সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে সম্ভাব্য ১৪ প্রার্থী : দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ

ছাতক সংবাদদাতা:: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-৫ ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন জোট-মহাজোটের প্রার্থীরা। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে জানিয়ে দিচ্ছেন প্রার্থীতার কথা। পাশাপাশি ভোটারদের কাছে দিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রতিশ্রুতি। তাই ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আর সকল সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করছেন। স্ব-স্ব বলয়ে ভোট ব্যাংক তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকসহ আ’লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস ও স্বতন্ত্র সম্ভাব্য ১৪জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। এ আসনটি বর্তমানে আ’লীগের দখলে রয়েছে। কিন্তু আসনটি পূনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপি ও তার শরিকদল। জাতীয় পার্টিও আসনটি তাদের পক্ষে নিতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

জানা যায়, এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের রয়েছেন দু’প্রার্থী। বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও জেলা আ’লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকা শামীম আহমদ চৌধুরি। এরা দু’জনই আ’লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী। কে পাচ্ছেন দলীয় প্রতিক নৌকা, কে হবেন নৌকার মাঝি, মানিক না শামীম, সেদিকে চেয়ে আছেন তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সম্প্রতি আ’লীগের এ দু’প্রার্থী দোয়ারাবাজারে পাল্টা পাল্টি গণসমাবেশ করেছেন। শামীম আহমদ চৌধুরি নৌকার সমর্থনে দোয়ারাবাজারে বিশাল গণসমাবেশ করেন এবং নিজের প্রার্থীতার কথা বলে নৌকায় ভোট চান। এরপর ২০ অক্টোবর সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল হাইস্কুল মাঠে বিশাল গণসমাবেশে করে বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে নৌকার পক্ষে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দিয়ে তিনিও নৌকায় ভোট চান দোয়ারাবাসীর কাছে। এ আসনে তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

এদিকে, এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রিয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে তৃনমুল নেতা-কর্মীদের নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের সমর্থনে তিনি সভা, সামাবেশ, গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার দৃষ্টিতে দেশে নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হলে দল তাকেই মনোনয়ন দিবে। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরি মিজান শক্তশালি অবস্থানে মাঠে রয়েছেন। তিনিও দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। তার দাবি এবার এ আসনে দলীয় হাইকমান্ড তাকেই মনোনয়ন দেবেন। বিএনপি নেতৃতাধিন ২০দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রিয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিক উদ্দিন মনোনয়ন পেতে কোমর বেঁধে মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সভা, সমাবেশ, গণসংযোগ ও মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলার কাজ করে যাচ্ছেন। এ হিসেবে দু’উপজেলায় জুড়ে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও ভোট ব্যংক। মাওলানা শফিক উদ্দিন বলেন, ২০০১ সালে ৪ দলীয় জোটের তৎকালিন রাজনৈতিক সামগ্রী পরিস্থিতি বিবেচনায় এ আসনটি ছাড় দিলেও এবার তার দলের হাইকমান্ড রয়েছে কঠোর অবস্থানে। তিনি এবার এ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশি। দলীয় ছাড়াও নিজের ব্যক্তি ইমেজে দু’উপজেলায় তার বিশাল ভোট ব্যংক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন পার্টির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে লাঙ্গনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচার প্রচারনার অংশ হিসেবে তিনি দু’উপজেলায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নদীভাঙ্গন প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, বেকারত্ব দূরিকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকরণসহ অবহেলিত ছাতক ও দোয়ারাবাজারের কাঙ্কিত উন্নয়নে তিনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এখানে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির আরেক সদস্য ও লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলন রুহুল আমীনও মনোনয়ন প্রত্যাশা করে আসছেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ আসনে সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এরপর থেকে তিনি উন্নয়ন বঞ্ছিত মানুষের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এবারও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দু’উপজেলায় সভা, গণসংযোগ ও মতবিনিমিয় করে বেড়াচ্ছেন এবং প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছেন। এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আবদুল মজিদ মাস্টার, জাপার কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আ.ন.ম ওহিদ কনা মিয়া, জাপা নেতা এডভোকেট আবুল হাসান নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ভোট ব্যংক তৈরি করতে মাঠে মতবিনিময় ও গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামির নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় তাদের কোন প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে না। তবে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আবদুস সালাম আল মাদানি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা আ’লীগের একাংশের আহবায়ক ফরিদ আহমদ তারেক, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসিফ আলী ও প্রবাসী কমিউনিটি নেতা, ব্রিজ একাডেমির চেয়ারম্যান আয়ুব করম আলী পরিবর্তনের শ্লোগান নিয়ে প্রার্থী হিসেবে মাঠে সভা, মতবিনিময়, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: