সর্বশেষ আপডেট : ৪৮ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এতিমখানার ৮০ ভাগ শিশুই এতিম নয়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: হ্যারি পটার স্রষ্টা জে কে রাউলিংয়ের সংগঠন ‘লুমোস’ বলছে, সারা বিশ্বে প্রায় ৮০ লক্ষ শিশু এতিমখানা ও অন্যান্য সংস্থায় থাকে। তবে এদের মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি শিশু আসলে এতিম নয়। তাদের অন্তত একজন অভিভাবক আছে।

সংগঠনটি দাবি করেছে, দরিদ্র দেশগুলোতে স্থাপিত অনেক এতিমখানা আসলে লোভনীয় ব্যবসার একটি অংশ। বিদেশি দাতাদের আকৃষ্ট করতে এই এতিমখানাগুলো পরিবার থেকে শিশুদের পৃথক করে এনে সেখানে রাখে। এক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারগুলোকে অর্থের লোভ দেখানো হয় কিংবা সন্তানদের ভালো শিক্ষা দেবার অঙ্গীকার করা হয়।

লুমোসের দাসত্ব বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্লোয়ে সেটার জানান, এতিমখানা কিংবা অন্যান্য সংস্থায় থাকা শিশুদের বেড়ে ওঠায় সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব শিশুর মধ্যে সামাজিক, ইমোশনাল ও চেতনাবোধ সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়।

লুমোসের মতো আরেকটি সংগঠন ‘ফরগেট মি নট’। অস্ট্রেলিয়ার আইনজীবী কেট ভ্যান ডুরে এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। অতীতে তিনি নেপাল ও উগান্ডায় দুটি এতিমখানা গড়ে তুলেছিলেন। সেইসময় তিনি একটি বিষয় জেনে খুবই অবাক হয়েছিলেন যে, এতিমখানায় আসা এতিমরা আদতে এতিম নয়। লন্ডনের অনুষ্ঠানে তিনিও তার এই অভিজ্ঞতার কথা জানান।

orphanage

ভলান্টিয়ার আর টুরিজম শব্দের মিশ্রনে ‘ভলানটুরিজম’ শব্দটি চালু হয়েছে। এর মানে হচ্ছে, উন্নত দেশ থেকে অনেক ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক এসব এতিমখানায় কাজ করতে যান। এভাবে নতুন এক দেশ দেখা ছাড়াও ভালো কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারার আনন্দ পেতে চান পর্যটকরা।

লুমোসের দাবি, ভলানটুরিজম বিষয়টি এতিমখানার শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। কারণ, স্বেচ্ছাসেবকরা মাত্র তিন সপ্তাহ থেকে তিন মাসের জন্য এতিমখানায় থাকেন। অর্থাৎ, শিশুরা প্রতিনিয়ত নতুন একজনের সঙ্গ পেয়ে থাকে। ফলে কারো সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কে জড়ানোর যে প্রয়োজনীয়তা সেটি তারা অনুভব করতে পারে না।

সংগঠনটির গবেষণা অনুযায়ী, এতিমখানায় থাকা শিশুদের পরিবারের সঙ্গে থাকা শিশুদের চেয়ে যৌনকর্মে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ১০ গুন বেশি থাকে। এ ছাড়া একজন শিশুকে এতিমখানায় দেয়ার মানে হচ্ছে, তার যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কা চার গুন বেড়ে যাওয়া।

উন্নত দেশগুলোতে এতিমখানার চল নেই। কারণ, সেসব দেশে শিশুর পরিবারের সঙ্গে থাকাটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এসব দেশে এতিমদের জন্য সরকারিভাবে কোনো পরিবার খুঁজে দেয়া হয়। শিশুদের জন্য পরিবারই আসল ঠিকানা।

লুমোস বলছে, দাতারা এতিমখানায় যে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে, সেটি সেখানে না দিয়ে এমন জায়গায় দেয়া উচিত, যারা দরিদ্র পরিবারগুলো মান উন্নয়নে কাজ করে থাকে।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: