সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আপনার কি ভয় করে না আপা, এতো শক্তি কোথায় পান?

শেখের বেটি শেখ হাসিনার সাথে দেখা হবে, সামনা সামনি কথা হবে এ খবর যখন পেলাম নাওয়া খাওয়া সব ভুলে অসুস্থ শরীর নিয়ে সিলেট থেকে ঢাকা চলে আসলাম। ঢাকা শহরটা আমার সবসময় অপরিকল্পিত লাগে। এখানে সেখানে বিল্ডিং, অযথা গাড়ির হর্ন হুটহাট বেজে উঠে। বিরক্তিকর নগরীতে যেসব এলাকা দূর থেকে কল্পনায় ভালো লাগতো সেগুলো হলো বঙ্গভবন, সংসদভবন, গণভবন। গণভবন গণ মানুষের ভবন হলেও সেখানে প্রধানমন্ত্রী বাস করেন। আমার মতো সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সাথে গিয়ে গণভবনে দেখা করবে এটি একটি বিশাল ব্যাপার ছিলো। গতরাতে ভালো ঘুম হয়নি। সকাল সকাল উঠেই গণভবনের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। আমার ছোটভাই রাহিম গণভবনের গেট অব্দি আমাকে এগিয়ে দিয়ে আসলো। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর উদ্যোগে আলোচনা অনুষ্ঠান “লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা”ঃ সারা বাংলা থেকে ১৫০ জন তরুণ নেতা এ আলোচনায় চান্স পাচ্ছে, আমিও তাদের অন্যতম।

লাইনের পর লাইন ডিঙিয়ে বেলা বারটায় গণভবনে পা রাখলাম। এসএসএফের সদস্যরা মোট চারবার চারধাপে চেক করলো। বাবা একটা সবুজ শার্ট কিনে দিয়েছিলেন। এসএসএফের ঘষাঘষিতে আমার ইস্ত্রি করা শার্ট আর ক্ষেতমার্কা লাল টাইটা এলোমেলো হয়ে গেলো। যাই হোক বাইরে যশোরের মনিরামপুরের কোন এক এমপি নমিনেশন পায়নি বলে তার নেতাকর্মীরা জয় বাংলা শ্লোগানে কাঁপিয়ে ফেলছে। শ্লোগানগুলো কবিতার মতো শোনাচ্ছিলো। কবিতার তালে তালে আমি আর থিয়েটার মুরারীচাঁদের ইয়াকূব গনভবনের প্রধান রাস্তা ধরে হাঁটছি। একটা প্যান্ডেলের মতো জায়গায় এসে থামলাম। শীতকালে ওয়াজ মাহফিলের সময় কিংবা বৌভাতের সময় এরকম প্যান্ডেল বানানো হয়। কই এসে পড়লামরে বাবা! আসলে এটা বানানো হয়েছে আমাদের দুপুরের খাবারের জন্য। ১৫০জনকে সামান্য শুকনো বিরিয়ানি খাওয়াবে তার জন্য এতো বড় প্যান্ডেল! নাহ, আসলেই বিশাল ব্যাপার।

আগে থেকেই বলে দেয়া আছে নো ক্যামেরা। যা ছবি তোলার সব কর্তৃপক্ষই তুলবে। তবে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পেরেছে অনেকেই। তাই সিকিউরিটির লোক একটু আড়াল হলে টুপ টাপ ছবি তুলে ফেলছে সবাই। চৌপাঠ নাট্যাঞ্চল, বগুড়ার নাট্যকর্মী এঞ্জেল, সে ভুলে গণভবনের জায়গায় বঙ্গভবনের সামনে চলে যায়। তো বেচারীর জন্য আমার টেনশন হচ্ছিলো। আশার কথা হলো অবশেষে সে ঢুকতে পেরেছে এবং পুরনো বন্ধুকে পেয়ে জড়িয়ে ধরেছে। খাবার শেষে আমরা ঢুকলাম গণভবনের ব্যানকুয়েট হলে। উপরে বিশাল বিশাল ঝাড়বাতি, সেখানেই লেটস টক অনুষ্ঠানের সেট সাজানো হয়েছে। দুপুরের খাবারের পর সবার চোখেই ভাত ঘুম। সঞ্চালক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী। শহিদ বুদ্ধিজীবি ডাঃ আলীম চৌধুরীর মেয়ে নুজহাত আপাকে আগে থেকেই চিনি আমি। স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে উনার একটা আবেগী বক্তব্য আছে ইউটিউবে, সে বক্তব্য শুনলে এখনো চোখ ছলছল করে উঠে। সেটে উপস্থিত ক্লান্ত মুখগুলা দেখে নুজহাত আপা বললেন, “পরীক্ষা শুরুর আগে সবার মধ্যেই একটা টেনশন কাজ করে। কিন্তু প্রশ্নপত্র পেলেই টেনশন ঝটপট দূর হয়ে যায়।” অবশ্য আজকের লেটস টক অনুষ্ঠান একটু উল্টো হবে। আমরা সবাই প্রশ্ন নিয়ে বসে আছি, প্রধানমন্ত্রী এসে সে প্রশ্নের উত্তর দিবেন। আমি শুধু একটু পরপর সদর দরজায় তাকাই। কখন আসবেন শেখ হাসিনা? হুট করে মাইকে ঘোষনা আসলো দশ মিনিটের ভেতর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটে প্রবেশ করবেন, ছবি তুলতে চাইলে মোবাইল বের করতে পারেন, তবে সিট থেকে উঠা যাবে না। তারপর থেকে মোবাইল সুইচড অফ থাকবে। হাস্যকর একটা ঘটনা শুরু হলো। সবাই যার যার মোবাইল বের করে সেটের ছবি তুলতে লাগলো, কেউ কেউ দাঁত কেলিয়ে সেলফি তুলতে থাকে। আমার পাশে বসেছেন গ্রামীনফোনে কাজ করা এক সুন্দরী আপু। আমার নির্লিপ্ততা দেখে তিনি বললেন, “আপনি চাইলে আপনার একটা ছবি আমি তুলে দিতে পারি।” পরক্ষণেই এসএসএফের সতর্কতা শুরু হয়ে গেলো। হল রুমটাকে আরো আলোকিত করে ভোরের নরম আলোর মতো প্রশান্তির হাসি হেসে আসলেন শেখ হাসিনা। তার কাঁচা পাকা চুলের সাথে মেচিং করেই যেন শাড়িটার রঙ। ঝলমল করে উঠলো পুরো সেট।

খালামনিকে সেটে বসিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি সবার পেছনে গিয়ে বসলেন। শেখ হাসিনা চোখ উঠিয়ে কেমন যেন আহলাদি হয়ে উঠলেন। নুজহাত আপা যখন জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছেন? এতো মায়া নিয়ে তিনি উত্তরটা দিলেন, “আর কেমন থাকি বলো, বৃদ্ধ বয়সে আমার উপর এতো অত্যাচার।” আমার আটপৌরে অভিমানী মায়ের মুখটা ভেসে উঠলো। বাংলার সব মায়েরা এভাবেই কথা বলে। তারপর সামনে বসা দেড়শ তরুণের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, “তোমরা আমার নাতি নাতনীর মতো। তোমরা হইলা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।” ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ করতালি দিয়ে বর্তমান বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা জানালো।

কেমন ছিলেন কিশোরী শেখ হাসিনা? এ প্রশ্নে খুকিদের মতোই খিল খিল করে হেসে উঠলেন হাসিনা। ছোট বেলায় তিনি নাকি জাল দিয়ে মাছ ধরতেন, খালে ঝাঁপ দিয়ে গোসল করতেন। কি থ্রিলিং শৈশব! বাবা জেলে থাকতেন তাই দাদা দাদী খুব আদর করতেন খুকিটাকে। তারপর ৫৪ সালে তারা টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকা চলে আসেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা সভা থাকলে তিনি স্কুল পালাতেন। গাধা পিটিয়ে মানুষ বানানো কড়া হেড স্যার তাকে খুব আদর করতেন। একবার ক্লাস সেভেনে ঢাকার বটতলায় কোন একটি প্রোগ্রামে যেতে হবে। তো শেখ হাসিনা ও তার বন্ধুরা মিলে স্কুল পালানোর পরিকল্পনা করলেন। একজনকে ঠিক করলেন হেডস্যারের পাশের রুমে রাখা ঘন্টাটা চুরি করতে। যেইনা ঘন্টায় টিং টিং আওয়াজ হলো ছুটির আগেই হাসিনাসহ স্কুলের সবাই দৌঁড়ে পালালো।

তারপর আসলো তরুণ বেলা। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম তাঁর, সুতরাং ঘর থেকেই রাজনীতি শিখে শিখে বড় হচ্ছিলেন। পাকিস্তানিরা বাংলার উপর উর্দু চাপিয়ে দিয়েছিলো। একসময় নাকি আরবী হরফে বাংলা, পরে রোমান হরফে বাংলা লেখার প্রেশার দেয়া হচ্ছিলো। বাঙালি ছাত্রসমাজ কখনোই তা মেনে নেয়নি। ৫২র ভাষা আন্দোলনের পর ৭১ এর আগ পর্যন্ত পুরো দেশ সংগ্রাম চেতনায় গরম থাকতো। আজ এই মিটিং তো কাল ঐ মিছিল। শেখ হাসিনা তখন থেকেই ছাত্রলীগ করতেন। সংগঠন যে এদেশে কত জরুরী তা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের বই “সংগঠন ও বাঙালি” এ পড়েছি। শেখ হাসিনাও বললেন, একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে তাতে সফলতা আসে। তিনি তখন ইডেন ইন্টার মিডিয়েট কলেজে পড়তেন। পলাশির মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে রাজনীতি করতেন। একবার গন্ডগোল বেঁধে গেলো। মুড়ির টিনের মতো বাসগুলোতে করে পুলিশ শেখ হাসিনাকে ধাওয়া করলো এবং ধরে ফেললো, “এই মেয়ে সাহস তো কম না? মিছিল মিটিং করো, জেলে ঢুকিয়ে দেবো কিন্তু।” শেখ হাসিনাও কম যান না, “আরে দিননা, জেলের ভয় দেখাবেন না। জেলে গিয়ে আমাদের অভ্যাস আছে।” আসলেই তো, তাঁর বাবার জীবন কেটেছে জেলে জেলে। তাকে তো নতুন করে জেল চেনানোর কিছু নেই।

৬৬ তে ৬ দফা দিলেন শেখ মুজিব। তিনি তখন কলেজ ছাত্রী। এখন ডাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন না হলেও তখন স্কুল কলেজে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন হতো। ছাত্রলীগের নেতারা খুব করে ধরলেন শেখ হাসিনাকে, তিনি যাতে নির্বাচন করেন। বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব খুব কড়া মহিলা। তিনি হাসিনাকে শক্ত করে বললেন, “নির্বাচন থেকে সরে আয়। তোর আব্বা ৬ দফা দিয়েছে। হেরে গেলে মনে করবে মানুষ বোধহয় ৬ দফা চায় না।” এদিকে হাসিনার বান্ধবীরা খুব করে ধরেছে, এ নির্বাচন থেকে সরে আসা যাবে না। আবার শাসক দল শেখ হাসিনাকে সামান্য কলেজের নির্বাচনে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। তারাও মনে করছে শেখ মুজিবরের মেয়ে জিতে যাওয়া মানে ৬ দফার প্রতি মানুষের সমর্থন। একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং কিন্তু মা ফজিলাতুন্নেসা ধমক দিলেন, “চুপ করে বাসায় বসে থাক। পলিটিক্স করার দরকার নেই।” মায়ের মুখের উপর তর্ক করার সাহস হাসিনার নেই। তিনি ঘরেই শুরু করলেন হাঙ্গার স্ট্রাইক। নাস্তা বন্ধ, দুপুরের খাওয়া বন্ধ। দাদা আসলেন ঢাকায়। দাদার কাছে ভেউ ভেউ করে কেঁদে হাসিনা বাইরে যাবার আবদার করলেন। শ্বশুরকে বেশ সম্মান করতেন বেগম মুজিব। শ্বশুরের কথায় তিনি মেয়েকে ছাড়লেন, “কি আর করবি, যা ইলেকশন করে আয়।” এরকম প্রচন্ড প্রেশারের মধ্যে শেখ হাসিনা নির্বাচনে দাঁড়ালেন। উনার প্রতিদ্বন্দী দুই প্রার্থীর মোট ভোটের চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান পাশ করলেন। কলেজের আমগাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতেন, ইলেকশনে পাশ করে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা হাসিনা প্রথমবারের মতো শহিদমিনারে বক্তব্য দিলেন। মন্ত্রমুগ্ধের মতো আবেশী হয়ে আমরা তাঁর বেড়ে উঠার গল্পগুলো শুনছিলাম। একজন প্রশ্ন করে, ৭১ সালে আপনি কোথায় ছিলেন। দুঃখভরা মুখ নিয়ে তিনি বলেন,“আমি তখন প্রেগনেন্ট। আমার পেটে আমার প্রথম সন্তান জয়। আব্বাকে পাকিস্তানে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় আর আমাদের একতলা একটা বাড়িতে বন্দী করে রাখে। আমার ভাই কামাল এক পাকিস্তানিক বোকা বানিয়ে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। তখন আমাদের উপর অত্যাচার আরো বেড়ে যায়। মা ডালে চালে মিশিয়ে খিচুড়ি বানিয়ে রাখতেন। কিন্তু পেট ভরে কোনদিন খেতে পারিনি। যার ক্ষিধা লাগতো শুধু সে অল্প পরিমান খেতে পারতো। জয়ের জন্মের সময় তাকে এক টুকরো নতুন কাপড় দিতে পারিনি। আমার এক বান্ধবীর বাচ্চার কাপড় ধার এনে তাকে পড়িয়ে রাখতাম। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও আমাদের মুক্তি দেয়া হয় ১৭ ডিসেম্বর। আমি আর মা বাসার ভেতর থেকে জয় বাংলা শ্লোগান দিতাম। কি যে কষ্টে দিনগুলো কাটিয়েছি।”

কথা প্রসঙ্গে চলে আসে ১৯৭৫। প্রসঙ্গটা আসতেই চোখ মুখ শক্ত হয়ে যায় তাঁর। বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। তো শেখ হাসিনা তখন ঢাবির ছাত্রী। এদিকে তার বিজ্ঞানী স্বামী স্কলারশিপ নিয়ে তখন জার্মানিতে। জার্মানি থেকে ফোন দিলেন, “হাসু চলে আসো।” বাবা শেখ মুজিবর টেলিফোনের সামনে বসে আছে। বাবার সামনে স্বামীর সাথে তর্কও করতে পারছেন না। বাবা না থাকলে হয়তো কোমড় বেঁধে স্বামীর সাথে ঝগড়া করা যেতো। কোন মতে হু হা করে ফোন রাখলেন তিনি। আদুরে গলায় শেখ মুজিব কণ্যাকে বুঝালেন,“ওয়াজেদ যখন চাইছে, যা জার্মানি থেকে ঘুরে আয়।” শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মতিন চৌধুরীকে গিয়ে ধরলেন,“স্যার ওয়াজেদ তো আপনার ছাত্র। দেখুন না কেমন প্রেশার দিচ্ছে। আপনি একটু বলে দেখুন প্লিজ।” বাবা তার নিজের ক্যাম্পাসে আসবেন তাই মেয়ের থাকার কতো আকুতি। কিন্তু শেখ হাসিনাকে জার্মানি যেতেই হলো। সেন্ডু গেঞ্জি পড়া মুজিবের সাথে শেখ হাসিনার যে ছবিটা আছে, ওটাই বাবার সাথে শেষ ছবি। পিনপতন নিরবতা পুরো হল জুড়ে। প্রায় সবার চোখেই পানি। হাসিনাও চোখ মুচছেন। ট্রাভেলার অব বাংলাদেশ এর মেয়েদের একটা গ্রুপ আছে সেখানকার একজন প্রতিনিধি মাইক হাতে নিলেন। কাঁদো কাঁদো গলায় সে জিজ্ঞেস করলো, “তারপর কি হলো? দেশে আসলেন, দলের হাল ধরলেন কিভাবে? এতো শক্তি কোথায় পেলেন আপা? আপনার কি ভয় লাগে না?

শেখ হাসিনার টলমল চোখ আবার জ্বলজ্বল করে উঠলো। তার পরিবারের নারকীয় হত্যার পর দুই বোনকে আশ্রয় দেন সিলেটের কৃতি সন্তান ও বিখ্যাত রাজনীতিবিদ হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। তারপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগিতায় দিল্লীতে আশ্রয় নেন। পরিবারে আদুরে ও আলসে বড় মেয়ে, যে কখনো ঘরে কাজ করতো না, তাকে তখন সংসারের হাল ধরতে হয়। তখনি প্রথম ঝাড়ু দেয়া শিখলেন তিনি। ১৯৮০ সালে তিনি গেলেন ইংল্যান্ড। বিদেশে ঘুরে ঘুরে নেতা কর্মী যোগাড় করলেন। অগোছালো আওয়ামী লীগকে শক্ত হাতে ধরলেন। ৮১ সালে তিনি বাংলাদেশ ফিরলেন। ফেরার আগেই হুমকি পেলেন, দেশে আসলে গুলি করে মেরে ফেলবো। বিমানবন্দরে আমরা ছুড়ি নিয়ে বসে আছি। এতো শক্তি কোথায় পেলেন হাসিনা? উনার কি ভয় লাগে না?

প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে শেখ হাসিনার প্লেন বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করলো। তিনি খুঁজতে থাকলেন তাঁর আব্বা-আম্মাকে, জামাল কামাল রাসেল কে। নেই, কোথাও কেউ নেই। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মী শেখ হাসিনাকে বৃষ্টিতে ভিজে গ্রহণ করলো। দেশের ভেতর তৎকালীন শাষক গোষ্টির চোখ রাঙানি তো ছিলোই, নিজ দলের ভেতরেও ছিলো গ্রুপিং। কিভাবে পারলেন আপা? আপনার এতো শক্তি কোথা থেকে আসলো? তিনি বলেন, “আমার তো হারানোর কিছু নাই। তবে মরার আগে আমি মরতে চাইনা। আমি কখনো নিজেকে নেতা ভাবতাম না। এখনো আমি নিজেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ভাবি।” বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় নানা অত্যাচারের কথা শুনালেন তিনি। একবার বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন অসুস্থ। সাবিনা আবার হাসিনার ভাই শেখ কামাল ও ভাতৃবধূ রোজী কামালের বান্ধবী। তো সাবিনাকে দেখতে তিনি চুপিচুপি হাসপাতালে চলে যান। সেখানে সাংবাদিকদের পেয়ে তিনি তার মনের কথাগুলো বলে ফেললেন। তারপর কেয়াটেকার গভমেন্টের সময়েও তাকে বেশ ভোগান্তিতে ফেলা হয়।

একজন প্রশ্ন করে আপনি প্রধানমন্ত্রী না হলে কি হতেন? তিনি এবার হেসে দিলেন, “অঙ্কে অতো ভালো ছিলাম না। খুব ইচ্ছা ছিলো ডাক্তার হবো। পরে ভাবলাম আবার শিক্ষক হবো। প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার। সারাদিন বাচ্চাদের নিয়ে পড়ে থাকতাম” আরেকজন প্রশ্ন করে, আপনি কি অবসর পান? অবসরে কি করেন? হাসিনা বলেন, “আমার কোন অবসর নাই। বিশ্রাম বলতে রাতে আমি পাঁচ ঘন্টা ঘুমাই।” নির্বাচনী সময় চলে। তিনি গত দুই দিনে কত কত মানুষের সাথে কথা বললেন সে হিসাবটা দিলেন। আমি তাজ্জব বনে যাই। দুইদিনে তিনি ৪৫০ জন মানুষের সাথে কথা বলেছেন। কাউকে নির্বাচনে কিভাবে জিততে হবে সে বুদ্ধি দিলেন। নমিনেশন পায়নি অনেকে তাই কাউকে দিলেন স্বান্তনা। আবার আজ চলে আসলেন আমাদের কাছে। বসে বসে আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। এই না হলে তিনি সফল রাষ্ট্রপ্রধান? তিনি যোগ করলেন, ”একটা মূহুর্তও আমি নষ্ট করতে চাই না। গতবার জেলে বসে বসে নির্বাচনী মেনুফ্যাস্টো তৈরি করেছি।” উপস্থাপিকা জিজ্ঞেস করলেন, এতো শক্তি কোথায় পেলেন? তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ে উত্তর দেন, “সততা আমার শক্তি। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমার শক্তি।” বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটির বেলাল প্রশ্ন করলো, আপনি ফিট থাকেন কিভাবে? একসারসাইজ করেন নাকি কোন ডায়েট প্ল্যান আছে? প্রাইমমিনিস্টারসহ আমরা সবাই হেসে উঠি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ একবার বলেছিলেন তিনি নাকি বন্দি জীবন যাপন করেন। আজ শেখ হাসিনাও বললেন, চাইলেই গণভবনের বাইরে তিনি হাঁটতে যেতে পারেন না। ভোরে পত্রিকা পড়ার আগে ছাদে একটু হাঁটাহাটি করেন মাত্র। একসারসাইজ বলতে যা বুঝায় তা তিনি করেন না, তবে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। কোন ডায়েট চার্টও তাঁর নেই। তিনি পরিমিত আহারের পক্ষে। ফিট থাকতে হলে সুস্থ ও স্বচ্ছ চিন্তাশক্তির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন শেখ হাসিনা। “আমি ভালো থাকবো- এই ইচ্ছা শক্তিটাই ভালো থাকার জন্য যথেষ্ট।” বেনী দুলিয়ে তরুণীরা যেভাবে হাসে তেমন ভাবে হেসে উঠে ৭২ বছরের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ফিট থাকার রহস্য বললেন।

বয়সের প্রসঙ্গ আসতেই এক তরুণী প্রশ্ন করেন, নানী দাদী হিসেবে আপনি কেমন? নাতি নাতনিদের সাথে সময় কেমন কাটে? শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ৫ ছেলে মেয়ে। এর মধ্যে রেহানার ছেলে ববিকে তিনি প্রচন্ড আদর করেন বলে কনফেজ করেন। সুযোগ পেলেই তিনি রান্না করেন। ববির ছোট সন্তান তার দাদী শেখ হাসিনার হাতের রান্না খেতে খুব ভালোবাসে। তারপর নাতি নাতনিদের সাথে লুডু ও ক্যারাম খেলার প্রসঙ্গ আসলো। খেলায় কিভাবে চিটিং হয়, সেটা বলে তিনি একগাল হাসলেন। বৃদ্ধ বয়সে নাতি নাতনিদের সাথে কাটানো সময় নাকি সবচেয়ে সেরা সময়।

এবার শেখ হাসিনা আমাদের দিকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে তোমরা কি করতে? এক তরুণী বললো, সে সবাইকে ধরে ধরে সাইকোলজিক্যাল থেরাপি দিতো। তার ধারনা বাংলাদেশের মানুষের কখন কি বলা উচিত, কখন কি করা উচিত তারা সেটা ধরতে পারেনা। শেখ হাসিনা এবার অই তরুণীর দিকে তাকিয়ে বলেন, “যুবসমাজ এতো ডিপ্রেশনে ভুগে কেন? নিজেকে তোমরা কখনো ছোট মনে করবে না।” ১৯৯১ সালের প্রসঙ্গ তিনি টেনে আনেন। আওয়ামী লীগের কতিপয় সিনিয়র নেতারা নাকি একবার হাসিনাকে ডেকে বলেন, তিনি কাজের বুয়াদের মতো দেশী তাঁতের শাড়ি পড়েন তাই ভোট কম আসে। শেখ হাসিনা এ কথার প্রচন্ড প্রতিবাদ করেছিলেন। আজকের লেটস টক অনুষ্ঠানেও তিনি অফ হোয়াট রঙের দেশী শাড়ি পরে এসেছেন। কোনরকম বিদেশী শিফন শাড়ি কিংবা কড়া মেকাপ ছাড়া একজন ভদ্রমহিলা কত সুন্দরী হতে পারেন তার উদাহরণ শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে বলেন, “বাইরের ব্র্যান্ডের কাপড় চোপড় পরে জৌলুস দেখানো অতো পছন্দ করিনা। এগুলো অসুস্থ প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশকেই আমি ব্র্যান্ড বানাবো।” এ কথার পর প্রায় এক মিনিট ধরে হাততালি চলে। আত্মবিশ্বাসের কত শক্তি, হাততালি থামতেই চায়না।

চৌপাঠের এঞ্জেল বলে, “জাপানের মেয়েরা প্রাইমারি স্কুল থেকে কারাতে শিখছে। বাংলাদেশেও চালু করা হোক।” শেখ হাসিনা বলেন, “তা না হয় করবো। তবে বাংলাদেশে যারা নারী অধিকার নারী অধিকার বলছেন তাদেরকে নিজের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। কেউ আঘাত করলে পাল্টা আঘাত করবেন।” সাফে মেয়ে ফুটবল দলের সাফল্যের প্রশংসা করেন হাসিনা। হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রসিকতা করে বলেন, “ছেলে ফুটবলারদের বলেছি, মেয়েরা তো গোল্ড নিয়ে আসলো তোমরা পারো না কেন বাবারা।” এ কথা শোনার পর হাসির রোল পড়ে যায়।

চাকুরীর বয়সসীমা বাড়ানো এবং কৌটা নিয়ে প্রশ্ন আসাতে তিনি একটু পাশ কাটানোর চেষ্টা করলেন। তবে ছোট করে বলে দিলেন, “আগে সেশনজট ছিলো, এখন তো ২৩ বছরে ছাত্ররা গ্র্যাজুয়েট হয়ে যাচ্ছে। যারা চেষ্টা করছে তারা চাকুরীও পেয়ে যাচ্ছে। যারা ৩৫ বছরে চাকুরীর চিন্তা করছো তারা ২৩ বছরের জুনিয়রের সাথে কিভাবে কমফোর্টলি চাকরী করবা একটু ভেবে দেইখ্যো।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ”জঙ্গিবাদ দূর করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। এরপর দূর্নীতির বিরুদ্ধে স্টেপ নিবো।” লেটস টকের শেষের দিকে তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে বলেন, “পরশ্রীকাতর হইও না। তার এটা আছে, আমার কেন এটা নেই এরকম হতাশায় ভুগবে না। এখন থেকেই একটা লক্ষ্য ঠিক করো এবং কাজ করে যাও। তোমাদের কাছে আমি বাংলাদেশকে রেখে যাচ্ছি।”

দু একবার হাত উঠানোর পরও আমি প্রশ্ন করার সুযোগ পাইনি। এরপর আমি পুরো অনুষ্ঠানে শুধু তাঁর দিকে তাকিয়েছিলাম আর তাঁর কথাগুলো গিলছিলাম। তাই অনুষ্ঠানটা কেন শেষ হয়ে যাচ্ছে মানতে পারলাম না। আয়োজকরা আমাদের ডাকলেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবি তোলার জন্য। আমি একেবারে শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসে ছবি তোলার সুযোগ পাই। একটি ছেলে ধাক্কা দিয়ে আমাকে পেছনে ফেলে দেয়। অতো বড় মানুষের মঞ্চ তাই ছেলেটি আমাকে কেন ধাক্কা দিলো সেটা পর্যন্ত বলার ইচ্ছে হয়নি। আমি মঞ্চ থেকে নেমে যাচ্ছিলাম। এক এসএসএফ সদস্য আমাকে একটা সাড়ির সামনে বসিয়ে দেয়, “আরে আপনি কই যান। এখানে বসেন, এবার হাসেন।” আমার ছবির দরকার নেই। যে মানুষটিকে আমি প্রচন্ড পছন্দ করি তাকে একনজর দেখতে পেরেছি এই যথেষ্ট।

গণভবনের সবুজ মাঠে লাল গালিচা পেতে আমাদের জন্য ব্যুফেট নাশতার আয়োজন করা হয়। আমার বন্ধুদের প্রচন্ড মিস করছিলাম। আমার কাকতাড়ুয়ার সদস্যরা থাকলে সবাই মিলে খুব আনন্দ করা যেতো। খাবার হাতে নিয়ে লাল গালিচা ধরে মন খারাপ করে হাঁটছিলাম। দেখি শেখ রেহানাকে নিয়ে শেখ হাসিনা নিচে নেমে আসলেন। তিনি বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলছিলেন। আমরা খাচ্ছি কি না তদারকি করছিলেন। এবার আমি সাহস করে এগিয়ে যাই। এসএসএফেসর সদস্যরা আমাকে বাঁধা দেয়ার আগেই আমি বলে উঠি, “আপা! আমি সিলেট থেকে এসেছি। শেখ হাসিনা শেখ রেহানা দুজনই আমার দিকে ঘুরে তাকালেন।
-সিলেট থেকে! কি করো তুমি?
-আমি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করি, পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিসট্যান্ট ডায়রেক্টর। ওখানকারই প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলাম।
-বাহ্ দারুণ তো। কিছু বলবা?
আমার মাথায় কিছু আসছে না। অনেকগুলো প্রশ্ন রেডি করেছিলাম, সব ভুলে গেছি। তবে একটা জিনিস মনে হচ্ছে আমি থামলেই তিনি চলে যাবেন। আমি কাকতাড়ুয়ার কথা বললাম।
-আপা আমাদের একটা সংগঠন আছে। নাম কাকতাড়ুয়া।
-কি করো তোমরা?
-খুবই ছোট সংগঠন আপা। ফিল্ম ফটোগ্রাফি করি।
-সংগঠন করা তো ভালো। আরো ভালো কিছু করো।
এবার আমার সংগঠনের সহ অর্থ সম্পাদক আলামীনের কথাটা মাথায় আসলো।
-আপা সিলেটে ভার্সিটির ছেলে মেয়েরা পার্ট টাইম চাকুরী করতে পারে না। কোন স্কোপ নাই সেখানে। সব চাকুরী ঢাকায়।
-আরে কি বলো? সিলেটে তো পাউন্ড উড়ে। তোমরা সবাই মিলে একটা স্টেপ ন্ওা, নিজেরাই চাকুরীর বাজার তৈরি করো। সরকার থেকে হেল্প লাগলে আমরা করবো। আইডিয়া নিয়ে আসো।
-আসলে আপা বলতে চাচ্ছিলাম, ডিসেন্ট্রালাইজেশন জরুরী।
-তা তো বুঝলাম। তুমি কৃষিবিদ না? তোমরা ফুড প্রসেসিং ও মার্কেটিং এর উপর কাজ করছো না কেন? আমাদের তো প্রচুর খাদ্য উৎপাদন হয়। সেগুলো বাইরে পাঠালে কত টাকা ইনকাম হবে একবার ভাবো।
আমি আবারো মুগ্ধ হয়ে যাই। তিনি কৃষি নিয়েও জ্ঞান রাখেন। অংকে ভীতু বাংলার ছাত্রী যিনি সারা জীবন শুধু পলিটিক্স করে গেছেন, তাও প্রথম জীবনে নিজেকে তিনি অলস মেয়ে বলে দাবী করেন, সেই মানুষটি কৃষি নিয়ে আমাকে চমৎকার সব বুদ্ধি দিচ্ছেন। আরো কয়েক মিনিট আমাদের কথা হলো। এসএসএফের সদস্যরা কটমট করে আমার দিকে তাকাচ্ছিলো, কথা শেষ করতে হবে। সামনে বিশাল লাইন দাঁড়িয়ে গেছে। সবার সাথেই কথা বলতে হবে তাঁর। জীবনের সেরা মুহুর্তগুলোর একটি ছিলো এই কয়েক মিনিট। খুশিতে আমি গণভবনের ব্যুফেট টেবিল থেকে দুটো বড় মিষ্টি এনে মুখে পুরলাম। তারপর একা একাই কোনায় কোনায় গিয়ে মোবাইল দিয়ে ছবি তুললাম। আমাকে পেলো এঞ্জেল আর ইয়াকূব। তিনজন মিলে চিৎকার চেচামেচি করে আবার ছবি তুললাম। ১৫০ জন যারা দেখা করতে এসেছিলো তারা সবাই চলে গেছে। শুধু আমরা তিনজন সবার শেষে আনন্দ করতে করতে গণভবন থেকে বের হলাম।

শেখ হাসিনার কথা খুব মনে থাকবে। শি ইজ এন এমাজিং লেডি। আজ ঘুরে ফিরে এই লাইনদুটো বার বার এসেছে- কিভাবে পারলেন আপা? আপনার এতো শক্তি কোথা থেকে আসলো? শেখ হাসিনা থেকে রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতা শিখেছি-

জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে।
মঙ্গল করো, নিরলস নিঃসংশয় করো হে।
যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ।
সঞ্চার করো সকল কর্মে শান্ত তোমার ছন্দ।
চরণপদ্মে মম চিত নিষ্পন্দিত করো হে।
নন্দিত করো, নন্দিত করো, নন্দিত করো হে।

লেখকঃ খলিলুর রহমান ফয়সাল,সহকারী পরিচালক, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সভাপতি, কাকতাড়ুয়া, সিলেট




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: