সর্বশেষ আপডেট : ৫৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ সিলেটে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ

দেশের অষ্টম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে সিলেটের অভিষেক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ::

আজ সিলেটে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম এই টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে দেশের অষ্টম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। টেস্ট ম্যাচের ঐতিহ্য সেই ঘন্টা বাজিয়ে সকাল ১০টায় ম্যাচ শুরু হবে অবশ্য এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় দুদলের অধিনায়ক টসে অংশ নেবেন।

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে বরাবরই আধিপত্য থাকে বাংলাদেশের। সাকিব-তামিমের মতো পরীক্ষিত ক্রিকেটার ছাড়াই ওয়ানডেতে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে টেস্ট সিরিজটিও নিজেদের করে রাখতে চায় স্বাগতিকরা। যার জন্য প্রতিটি সেশনে ভাল খেলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সাংবাদিকদের বলেন, ওয়ানডে সিরিজে আমরা যেভাবে খেলেছি ওই কনফিডেন্সটা নিয়ে টেস্ট সিরিজে যাচ্ছি। তারপরও জিম্বাবুয়ে একটি ভাল টিম। তিনি বলেন, টেস্ট সিরিজের প্রতিটি সেশনে চ্যালেঞ্জ আছে সেই চ্যালেঞ্জগুলো বুঝা এবং সেই অনুযায়ী খেলাটা অনেক ইম্পটেন্ট। হোম কন্ডিশনটা ইউজ করে দুটি টেস্টই যেন আমরা জিততে পারি এটাই আমাদের ফাস্ট টার্গেট।

দুই দলের টেস্টের পরিসংখ্যানে এগিয়ে জিম্বাবুয়ে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে মুশফিক, ইমরুল, মিঠুন, মিরাজ, মুমিনুলদের পারফর্মে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের মাটিতে কোনোভাবেই ছাড় দেবে না সফরকারী জিম্বাবুয়েকে।

গত কদিন সিলেটে নিয়মিত অনুশিলন করে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন ইমরুল-লিটনেরা। স্কোয়াডে নতুন ৪ ক্রিকেটার আছেন। সিলেটে অভিষেক হতে পারে একজনের। টেস্ট সিরিজে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের চ্যলেঞ্জ রইল মুমিনুল তাইজুলদের সামনেও।

এদিকে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বিবেচনায় রেখে ঘুরে দাঁড়াতে চায় জিম্বাবুয়ে। দেখাতে চায় নিজেদের সেরা খেলাটা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির অধিনায়ক মাসাকাদজা বলেন, বাংলাদেশ টিম খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। তাদের রয়েছে দুর্দান্ত ক্রিকেটার। প্রথম টেস্টে নিজেদের ভালো করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানালেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির সবশেষ প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ৯ এবং জিম্বাবুয়ে ১০ নম্বরে রয়েছে। রেটিংয়ে টাইগাররা ৬৭ আর জিম্বাবুয়ের ২। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে খেলেছে ১৪টি টেস্ট ম্যাচ। যেখানে জয়ের পাল্লায় এগিয়ে জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতেছে ৬টি ম্যাচ। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে ৫টি ম্যাচ। বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়।

দুই দল মোট সাতটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে। ২০০১ সালে প্রথম সিরিজ খেলেছিল দুই দল। প্রথম চারটি সিরিজই হয়েছিল দুই ম্যাচ সিরিজের। পরের সিরিজে একটিই ম্যাচ ছিল। এরপর আবারো দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। আর সবশেষ সিরিজটি ছিল তিন ম্যাচের। প্রথম তিনটি সিরিজই জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। দুই দলের মুখোমুখি দেখার চতুর্থ সিরিজটি জিতেছিল বাংলাদেশ (২০০৫ সালে)। ২০১১ সালে এরপর আবারো সিরিজ জেতে জিম্বাবুয়ে। ২০১৩ সালের সিরিজটি ড্র হয়। আর সবশেষ ২০১৪ সালের সিরিজে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেয় টাইগাররা।

২০০১ সালের প্রথম সিরিজে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে ২-০ (২ ম্যাচ সিরিজ), ২০০১ সালের ফিরতি সিরিজে সফরকারী জিম্বাবুয়ে ১-০ (২ ম্যাচ সিরিজ), ২০০৪ সালের সিরিজে জিম্বাবুয়ে ১-০ (২ ম্যাচ সিরিজ) ব্যবধানে জিতেছিল। ২০০৫ সালে নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশ ১-০ (২ ম্যাচ সিরিজ) ব্যবধানে জিতেছিল। ২০১১ সালের সিরিজে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে ১-০ (১ ম্যাচ সিরিজ) জিতলেও ২০১৩ সালে দুই দল জিম্বাবুয়ের মাটিতে ১-১ (২ ম্যাচ সিরিজ) এ ড্র করে। ২০১৪ সালে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজে আধিপত্য ছিল টাইগারদের। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জেতে স্বাগতিক বাংলাদেশ (৩-০)। সেবার মিরপুরে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জিতেছিল ৩ উইকেটের ব্যবধানে। খুলনায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগাররা জিম্বাবুয়েকে ১৬২ রানের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে। চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশ সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ১৮৬ রানে উড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে প্রথম টেস্ট খেলেছিল ২০০১ সালের ১৯ এপ্রিল, সেই ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে বুলাওয়াতে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৩২ রানে হারিয়েছিল। ২৬ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকরা জিতেছিল ৮ উইকেটের ব্যবধানে। একই বছর নভেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে খেলতে আসে জিম্বাবুয়ে। ঢাকায় দুই দলের প্রথম ম্যাচটি ড্র হয়, দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ে জেতে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। ২০০৪ সালে হারারেতে বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। সিরিজের পরের ম্যাচটি বুলাওয়াতে ড্র করে বাংলাদেশ। পরের বছর ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে স্বাগতিক বাংলাদেশ সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়। একই সিরিজের শেষ ম্যাচটি হয় ঢাকায়, সেটি ড্র করে দুই দল।

এরপর ২০১১ সালের আগস্টে একমাত্র টেস্ট সিরিজের ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ১৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে। ২০১৩ সালেও হারারেতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হয়েছিল। এপ্রিলে হওয়া সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী বাংলাদেশ ৩৩৫ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়ে গিয়েছিল। পরের ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। ২০১৪ সালের অক্টোবরে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছিল জিম্বাবুয়ে। মিরপুরে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জয়ের পর (৩ উইকেটে) সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচেও জয় পায় (১৬২ রান এবং ১৮৬ রানের ব্যবধানে)।

দেশের ভেন্যুগুলোর অভিষেক টেস্টের ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখা যায় এর আগে অনুষ্ঠিত ৭টি অভিষেক টেস্টেই হেরেছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক ক্রীড়া নৈপুণ্য এবং প্রতিপক্ষ বিবেচনায় নিলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আজকের অভিষেক জয়ের মাধ্যমে স্মরণিয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট প্রেমীরা।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের টেস্টের মধ্যে দিয়ে আইসিসি’র সর্বোচ্চ লেভেলের ক্রিকেট-টেস্টে অভিষেক হয় বাংলাদেশর।







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: