সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে বালির ডাম্পিং গ্রাস করে নিয়েছে বৃক্ষ বাঁশঝাড় সিড়িঘাটসহ পাকা রাস্তা

আল-হেলাল সুনামগঞ্জ:: একটি বালির স্টেক গ্রাস করে নিয়েছে ৪টি প্রাচীণ বৃক্ষ, বাঁশঝাড়,চলাচলের সিড়িঘাট ও রাস্তার কিছু অংশ। ঘটনাটি ঘটেছে ২৮ নভেম্বর বুধবার বিকেল ৫টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামে। ঐদিন বোমা মেশিন দ্বারা ডাম্পিং করা বালির স্তুপ (স্টেক) হঠাৎ করে ধ্বসে পড়ে নদীর তলদেশে পতিত হয়। সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে থাকা ও মইনপুর টু ইব্রাহিমপুর গ্রামমুখী পাকা রাস্তার উত্তর পার্শ্বে থাকা ৪টি প্রাচীণ বৃক্ষ,বাঁশঝাড়,চলাচলের সিড়িঘাট ও রাস্তার কিছু অংশ। এর ফলে ঘটনাস্থলে সৃষ্টি হয় বিরাট গর্তের। যা ক্রমান্বয়ে ধ্বসে পড়ে রাস্তা ছাড়াও বসতবাড়ির দিকে ধাবিত হতে পারে।

নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ডাম্পিং করার কারণে বুধবার বিকাল ৫টায় বালুর স্তুপ ও নদীর তীর ধসে পড়ার ঘটনার সংবাদ জানামাত্র তাৎক্ষনিকভাবে এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবক্কর সিদ্দিক ভূইয়া,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসমিন নাহার রুমা ,সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ফাতিমা, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল্লাহসহ ভূমি ও তহসিল অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। রাত ৮টা পর্যন্ত পরিদর্শণ শেষে ইব্রাহীমপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গ্রামবাসীর সাথে সভা করেন তাঁরা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন,‘বালুর স্তুপে নদীর তীর ধসে যাওয়া এলাকা আমরা পরিদর্শন করেছি। শত শত গ্রামবাসীকে ডেকে নিয়ে মসজিদের পাশে সভা করেছি। বালুর একটি স্তুপ গ্রামের মানুষের জিম্মায় রেখে এসেছি। দুর্ঘটনা এড়াতে পাকা রাস্তায় বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যারা নদীর তীরে বালু-পাথর ডাম্পিং করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। গ্রামবাসীকেও বলে এসেছি, নদীর তীরে বালু-পাথর ডাম্পিং করলে তাঁরাও যেন প্রতিবাদ করেন এবং আমাদেরকে জানান।’

ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদের মুতওয়াল্লী আকিকুর রহমান,ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ,মাওলানা দেলোয়ার হোসেন,মোঃ কবির আহমদ,মোঃ আফতাব মিয়া,বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোস্তাক আহমদ রুমেল, শাহ আলম,ফেরদৌস মিয়া,আব্দুল বারী, হান্নান মিয়াসহ স্থানীয় লোকজন বলেন,বোমা (ড্রেজার) মেশিন দিয়ে বালি ডাম্পিং করার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যদি মজুর দিয়ে ডাম্পিং করা হতো তাহলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতনা। তারা বালির ডাম্পিং এর মালিক ও নদীর পাড় ভাড়া দাতাসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান। তারা বলেন,বর্তমানে রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বের বালির (স্টেক) ডাম্পিংটি বুধবার রাতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিগং জব্দ করেছেন।

জেলা পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক জসিম উদ্দিন দিলীপ বলেন,একটি বা দুদিন নয় পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় লোকজন এমন অপরিকল্পিত ও অবৈধ ডাম্পিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এতে কর্ণপাত যেমন করছেন না তেমনি প্রশাসনও অনেকটা নির্বিকার। যদিও প্রশাসনিক তরফে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করার মত মামুলি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় মাঝে মধ্যে, কিন্তু এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে ব্যবসায়ীরা খুবই স্বাভাবিক বলে গ্রহণ করে ফেলেছেন। অর্থাৎ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ও জরিমানা করার মধ্য দিয়ে বালু পাথর ব্যবসায় যেসব অবৈধ কর্মকান্ড চলমান রয়েছে সেগুলোকে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা সবকিছু ম্যানেজ করে ব্যবসা করে চলে যাবেন, নদী তীর ধসে পড়লে তাদের কী? কিন্তু নদী তীরে যারা বসবাস করেন তাদের জন্য এই বিপর্যয় কতটা ক্ষতির কারণ হচ্ছে সেটি ভেবে দেখছেন না কেউ। তিনি গত মাসে তহশিলদার ও সার্ভেয়ার কর্তৃক পূর্ব সদরগড় ও ইব্রাহিমপুর গ্রামে ১৩টি অবৈধ বালির ডাম্পিং চিহ্নিত করার পরও নদীর পাড়ের এসব অবৈধ বালু পাথরের ডাম্পিং জব্দ না করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: