সর্বশেষ আপডেট : ৩৮ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ রাজনগর হানাদার মুক্ত দিবস

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: আজ ০৬ ডিসেম্বর রাজনগর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে রাজনগর উপজেলা পাকসেনাদের কবল থেকে মুক্ত হয়। যৌথবাহিনীর কামান্ডার কর্নেল এমএ হামিদ প্রথম লাল সবুজের বিজয় পতাকা উড়ান রাজনগরের ক্লাব প্রাঙ্গনে। এর আগে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে রাজনগর বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ‘শহীদ মিনার’। এদিকে গত বছরের মতো এবছরও রাজনগর মুক্ত দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রাজনগর মুক্ত দিবস উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র‌্যালী ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাচঁগাও এবং খলাগ্রামে মর্মান্তিক গনহত্যা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নি সংযোগ করে নরপশুরা। এসব ঘটনায় এখানকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মনে এখনো সেই ভয় কাজ করে। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।
বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা সংবলিত মিছিল সহকারে কৃষক, শ্রমিক এমনকি সরকারী পেশাজীবিরাও অফিস আদালতে অনুপস্থিত থেকে প্রতিরোধ সমাবেশে অংশ গ্রহন করেন। ওই সমাবেশে রাজনগরে স্বাধীন বাংলার পতাকা আনুষ্টানিক ভাবে উত্তোলন করা হয়। পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধের শেষ সময়ে অপারেশন শুরু করে উদনা চা বাগানে। তখন মুক্তিযোদ্ধারা শমসেরনগর অবস্থান গ্রহন করেন। সেখান থেকে ৪ ডিসেম্বর ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল মৌলভীবাজার হয়ে রাজনগর পৌঁছে। তারা উদনা চা বাগান আক্রমনের চুড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহন করেন। ৫ ডিসেম্বর হিম শীতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রবেশ করেন উদনা চা বাগানে। ত্বড়িত আক্রমন করেন পাকসেনাদের উপর। টানা দুদিন যুদ্ধের পর ৬ ডিসেম্বর ভোর হবার সাথে সাথে পাকসেনারা পালাতে শুরু করে। এতে বহু পাকসেনা মারা যায়। ৬ ডিসেম্বর রাজনগর শত্রু মুক্ত হয়। শ্বাসরুদ্ধকর বিভীষিকা থেকে রাজনগরের মানুষ মুক্ত বাতাসের ছোঁয়া পায়। গ্রামছাড়া মানুষ আবার আসতে শুরু করে গ্রামে। হানাদার বাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর মুক্তিসেনারা হানাদার ক্যাম্পের যাবতীয় অস্ত্র ও গোলা-বারুদ উদ্ধার করেন। অস্ত্র ও গোলা-বারুদের পরিমান ছিল অসংখ্য। মুন্সীবাজার ও উদনা চাবাগান থেকে মোট ৫ ট্রাক অস্ত্র ও গোলা-বারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়।

প্রতি বছরের মতো এই বছরেও আজ ‘রাজনগর মুক্ত দিবস’ পালন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজলো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সন্তান কমান্ডের সহযোগিতায় এই দিবস পালন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পতাকা উত্তোলন, পুষ্পস্তবক অর্পণ, র‌্যালী ও আলোচনা সভা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুর রহমান, রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. আছকির খান, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার কুতুবউদ্দিন সহ সরকারী/বেসরকারী কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানরা ।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: