সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে পালিত হলো বাউল কামাল পাশার ১১৭তম জন্মবার্ষিকী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জে গান আর আলোচনার মধ্যে দিয়ে পালিত হলো গানের স¤্রাট বাউল কামাল পাশার (কামাল উদ্দিন) ১১৭ তম জন্মবার্ষিকী। ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সুনামগঞ্জ শত্রুমুক্ত দিবস ও মহাণ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বাউল কামাল পাশার জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও কামালগীতি পরিবেশনার আয়োজন করে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জালাল উদ্দিন জাহান।

সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ আবুল হোসেন এর সহধর্মিনী রহিমা বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন লোকগীতি গবেষক সুনামগঞ্জ সরকারী এসসি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মোঃ মাশহুদ চৌধুরী, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মফিজুর রহমান,বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনাফর আলী মাস্তান ফকির, মুক্তিযোদ্ধা বাউল আব্দুল কাইয়্যুম,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক বাউল আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি কাজী জসিম কামাল,সহ-সভাপতি নেসার আহমদ শফিক,সাধারন সম্পাদক মোস্তাক আহমদ রোমেল, সুরমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ভান্ডারী,মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম,গীতিকার নির্মল কর জনি,মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিতাব আলী,জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক,সুরমা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক ও রঙ্গারচর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সমুজ আলীসহ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা। আলোচনা শেষে কামালগীতি পরিবেশন করেন প্রবীণ বাউল শিল্পী নজরুল ইসলাম,গীতিকার নিধু রঞ্জন দাস,বাউল আমজাদ পাশা,বাউল আলাউদ্দিন,বাউল আব্দুল কাইয়্যুম,বাউল জাকির হোসেন ও মাফরোজা সিদ্দিকা বুশরাসহ স্থানীয় শিল্পীরা। আলোচনা সভায় বক্তারা মরমী সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে বাউল কামাল পাশাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করার দাবী জানান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টা পর্যন্ত ভাটিপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত ওরস উৎসকেও এ দাবী জানান স্থানীয় বাউল শিল্পীরা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মরমী সংস্কৃতির উজ্জল নক্ষত্র ও সুনামগঞ্জের ৫ম রতœ বাউলের মধ্যমণি বাউল কামাল পাশা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে ১৯০১ সালের ৬ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালের ৬ মে মোতাবেক ১৩৯২ বাংলার ২০ বৈশাখ এই গানের সম্্রাটের মৃত্যু হয়। শুধু গান রচনাই নয় ঐতিহাসিক নানকার আন্দোলন,৪৭ এর গণভোট আন্দোলন,৫২ এর ভাষা আন্দোলন,৫৪‘র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ৭১এর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অবদানের পাশাপাশি এই শিল্পী স্বাধীকার স্বাধীনতা ও স্বায়ত্বশাসনের পক্ষে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন। বাউল কামাল পাশা স্মৃতি সংসদের সংগ্রহে এই প্রয়াত লোককবির প্রায় এক হাজারেরও বেশী গান রয়েছে। বাউল শাহ আব্দুল করিম ও দূর্বীণ শাহের অগ্রজ এই লোকশিল্পী কে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করার জন্য দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে ৭ বার প্রস্তাবনা প্রেরন করা হলেও আজও এই শিল্পী পাননি রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি। ফলে অনাদর অবহেলা আর উপেক্ষার মধ্যেই লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন এই শিল্পী। গ্রামের বাড়িতে একখানা কবরস্থান ব্যতিত মহাণ এই শিল্পীর আর কোন অস্তিত্বই বিদ্যমান নেই। এমনকি বাউল কামাল পাশার রচিত গানগুলোও বর্তমানে অনেক জুনিয়র শিল্পীরা নিজেদের নামে প্রকাশ ও প্রচার করে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কামালগীতিকে সরকারী পৃষ্টপোষকতায় প্রচার প্রকাশনায় প্রাতিষ্টানিক রুপদান ও প্রয়াত এই গণসঙ্গীত শিল্পীর কবরস্থানটিকে মাজারসহ মিউজিয়ামে উন্নীত করার দাবী এখন হাওরবাসীর প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: