সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাহিরপুরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে ১২০০বছরের পুরোনো ‘রাজধানী চিহ্ন’

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ১২০০পর মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী হলহলিয়া দূর্গ ও ব্রাহ্মনগাঁওয়ের গৌর গোবিন্দের রাজবাড়িটি। তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ও দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের মধ্যবর্তি স্থান হলহলিয়া গ্রামে। এই দৃশ্য দেখতে জমায়েত হচ্ছে প্রতিনিধি শত শত মানুষ। গত বুধবার(১৪ নভেম্বর)দুপুর থেকে শুরু হওয়া উৎখনন কাজের মধ্য দিয়ে পুরনো রাজবাড়িটি তার অতীত ইতিহাস ঐহিত্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মোহাম্মদ সাদিকের প্রচেষ্টায়। দুই মাসব্যাপি চলবে উৎখননের কাজ প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ডঃ মুহাম্মদ আতাউর রহমান নেতৃত্বে ৯সদস্য বিশিষ্ট টিমে রয়েছেন ঢাকা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মাহবুবুল আলম,কুমিল্লা ময়নামতি যাদুঘরের কাস্টেডিয়ান ডঃ আহমেদ আব্দুল্লাহ,সহকারী কাস্টেডিয়ান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান,কুমিল্লা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের সিনিয়র ড্রাফটম্যান সিরাজুল ইসলাম,জালাল আহমেদ,আলোকচিত্রকর নুরুজ্জামান মিয়া,রেকর্ডার ওমর ফারুক পাঠোয়ারী,অফিস সহায়ক লক্ষন দাস আগামী দুই মাস প্রতœতত্ত্ব বিভাগের ৯সদস্যের টিম দলবদ্ধভাবে এ খনন কাজ করছেন।

জানাযায়,সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল(উওর)ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামটি সুপ্রাচীনকালে লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল। লাউড় রাজ্যের চতুসীমা ছিল পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদ,পূর্বে জৈন্তিয়া,উত্তরে কামরুপ সীমান্ত ও দক্ষিণে বর্তমানে ব্রাম্মণবাড়িয়া পর্যন্ত। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই লাউড় রাজ্যের প্রাচীন নিদর্শন হাওলি প্রকৃতপক্ষে ছিলো রাজবাড়ি। তৎকালীন রাজা বিজয় সিংহ এই রাজবাড়িটি ৩০একর জমির ওপর প্রায় ১২০০বছর পূর্বে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। নির্মিত এই রাজ বাড়িটিতে ছিল বন্দীশালা,সিংহদ্ধার,নাচঘর,দরবার হল,পুকুর ও সীমানা প্রাচীর যার কিছু অংশ ১২০০বছর পরেও দৃশ্যমান রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কিছু স্বার্থনেশী মহল এর অনেকাংশই লুটে নিয়েছে। দখল করেছে জমি। পরে এই বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের(পিএসসি) চেয়ারম্যান ডঃ মোহাম্মদ সাদিক ২০১৬সালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুনামগঞ্জের এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লিখিত আবেদন জানান। যার ফল শ্রুতিতে ২০১৭সালের ২০নভেম্বর ও ২১নভেম্বর পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের দুজন শিক্ষক ও একদল শিক্ষার্থী গবেষক অধ্যাপক ডঃ অসিত বরণ পালের নেতৃত্বে এই হাওলি রাজবাড়ি সংরক্ষণ ও খননের লক্ষ্যে প্রাথমিক মাঠ জরিপ কার্য পরিচালনা করেছিলেন। এরপর গত বুধবার(১৪,১১,১৮ইং) দুপুর থেকে দুই মাসব্যাপি চলবে উৎখননের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে প্রাচীন নিদর্শন,ইতিহাস সম্পর্কে জানা,পর্যটন বিকাশের উদ্দেশ্যে ওই খনন কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব।

খননকারী দল জানিয়েছে,প্রথম দিন হলহলিয়া দূগের্র প্রধান ফটক থেকে দূর্গটি উত্তর-দক্ষিণে গেছে খনন কাজে দেখাগেছে। প্রাচীরের ওপরের অংশ পাথর দিয়ে মোড়ানো। আপাতদৃষ্টিতে ধারণা করা মুশকিল যে এর নিচে কিছু থাকতে পারে। প্রায় ৭০০বছরের পুরনো এই পুরাকীর্তি স্থাপনা খননের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অজানা অধ্যায়ের উন্মোচন হবে। নতুন করে রচিত হতে পারে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের ইতিহাস। বেরিয়ে আসতে পারে লাউড় সভ্যতার আগের কোনো সভ্যতার ইতিহাসও।

প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান জানান,প্রাচীন লাউড় রাজ্যের ঐতিহাসিক হলহলিয়া(হাউলি)দূর্গ খনন কাজের মধ্য দিয়ে ৫০০বছরের পুরনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতœ নিদর্শন দেখা গেছে। রাজবাড়ির সীমানা প্রাচীরের বেশ কিছু অংশ,রাজবাড়ির প্রবেশদ্বার সফলভাবে খনন করে দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। দূর্গের নিচে সারি সারি ৫০০বছর আগের রঙিন অক্ষত অনেক পুরনো ইট পাওয়া গেছে। এটা থেকে ধারণা করা হচ্ছে,লাউড় সভ্যতার আগেও এখানে অন্য সভ্যতা ছিল। মেঘালয়ের পাদদেশের এই স্থানে মেঘালয় পাহাড় ও সীমান্ত নদী যাদুকাটাকে কেন্দ্র করে এখানে কয়েকটি সভ্যতার নির্দশন এখান থেকে পাওয়া সম্ভব। পুরো খননকাজ শেষ হলে পর্যটকরা অনায়াসে এ রাজ্যের ঐতিহ্যের নির্দশন দর্শনের পাশাপাশী প্রায় ১২০০বছরের পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন বলে আশা করি। পরবর্তী সময়ে পাশের ব্রাহ্মণগাঁও রাজবাড়িতেও খনন হবে। রাজবাড়ির দৃষ্টিনন্দন ধ্বংসাবশেষ এখনো সভ্যতার চিহ্ন বহন করছে।

স্থানীয় গবেষক ও সুধীজন এবং ঐতিহাসিক গবেষকদের সূত্রে জানা গেছে,লাউড় রাজ্য পৌরাণিক যুগের রাজ্য। এর স্থপতি রাজা ভগদত্ত। ভগদত্তের ১৯জন বংশধর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে রাজ্য স্থাপন করে। ৭৫০খ্রিস্টাব্দে প্রাচীন লাউড় রাজ্য কামরূপ রাজ্য থেকে আলাদা হয়। দশম শতক থেকে স্বাধীনভাবে রাজ্য শাসন শুরু হয়।

ঐতিহাসিকদের মতে বর্তমানের সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ ও ময়মনসিংহ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল লাউড় রাজ্য। মহাভারতের যুদ্ধে অর্জুনের পক্ষে লড়তে গিয়ে নিহত হন রাজা ভগদত্ত। দ্বাদশ শতাব্দীতে রাজা বিজয় মাণিক্য লাউড় রাজ্য শাসন করেন। দ্বাদশ শতাব্দীর শেষে তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরেও রাজ্য স্থাপন করেন। এ সময় বঙ্গের ব্রাহ্মণরা বল্লাল সেনের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে রাজা বিজয় মাণিক্যের রাজ্যে এসে আশ্রয় নেন। বিজয় মাণিক্যের পর কারা লাউড় শাসন করে তা এখনো অজানা। প্রাচীন ইতিহাসে লাউড় রাজ্য সব সময় স্বাধীন ছিল বলে জানা যায়। এই খননের মধ্য দিয়ে লাউড় রাজ্যের ব্যাপারে নতুন অনেক কিছু উন্মোচন হতে পারে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: