সর্বশেষ আপডেট : ২৩ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় ভুতুড়ে বিলের শিকার ২৫০ বিদ্যুৎ গ্রাহক

আব্দুর রব, বড়লেখা থেকে ::
বড়লেখায় পল্লীবিদ্যুতের নতুন সংযোগের প্রথম বিল হাতে পেয়ে হতবাক প্রায় আড়াইশ’ বিদ্যুৎ গ্রাহক। অস্বাভাবিক পরিমান ভুতুড়ে বিলের শিকার এসব গ্রাহকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। বিল সংশোধন করতে গত এক সপ্তাহ ধরে ভুক্তভোগী দরিদ্র গ্রাহকরা কাজকর্ম ফেলে বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ভুতুড়ে বিলের প্রতিকার চাইতে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে কোন কোন কর্মকর্তা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের বড়থল নয়াগ্রাম ও আদর্শ গ্রামে গত জুন ও জুলাই মাসে দুই দফায় প্রায় ২৫০ পরিবারকে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। গ্রাহকদের বেশির ভাগই নিম্ন মধ্যবিত্ত। কোন অবস্থায় মাসিক বিদ্যুৎ বিল ১০০ থেকে ৩০০ টাকার উপরে হওয়ার কথা নয়। এ গ্রাহকদের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রথম বিল প্রদান করে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। বিলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাস অক্টোবর উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবহারের ইউনিট ও টাকার পরিমান দেখে গ্রাহকদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। বিদ্যুৎ গ্রাহক আপ্তাব আলীকে অক্টোবর মাসে ৭৩০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখ করে ৬০৫৭ টাকার বিল দেয়া হয়। মজার ব্যাপার এক মাস আগের মিটার রিডিং ৭৩০ ইউনিট দেখানো হলেও এ গ্রাহকের বর্তমান (২২ নভেম্বরের) মিটার রিডিং ৪৪৫ ইউনিট ! বিদ্যুৎ গ্রাহক সেলিম উদ্দিনের মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৬৬ ইউনিট হলেও এক মাস আগে তাকে ৯৭৫ ইউনিট ধরে প্রায় ৯ হাজার টাকার বিল দেয়া হয়েছে। এভাবে প্রতিটি মিটারের রিডিংয়ের সাথে বিল কপির রিডিংয়ের আকাশ পাতাল পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। ১৯ নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সর্বশেষ ডেট উল্লেখ করা হলেও ভুতুড়ে বিলের কারণে কোন গ্রাহক এখনও বিল পরিশোধ করেননি।
সরেজমিনে গেলে বিদ্যুৎ গ্রাহক গফুর আলী, আব্দুল আজিম, ছইয়ব আলী, আছকর আলী, আব্দুস সহিদ, হোসেন আহমদ, আব্দুল খালিক প্রমূখ জানান, এ গ্রামের লোকজন খুবই দরিদ্র। ১০০ থেকে ৩০০ টাকার উপরে কারো বিদ্যূৎ ব্যবহারের কথা নয়। কিন্তু পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি প্রথম মাসেই মিটার না দেখে হাজার হাজার টাকার আজগুবি বিল দিয়ে আমাদেরকে হয়রানী করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা কাজকর্ম ফেলে বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিচ্ছি, কিন্তু তারা সুরাহা করছে না। গ্রাহকরা মিটার দেখিয়ে বলেন, এক মাস আগে বিলে যে ইউনিট দেখিয়ে বিল করেছে এর ৩ ভাগের ১ ভাগ এখনও মিটারে উঠেনি। ভুতড়ে বিলের ব্যাপারে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে আমরা ব্যবহার করেছি বলেই বিল এসেছে বলে নানা যুক্তি তুলে ধরে। আমাদের সাথে অনেকে দুর্ব্যবহারও করেছে।
এব্যাপারে বড়লেখা পল্লীবিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, লোকবল কম থাকায় বিষয়টি তদন্ত করতে বিলম্বিত হচ্ছে। কি কারণে ঘটনাটি ঘটলো তা খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: