ করে দিয়েছে। তাদের অরাজকতার কারণে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল বিএনজি-জামায়াত। তারা মানুষ পুড়ানো, অস্ত্রবাজি, দুর্নীতি করা ছাড়া আর কিছু জানে না।’
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তার প্রিয় ব্যক্তিরাই এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলা দিয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রধান আরও বলেন, ‘খালেদার বিরুদ্ধে তার প্রিয় ব্যক্তিরাই তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তার বিরুদ্ধে আমি বা আওয়ামী লীগ মামলা দেয়নি। সেই মামলা দশ বছর ধরে চলে শাস্তি দেয়া হয়েছে। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা স্প্রিন্টার নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান বিদেশে বসে কলকাঠি নাড়ছে।’
বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ওই লন্ডনে বসে বসে নাটাই ঘুরায়, যে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
আল্লাহ যদি দিন দেয়, ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামি ধরে এনে বাংলাদেশে রায় কার্যকর করব। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলতে দেব না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে তারা (বিএনপি) কী করেছে? একেক সিটে তারা ৪-৫ জন করে নমিনেশন দিয়েছে। একেকটা সিট অকশনে দিয়েছে। যে যত টাকা দেবে, সে নমিনেশন পাবে। এ অকশনে দিতে গিয়ে তাদের ছ্যাড়া-ভেড়া অবস্থা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, দারিদ্রের হার কমে। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ ভাগে উন্নীত করেছি। আমরা সকলের জন্য বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। দুই কোটি চার লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি। মায়ের মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কওমী সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে। দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান মাস্টার্স করেছে। এর মাধ্যমে কওমী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানে নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করেছি। মনোপলি ব্যবসা ভেঙে দেওয়ায় আজ সবার হাতে হাতে ফোন। সারাদেশে ইন্টারনেট চালু করেছি। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছি। মোবাইল ফোন এখন সবার হাতে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে সবাই এখন বিশ্বকে দেখতে পারে, আত্মীয়স্বজনকে দেখতে পারে। মোবাইল ফোনে আমরা টু জি থেকে থ্রিজি, থ্রিজি থেকে ফোরজিতে চলে এসেছি। আগামীতে আমরা ফাইভ জি চালু করবো।’
হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হাওরবাসীদের শুধু মাছ চাষেই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও এগিয়ে নিতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। হাওরাঞ্চলে যাতে শিল্প গড়ে ওঠে, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশকে নিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট বিভাগের বিভিন্ন নদী ভাঙন ঠেকাতে, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছি। সিলেট বিভাগের সকল জেলায় সার্বিক উন্নয়নে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। আবার ক্ষমতায় এলে তা বাস্তবায়ন হবে। দারিদ্র বলে কিছু থাকবে না। মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে।’‘নৌকা হচ্ছে মানুষের বিপদের বন্ধু’ উল্লেখ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নুহ নবীর আমলে মহাপ্লাবন থেকে মানুষ জাতিকে রক্ষা করেছিল নৌকা। নৌকা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিয়েছি। নৌকা দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বিশ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে আমরা আলো জ্বালবো, কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। এই নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ একসময় নেতিবাচক পরিচিতি পেয়েছিল। এখন বাংলাদেশ মানে উন্নয়ন। বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। আমি দুর্নীতি করতে আসিনি। আমি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। যে অভিযোগ ওঠেছিল, তা বানোয়াট ছিল প্রমাণ হয়ে গেছে। চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু করবো। আল্লাহর রহমতে তা আমরা করছি।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে তারা একেক আসনে চার-পাঁচজনকে নমিনেশন দিয়েছে। পরে অকশনে দিয়েছে। যে বেশি টাকা দিয়েছে, তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট বাঙালি জাতির মানসম্মান ভুলুণ্ঠিত করেছিল। হত্যা, দুর্নীতি এগুলো ছিল তাদের নীতি ‘শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে যে সম্মান অর্জন করেছে, তা ধরে রাখতে হবে। যে সম্মান বিশ্বে পায়, তার জন্য নৌকায় ভোট দিতে হবে। আমি নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতে এসেছি। শুধু নৌকা প্রতীক নয়, আমরা মহাজোটের সকল প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে এসেছি।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা প্রতীক বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধ দেশ। ২০৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শতবর্ষ যাপন করবো। ২১০০ সালের মধ্যে ডেল্টা প্ল্যানের মাধ্যমে বাংলাদেশেকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’
এ সময় হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া পুত্র রেজা কিবরিয়ার সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যেখানে বিএনপি কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা করেছে, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো সেই কিবরিয়া সাহেবের ছেলে আজকে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে ইলেকশন করছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ নির্বাচনে আমরা নৌকা মার্কায় ভোট চাই। কারণ নৌকা মানে উন্নয়ন। ধানের শীষ মানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, লুটপাট, জঙ্গিবাদ, অগ্নিসন্ত্রাস। তারা স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের নমিনেশন দিয়েছে। যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আমরা শাস্তি দিয়েছি। তাদেরকে নিয়ে নির্বাচনে অংশীদার হয়েছে। তারা দেশের ক্ষমতায় আসা মানে দেশকে ধ্বংস করবে। সব অর্জন নস্যাৎ করবে, কারণ এরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নৌকা মার্কা। এ নৌকা হচ্ছে মানুষের দিন বদলের বন্ধু। এ নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছে স্বাধীনতা, পেয়েছে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার।’
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সারা বিশ্বে উচ্চ আসনে নিয়ে গেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই উচ্চ আসনটা ধরে রাখতে হবে। ওই বিএনপি জামায়াত জোট বাঙালি জাতির মান সম্মান ভুলণ্ঠিত করেছিল। হত্যা, খুন, অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি –এটাই ছিল তাদের কাজ।’
সারাদেশে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সিলেটের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের কওমি মাদরাসা, এ কওমি মাদরাসার কোনো সরকারি স্বীকৃতি ছিল না। আমরা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমর্যাদার করে দিয়েছি। আজকে আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমরা যেই সম্মান পেয়েছিলাম বাংলাদেশ স্বাধীন করার পর, সেই সম্মান নষ্ট করা হয় পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে।’
বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) অপকর্মের কারণে ২০০৭ সালে ইমার্জেন্সি ঘোষণা হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আজকে বলে বাংলাদেশ মানে উন্নয়ন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দিনরাত পরিশ্রম করে এ মর্যাদা আমরা আপনাদের জন্য বয়ে এনেছি। এ দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে।’
‘আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যে প্রার্থী দিয়েছি, তাদের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে আমি আপনাদের কাছে এসেছি,’ বলেন শেখ হাসিনা।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালন করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিলেট- ৬ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
এর আগে শেখ হাসিনার আগমণকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগরী শহর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সভামঞ্চের আশপাশে এসে মিছিলগুলো সমবেত হয়। দুপুর ১২টার পর থেকে সভাস্থলে প্রবেশের অনুমতি পায় মিছিলগুলো। সকাল থেকে সিলেট মহানগরীর অলিতে-গলিতে সরকারের উন্নয়ন চিত্র নিয়ে গান, মাইকিং ও বিভিন্ন দেশাত্ববোধক গান বাজিয়ে রিকশা মাইক নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। দুপুর পর্যন্ত মহানগরীর আশপাশের এলাকা থেকে বাদ্য বাজিয়ে সভাস্থলে আসতে থাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জনসভার স্থান ছোট হওয়ায় আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনেন দলটির নেতাকর্মীরা।
নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকে। পুরো শহর জুড়েই নৌকা প্রতীকের পোস্টারের পাশাপাশি স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে শেখ হাসিনা ও সরকারের ১০ বছরের উন্নয়ন নিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন গান বাজতে থাকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে। শহরে দেয়াল লিখনের পরিমাণ কিছু কম থাকলেও পোস্টার ছিল চোখে পড়ার মতো। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন পথ প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেখা গেছে নগরজুড়ে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ছাড়াও পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করেন।
এর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হযরত শাহ জালাল (রহ.), হযরত শাহ পরাণ (রহ.) ও হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি। এরপর সার্কিট হাউসে জোহরের নামাজ, মধ্যাহ্ন ভোজ ও বিশ্রাম শেষে বেলা ৩টার দিকে নৌকার আদলে তৈরি মঞ্চে পৌঁছান আওয়ামী লীগ সভাপতি।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: