সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রকাশ্যে ভোট দেয়া বেআইনি : ইসি

নিউজ ডেস্ক:: নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, প্রকাশ্যে ভোট দেয়া বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অ্যালাউ না করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমার ভোট আমি প্রকাশ্যে দিয়েছি অসুবিধা কী?-একথা অনেকেই বলতে পারেন। যেহেতু আইনে এটা পারমিট করে না। আপনারাও অ্যালিউ করবেন না।’

শনিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণে একথা বলেন মো. রফিকুল ইসলাম।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা কাউকে ব্যালট পেপার দিয়ে দিলেন, উনি গোপন কক্ষে না গিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দিলেন। আমার ভোট আমি প্রকাশ্যে দিয়েছি অসুবিধা কি?-একথা অনেকেই বলতে পারেন। যেহেতু আইনে এটা পারমিট (অনুমতি দেয় না) করে না। আপনারাও অ্যালাও করবেন না। আপনাদের প্রশিক্ষণার্থীকেও (প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার) বলবেন- “ডোন্ট অ্যালাউ ইট।” কারণ এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেআইনি এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন পত্রিকা-টেলিভিশনে আমরা দেখতে পাই, একজন ভোটার এসে বলছে-আমার ভোটটা দেয়া হয়ে গেছে। যদি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ঠিকমতো তার কাজটা করেন, তাহলে একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার কথা নয়।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইনে যেহেতু ভোট দেয়া হয়ে গেল, তারপরও ভোট দেয়ার কিন্তু বিধান আছে। যদি আপনি শ্যাটিশফায়েড হন। সে কিন্তু সত্যিকার অর্থে ভোটার, তার ভোটটা অন্য কেউ দিয়ে গেছে। জাস্ট অ্যালাউ হিম উইদাউট অ্যানি কোয়েশ্চন। আপনারা যদি আইনটাকে ফলো করেন, তাহলে আর নির্বাচনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না।’

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন মানেই কিন্তু একদিন। শিডিউলে ৪৬-৪৫ দিন বা যতদিনই থাকুক না কেন নির্বাচন মানে একদিন- মানে নির্বাচনের দিন। নির্বাচনের দিন সবকিছু যদি আইনানুগ না হয়, তাহলে আমরা সবাই প্রশ্নবিদ্ধ হব।’

একজনের ভোট যাতে আরেকজন না দিতে পারে সেজন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘সব পত্রিকা খুললেই একটাই কথা- সবার ভিতরেই শঙ্কা ভোট দিতে পারবেন কিনা। ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কিনা।’ এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ব্যালটটাকে ঠিকমতো সংরক্ষণ করেন, কেন্দ্রটাকে ঠিকমতো তৈরি করেন, আপনার দায়িত্ব এবং আপনি যাদের ট্রেইনিং দেবেন তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্বপালন করেন, তাহলে আর এ আশঙ্কা থাকবে না। কারণ আপনার কাছে ছবিসহ ভোটার তালিকা আছে। ঠিকমতো যদি আইডেন্টিফিকেশন হয়, যদি আপনারা কাউকে জোড় করে বের করে না দিয়ে এজেন্টদের ঠিকমতো রাখেন, তাহলে কোনোক্রমেই একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবে না।’

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে পারবে কি না, কেন্দ্রে গেলে তো ভোট দেব- এ রকম প্রশ্নও আসছে। এটা আপনাদের বিষয়। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছে। দরকার হলে আমরা আরও ব্যবস্থা নেব, যাতে করে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারেন। তারপরও যদি কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হয়, তাহলে আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি-আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’

নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবাইকে চিন্তামুক্ত থাকার আহ্বান জানান নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করবেন না। একেবারে চৌকিদার থেকে সেনাবাহিনীর কেউ বাদ থাকবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সবাইযুক্ত থাকবেন। জীবন, মালামাল নিয়ে আপনাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আপনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখবেন। আপনার অনুমতি ছাড়া তারা যেন কোথাও যেতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।’

‘নির্বাচনের মালামাল গ্রহণের সময় সবকিছু আপনারা বুঝে নিবেন। এটা কিন্তু আইনে বলা নেই। তারপরও মালামাল, ব্যালট সবকিছু দেখে গ্রহণ করবেন। এমনও তো হতে পারে সেখানে ব্যালটের পরিবর্তে সাদা কাগজ চলে আসল। সেজন্য সবকিছু আপনারা বুঝে নিবেন’-যোগ করেন নির্বাচন কমিশনার।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: