সর্বশেষ আপডেট : ২৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘স্রষ্টা, বিজ্ঞান ও ধর্ম’ গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত

মানবজাতির কল্যাণের স্বার্থেই পৃথিবীতে যুগে যুগে সৃষ্টিকর্তা বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠিয়েছেন। প্রতিটি ধর্মগ্রন্থই মানুষকে সত্য, সুন্দর এবং কল্যাণের পথ নির্দেশ করে। কিন্তু যুগের আবর্তনে অনেক ধর্মগ্রন্থে বিকৃত হয়ে সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকে নি। এসব ধর্মগ্রন্থে ¯্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়নি। তেমনি কোরআন মানুষের সার্বজনীন বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করে। বিজ্ঞানের মূল উৎস কোরআন। তাই বিজ্ঞানকে মানুষ যতবেশি উপলব্ধি, অনুধাবন করতে পারবে, ততবেশি সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে মানুষের বিশা¦াস প্রতিষ্টিত হবে।

প্রকাশনা উদযাপন পরিষদ-এর উদ্যোগে সিলেট এম সি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী প্রফেসর মো. আজিজুর রহমান লস্কর-এর ‘স্রষ্টা, বিজ্ঞান ও ধর্ম’গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা কথা বলেন।

দৈনিক সিলেট সংলাপ-এর সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমানের সভাপতিত্বে গত শনিবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলরোডস্থ একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহ. হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি, মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ ফজলুল্লাহ, শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, কবি ও গবেষক মুসা আল হাফিজ। অনুভূতি ব্যক্ত করেন গ্রন্থের লেখক সিলেট এম সি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান, নলেজ হারবার স্কুল এন্ড কলেজ-এর অধ্যক্ষ বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী প্রফেসর মো. আজিজুর রহমান লস্কর।

নলেজ হারবার স্কুল এন্ড কলেজ-এর ভাইস প্রিন্সিপাল কবি নাজমুল আনসারী ও কবি শাহাদাত আলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ফাহিমা জিন্নুরাইন, এমসি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর মাওলানা মাহমুদুল হাসান, শাবিপ্রবির সাবেক রেজিস্ট্রার জামিল আহমদ চৌধুরী, সাহিত্য সমালোচক অধ্যাপক কবি বাছিত ইবনে হাবীব, সিলেট লেখিকা সংঘের সাবেক সভাপতি কবি সালমা বখত চৌধুরী। আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পা-ুলিপি প্রকাশনের স্বত্ত্বাধিকারী বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী উসমান গণি। অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকাশনা উদযাপন পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মোস্তাক হোসেইন, অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল খালিক, ওমর শরীফ নোমান, সাহেদ শাহরিয়ার, মোশাররফ হোসেন সুজাত, মাজহারুল ইসলাম জয়নাল প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে পা-ুলিপি প্রকাশনের স্বত্ত্বাধিকারী বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল বলেন, ‘স্রষ্টা, বিজ্ঞান এবং ধর্ম’ গ্রন্থটি লেখকের এক অনবদ্য সৃষ্টি। গ্রন্থটি পাঠে মানুষ আধুনিক বস্তুবাদি বিজ্ঞানের পূর্ণাঙ্গহীনতা সম্পর্কে জানতে পারবে। ‘¯্রষ্টা, বিজ্ঞান এবং ধর্ম’ গ্রন্থটি মানুষের বিশ্বাসের দরজাকে খুলে দেবে।
নির্ধারিত আলোচকের বক্তব্যে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহ. হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি বলেন, অদৃশ্য জগতকে মানুষের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। কোরআন পৃথিবীতে মানুষ এবং জ্বিনের অস্তিত্ত্বকে উপস্থাপন করেছে। ‘¯স্রষ্টা, বিজ্ঞান এবং ধর্ম’ গ্রন্থটি পাঠ করে মানুষ সঠিকভাবে ¯্রষ্টা, বিজ্ঞান এবং ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করবে।
মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ ফজলুল্লাহ বলেন, মুসলমানরা যতবেশি কোরআন নিয়ে গবেষণা করবে, ততবেশি বিজ্ঞানের গূঢ় রহস্য উদঘাটন করতে পারবে। কোরআনের সাথে বিজ্ঞানের কোনো দ্বন্ধ নেই। সঠিকভাবে কোরআন অধ্যয়নের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে সঠিকভাবে জানা সম্ভব। এতে সৃষ্টিকর্তার বিশ্বাস মানবমনে বদ্ধমূল হবে।
শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম বলেন, মানবজীবনের অসংখ্য নৈতিক প্রশ্নের জবাব বিজ্ঞান দিতে পারে না। এজন্য মানুষকে যেতে হবে কোরআন তথা ইসলামের কাছে। মুসলমানরা বিজ্ঞান এবং দর্শন থেকে ছিটকে পড়ার কারণে পৃথিবীর নেতৃত্ব হারিয়েছে। বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমেই আবারো সেই হারানো অতীত ফিরিয়ে আনতে হবে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিজ্ঞানের সাথে কোরআনের কোনো দ্বন্ধ নেই। বিজ্ঞানকে নির্ভূল জ্ঞান মনে করা হলেও নির্ভূল জ্ঞান একমাত্র কোরআন। মহাবিশ্বের সকল নিদর্শনকে বুদ্ধিমানদের জন্য আলোর দিশারী। ‘¯্রষ্টা, বিজ্ঞান এবং ধর্ম’ গ্রন্থটি মানুষের বিশ্বাসকে সঠিক দিকে প্রবাহিত করবে।
কবি ও গবেষক মুসা আল হাফিজ বলেন, বিজ্ঞানের উত্থানে যদিও বা মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা ছিল, কিন্তু মুসলমানরা বিজ্ঞান চর্চা থেকে অনেক দূরে সরে যাওয়ায় অধঃপতন নেমে এসেছিল। বিজ্ঞান চর্চায় কোরআন মুসলমানদেরকে নিরুৎসাহিত করে না, বরং মৌলিব বিশ্বাসকে হৃদয়ে যৌক্তিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। কোরআন এবং বিজ্ঞান শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে মুসলমানরা হারানো গৌরবকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
অনুভূতি ব্যক্তকালে প্রফেসর মো. আজিজুর রহমান লস্কর বলেন, কোরআন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বিজ্ঞানময় গ্রন্থ। দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য, ভাষা, সংস্কৃতি তথা যাবতীয় বিষয়ের মূল উৎস কোরআন। সত্যিকারভাবে কোরআনকে বুঝার মাধ্যমে ¯্রষ্টা এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে অবহিত হওয়া সম্ভব। বিজ্ঞানকে সঠিকভাবে বুঝার মাধ্যমে কোরআন এবং ¯্রষ্টার বিশ্বাসকে মানবমনে প্রতিষ্টিত করবে।
সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক সিলেট সংলাপ-এর সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান বলেন, প্রতিটি ধর্মগ্রন্থটিই মানুষকে সত্য, সুন্দর এবং কল্যাণকর পথের নির্দেশ দেয়। তেমনি ইসলামও মানুষকে শান্তির কথা বলে। ‘স্রষ্টা, বিজ্ঞান এবং ধর্ম’ বইটি পাঠ করলে মানুষের হৃদয়ের দরজা খুলে যাবে আমার বিশ্বাস। – বিজ্ঞপ্তি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: