সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আলাইনা আমার সবচেয়ে বড় গিফট: সাকিব

স্পোর্টস ডেস্ক ::
বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। আঙুলের চোটে বেশ কিছুদিন ধরেই দলের বাইরে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। তবে বৃহস্পতিবার অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মাঠে নামতে পারবেন সাকিব।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব তুলে ধরেছেন তার ব্যক্তিগত জীবনের অনেক গল্প।

দলের বাইরে থাকায় সময়টা উপভোগ করতে সাকিব গিয়েছিলেন তার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা জন্মভূমি মাগুরায়। সেখানেই তার সঙ্গে ক্রিকেট ও ক্রিকেটের বাইরে ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে একান্তে কথা হয় বিবিসি বাংলার।

মাগুরায় নিজ বাসভবনে বিশ্রামে ছিলেন সাকিব। বাড়ির আঙিনা নিয়ে এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার জানিয়েছেন কিছু মজার তথ্য। ছোটবেলার খেলার কথা জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘সোজা এইটুকু জায়গাতেও খেলা হতো। বিদ্যুতের খুঁটিকে স্টাম্প বানিয়ে কত খেললাম। রাস্তার ওপর দুপাশের গাড়ি, রিকশা বন্ধ করে খেলা হতো। এখানে মুরগি বেঁধে দিয়ে খেলা হতো রাতে। যারা জিতবে তারা মুরগি, তরমুজ, কলা, বিস্কুট ইত্যাদি পেত। ’

সবাই বলে সাকিব অল্পভাষী, অর্ন্তমুখী, সহজে মিশতে পারেন না! সাকিবের কাছেই এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, তিনি কেমন? সাকিব জানালেন, ‘আসলে যারা জানেনা তাদের একটা পারসেপশন থাকবেই, তবে আমি কিন্তু প্রচুর আড্ডা দেই। বন্ধুদের সাথে অনেক সময় কাটানো হয়, হয়তো সবার সামনে গিয়ে আড্ডা দেইনা, আমরা আসলে নিজেদের মতো করে সময়-সুযোগ তৈরী করে নিই। আর এই ভক্তদের ব্যাপারটি আমি খুব এনজয় করি। হয়তো অনেকে একসাথে ঘিরে ধরলে বিড়ম্বনা লাগে, এছাড়া এসব আমাকে সবসময় ইন্সপায়ার করে আরো ভালো খেলতে।’

৬ বছরের সাকিবের জীবনে বদল এসেছে অনেক। তার জন্য এখন বছরের শেষভাগটা জীবনের সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ সময়। তবে নিজের বিবাহবার্ষিকী ১২ই ডিসেম্বরের চেয়ে বেশি অপেক্ষায় থাকেন ৮ই নভেম্বরের জন্য। সেদিন যে তার রাজকন্যার পৃথিবীতে আসার দিন! সাকিব জানালেন, ‘এটা সবচেয়ে বড় গিফট আল্লাহর তরফ থেকে। আগে অনেকেই বলতো বাবা হওয়াটা অন্যরকম অনুভূতি, আমার বাবাও বলেছে, আমি তখন বুঝতাম না, কিন্তু এখন বুঝি! এটা আসলে এমন একটা ফিলিংস বলে বোঝানো সম্ভব নয়। ওর কাছে আসলেই আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।’

খেলার বাইরে সাকিবের বেশি সময়টা কাটে এখন পরিবারের সাথে যেখানে সব আলো করে রাখে সাকিবকন্যা, সাথে থাকে সাকিবপত্নী শিশির। সেই পরিবারকে কতটা সময় দেন বাংলাদেশের প্রাণ? সাকিব জানালেন ‘চেষ্টা করি খেলার বাইরে যতোটা সম্ভব সময় দেয়ার। মাঝে মাঝে অভিযোগ বা হতাশা আসে। কিন্তু আমরা দুজনই অ্যাডজাস্ট করি। তবে আমি না থাকলে ও খুব খারাপ ফিল করে, মিস করে, এটা বুঝতে পারি।’

সাকিব প্রসঙ্গ আসলেই উঠে আসে তার সবকিছুতে স্বাভাবিক থাকা ও বাস্তববাদী মানসিকতার কথা। আবেগী বাঙালি চরিত্রের বিপরীতে সাকিবের এটা কি একেবারেই সহজাত নাকি তৈরী করা? সাকিবের ভাষায় এটা তার ভেতরে ছোটবেলা থেকেই, কিন্তু আবিষ্কার হয় বিকেএসপিতে যাবার পরে।

‘ওখানকার টাফ সিচুয়েশন, ওয়ে অফ লিভিং, আমাকে আসলে তৈরী করেছে। দেখেন আমার ব্যাচে ৩০ জনের মতো ছিলাম, তাদের মধ্যে একমাত্র আমি এই জায়গা পর্যন্ত আসতে পেরেছি, সেটা হয়তো আমি বাস্তববাদী বলেই। আর আমি যেরকম মধ্যবিত্ত সাধারণ ঘর থেকে উঠে এসেছি তাতে আসলে এছাড়া আর উপায়ও ছিলনা।’

বিকেএসপির প্রসঙ্গ উঠতেই যেন হুট করে টাইম মেশিন ট্রাভেলে চলে যান ৩১ বছরে পা রাখা সাকিব আল হাসান। কথার দুয়ার খুলে বসেন। ‘বিকেএসপিতে এত স্মৃতি যে তা দিয়ে রীতিমতো বই লেখা যাবে। শুরুতে প্রথমবার বাসার বাইরে ফ্যামিলি ছেড়ে খানিকটা কঠিন মনে হয়েছে, কিন্তু এরপর নতুন বন্ধু পেয়ে যেতেই সব অসুবিধা দূর হয়ে যায়। আমার লাইফের বেস্ট সময় ছিল এটা।’

বাবা মাশরুর রেজা ছিলেন পেশাদার ফুটবলার, ছেলেকেও সেই পথেই তৈরী করছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতলে বদলে যায় দৃশ্যপট। ‘আমি আসলে ফুটবলার না ক্রিকেটার হব এমন কোন পরিকল্পনা নিয়ে এগুইনি। মিডল ক্লাস ফ্যামিলির যেমন চিন্তা পড়াশোনা দিয়েই কিছু করা। তবে আমি খেলতে পছন্দ করতাম, সব খেলাই সিরিয়াসলি নিতাম, কখনো হারতে চাইতাম না। ১৯৯৭ সালের পর ক্রিকেটের হাওয়া লাগে। তখন দেখা যেতো যে শুক্রবার বিকালে সবাই টিভিতে বাংলা সিনেমা দেখছে, কিন্তু আমি গিয়ে সবাইকে খেলার জন্য ডেকে আনতাম। আমি কিন্তু অনুর্ধ্ব ১৯ দলে খেলা পর্যন্তও ভাবিনি যে কখনো জাতীয় দলে খেলবো বা আমাকে খেলতেই হবে। এমনটা ভাবলে হয়তো ক্রিকেটার হতে পারতাম না, সেটা প্রেশার হয়ে যায়। জাতীয় দলে ২ বছর খেলার পর ভাবলাম যে, ঠিক আছে, এটাকে এখন প্রফেশন হিসেবে নেয়া যায়। আমি তো এখন দেখি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেমন প্রেশার শিক্ষার্থীদের। তারা ধরে নেয়, এটাই হতে হবে। আর এটাই বাড়তি চাপ। আমি জীবনে কখনো ফিক্সড করিনি কোনকিছু। আমার যে অপশনগুলো ছিল, সবগুলো চেষ্টা করেছি। আমি অ্যালাইনাকেও কোনকিছু চাপিয়ে দিতে চাইনা। শুধু ভালো মানুষ করতে চাই।’

বিবিসি বাংলায় সাকিব জানিয়েছেন নিজের পছন্দ-অপছন্দ। খাবারের ব্যাপারে সাকিব বলেন, ‘আমি খাবার খেতে প্রচণ্ড ভালোবাসি। খাবারের মধ্যে একমাত্র পটোল বাদে আমি সব খাই। কারণ, পটোলের বীজ আমার পছন্দ না। বাকি সবই খাই।’ তবে পোশাকের ব্যাপারে পাঞ্জাবির প্রতি দুর্বলতা রয়েছে সাকিবের। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু পোশাক আছে পছন্দের। কিন্তু পাঞ্জাবি পরা এবং খোলার জন্য সবচেয়ে সোজা। সবচেয়ে সুবিধা পাওয়া যায় পাঞ্জাবিতে।’

কিছুদিন আগে জা এন জি আইসক্রিমের বিজ্ঞাপনে কাজ করার সময় লুঙ্গির ওপর স্যুট পরা একটি ছবি ভাইরাল হয় সাকিবের। এই ব্যাপারে সাকিব বলেন, ‘এটাই খুব সম্ভবত আমার প্রথমবার লুঙ্গি পরা। লুঙ্গি পরা নিয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। এটা আমার কাছে পাঞ্জাবির মতো খুবই আরামদায়ক মনে হয়েছে। এটা বাংলাদেশের একটা ঐতিহ্য। তাই প্রথমবার লুঙ্গি পরতে পেরেও আমি অনেক খুশি।’

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০ প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্করণে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন দেশের এই আইকন ক্রিকেটার। বর্তমানে তিনি আঙুলের চোট কাটিয়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: