সর্বশেষ আপডেট : ৪৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জিম্মি পরীক্ষার্থীরা, মানা হচ্ছে না বোর্ডের নির্দেশনা

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ:: ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ফরম ফি’র সঙ্গে বকেয়া বেতন, কোচিং, মডেল টেস্টের নামে বাড়তি কোনো টাকা আদায় করা যাবে না। বকেয়া বেতন আদায় করতে হলে নির্বাচনী পরীক্ষার আগে করে নিতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এসএসসি পরীক্ষার ফরমপূরনে বোর্ড নিধারির্ত ফি ছাড়া ও বিভিন্ন খাত দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোচিং, জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন, উন্নয়ন ফি সহ আনুষঙ্গিক খাত দেখিয়ে ফি ধার্য্য করে দ্বিগুণ পরিমান অর্থ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে ইচ্ছে মতো ফি আদায় করার ফলে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মানবিক শাখায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ১ হাজার ৭শ’ ২৫ টাকা এবং বিজ্ঞান শাখায় ১ হাজার ৮শ’ ৪৫ টাকা হারে ফি আদায় করে বোর্ডে জমা দেয়ার কথা। তবে উপজেলার ২১টি বিদ্যালয়ে ফরম পূরনের নির্ধারিত ফি ছাড়াও কোচিং এর জন্য ৬শ’ থেকে ১ হাজার টাকা, জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন, অনলাইনে কার্যক্রম, প্রিন্ট-ফটোষ্ট্যাট, বোর্ডে আসা যাওয়ার খরচ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে সর্বনিম্ম ২ হাজার ৬শ’ থেকে সর্ব্বোচ্চ ৫ হাজার ৫শ’ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে ফরম পুরনে বাড়তি টাকা আদায়ে দুদকের সতর্কতার কারনে কৌশল হিসাবে প্রতিষ্ঠান সমুহ বোর্ডের টাকা ও দু’মাসের বেতন, কোচিং ফি হিসাবে আলাদাভাবে প্রকাশ করছে। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোন প্রকার রশিদপত্রও দেয়া হচ্ছে না।
কয়েকজন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী বলেন, ফরম পুরনের টাকার সাথে কোচিং, দুই মাসের বেতন সহ অন্যান্য নানা খাত দেখিয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা আদায় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থীর পিতা বলেন, ‘বোর্ডের ফি’র বাহিরে আরও অতিরিক্ত সহ¯্রাধিক টাকা যেন মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমলগঞ্জের একাধিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। রসিদ চাইলে পরবর্তীতে দেওয়া হবে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক।

কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ফরম পূরণে ২ হাজার ৬শ’ টাকা, বিএএফ শাহীন কলেজ শমশেরনগর ৫ হাজার ৫শ’ টাকা, তেঁতইগাও রশিদ উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৮শ’ টাকা, পতনঊষার উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৮শ’ টাকা, মুন্সীবাজার কালীপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৬শ’ টাকা, শমশেরনগর এএটিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৮শ’ টাকা, হাজী মো: উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার টাকা, এম.এ.ওহাব উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫শ’ ৫০টাকা, পদ্মা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫শ’ টাকা, কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৬শ’ টাকা, মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৬শ’ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে।
বাড়তি টাকা আদায় বিষয়ে জানতে চেয়ে কমলগঞ্জ মডেল সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব, পতনঊষার উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ফয়েজ আহমদ, কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলেন, নির্ধারিত ফি ছাড়া পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য কোচিং ফি ও দুই মাসের বেতন আলাদাভাবে নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া অনলাইন ও বোর্ডে আসা যাওয়ার যে খরচ হবে সেটিও এখান থেকে ব্যয় করা হবে।
অভিযোগ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার পারভীন বলেন, ফরম পুরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে বলে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারে তিনি খোঁজ নিয়ে গুরুত্বসহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুননাহার পারভীনসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিভাগীয় কর্মকর্তা জানান, কমলগঞ্জ থানা থেকে একজন উপ পরিদর্শক মুঠোফোনে কথা বলেছেন। উপ পরিদর্শক এসময় তার কর্মস্থল, পারিবারিক অবস্থান, স্বামীর তথ্য, সন্তানাদির তথ্য, এমনকি শ্বশুর বাড়ি সম্পর্কে তথ্য জেনে নিয়েছেন।

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস আসন্ন সংসদ নির্বাচনে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত এ উপজেলায় তালিকাভুক্ত সম্ভাব্য প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের তালিকা তদন্ত শুরু করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি রুটিন কাজ। তদন্তকালে তালিকাভুক্ত অফিসারদের সাথে কথা বলে আর জেনে নেওয়া হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোট গ্রহনের দায়িত্ব পালন করবেন কিনা। এখানে কোন চাপ নয়। তালিকাভুক্ত অফিসাররা জাতীয় দায়িত্ব পালন করবেন দেশের জন্য। তদন্ত প্রতিবেদন তারা আবার উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রেরণ করলে পরবর্তী কাজটি নির্বাচন অফিস করবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম তালিকাভুক্ত সম্ভাব্য প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের সম্পর্কে পুলিশের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের সত্যতা নিশ্চিত করেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানে এটি একটি নিয়মিত কাজ। তদন্ত করে দেখা কে কতটুকু দক্ষ হবেন, নিরপেক্ষভাবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন তাও জেনে নেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলায় এ ধরনের দায়িত্ব পালনে দেড় সহ¯্রাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রয়োজন ১১ শত কর্মকর্তা। তালিকাভুক্ত দেড় সহ¯্রাধিক কর্মকর্তা থেকে বাছাই করে সরাসরি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও সংরক্ষিত কিছু কর্মকর্তা বাছাই করা হবে। বাছাই শেষে আবার তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
!




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: