সর্বশেষ আপডেট : ৫৫ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে পনেরটি গ্রামের শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে ছড়াচ্ছে শিক্ষার আলো

ছাতক প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জেলার সীমান্তবর্তী ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর কুলঘেঁষে অবস্থিত নোয়ারাই ইউনিয়ন। কয়েক কিলোমিটার দূরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। সকাল ৭ টা বাজতেই লক্ষ্য করা যায় সবুজ পোশাকে পরিপাটি হয়ে লাফার্জ হোলসিমের কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার স্কুলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে ছোট ছোট শিশুরা। সুরমা নদীর পাশেই সবুজ বাঁশ-বাগানের নিচে ছোট্ট একটি ঘর। সেই ঘরেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম। কথা হয় শিক্ষিকা তসলিমা বেগমের সাথে। তিনি জানান, এরকম আরো ৭টি স্কুল পরিচালনা করছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। আঠার বছর আগে ২০০০সালে সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের একটি প্রধান অংশ হিসেবে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে কোম্পানিটি। তখন লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল কোম্পানিটি। প্রথমে একটি বিদ্যাপীঠের মাধ্যমে শুরু হলেও অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ায় আরো ৬টি সাব সেন্টার খোলা হয় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এতেকরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট কমেছে। তিনি আরো জানান, ২০০০সাল থেকেই বিনা বেতনে এই স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে লাফার্জ হোলসিম। শুধু বিনা বেতনই নয়, শিক্ষার্থীদের স্কুলের পোশাক, বই, খাতা, কলমসহ সব উপকরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করছে কোম্পানিটি। বর্তমানে এই শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে দশজন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪শ’ ৬৪জন। এরমধ্যে ২শ’ জন ছেলে এবং ২শ’ ৬৪জন মেয়ে। এরা সবাই দরিদ্র পরিবারের সদস্য। এই স্কুলগুলো না থাকলে তারা হয়তো শিক্ষার আলো দেখতো না বলেই জানালেন তসলিমা বেগম। তিনি জানান, গত বছর এ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়াদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭জন এবং তিনজন পেয়েছে ‘এ’ গ্রেড। এ সাফল্য ধরে রাখার জন্য এবারও তারা কাজ করে যাচ্ছেন এবং আশা করছেন, এবার প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পাবে।

এই পর্যন্ত এই স্কুলটি থেকে ২শ’ ৩৭জন শিক্ষার্থী পিএসসি পাশ করেছে। তারা সবাই এখন হাই-স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশে কমিউনিকেশন ও সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার মাহি উদ্দিন বাবর বলেন, এখানকার শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করার মানসিকতায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত খুশি। আজকের শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যত। তাই তাদের শিক্ষিত করে তোলার জন্যই কোম্পানির এই উদ্যোগ। এটা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে সুযোগ সুবিধা আরো বাড়ানো হবে।
ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাশ জানান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ছাতকে নিজস্ব স্কুলের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর ব্যপারে যে ভূমিকা রাখছে তা অত্যন্ত প্রশংসার দাবীদার।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুধু শিক্ষা নয় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, এলাকার যুবকদের বিভিন্ন কর্মমুখী শিক্ষা প্রশিক্ষণ এবং সর্বোপরি কোম্পানির বিভিন্ন কাজে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ছাতকের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে কোম্পানিটি।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: