সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংলাপে গেলেও নৈশভোজে অংশ নেবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপে অংশ নিলেও নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংলাপের পর নৈশভোজ হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নেয় গণভবনে রাতের খাবার না গ্রহণের। এরপর গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ফোন করে মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে অনুরোধ জানান। এরপর মন্টু জানান যে, ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত হয়েছে রাতের খাবারে অংশ না নেওয়ার।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এ তথ্য জানান।মান্না বলেন, দেশের একটি সংকটকালে আলোচনার জন্য আমরা গণভবনে যাচ্ছি, রাতের খাবার গ্রহণের জন্য নয়। আমরা আওয়ামী লীগকে জানিয়ে দিয়েছি যে, তারা যেন রাতের খাবারের আয়োজন না করে।

তিনি জানান, সংলাপ তো হবে দেশের ক্রাইসিস নিয়ে। আমরা চা খাব। নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি কাদের সাহেবকে (ওবায়দুল কাদের) জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, যে সময়টা আছে, আমরা চাইছি, সে সময়টায় শুধু আলোচনা হোক। নৈশভোজে অংশ নিলে তো আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটবে। এই কারণেই নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর কোনও কারণ নেই। সময় তো খুব মূল্যবান।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, নৈশভোজে অংশ না নিলেও সংলাপে কোনও প্রভাব পড়বে না।ঐক্যফ্রন্টের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপি নেতারা তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপে গিয়ে নৈশভোজে অংশ নিতে অনীহা জানিয়েছে। এরপরই ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বিএনপির এই মনোভাবকে সমর্থন দিয়ে নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ড. কামালের বিশেষ পছন্দের খাবার চিজ কেকসহ ১৭ ধরনের খাবার দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আপ্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ চিজ কেক আনা হচ্ছে হোটেল র‌্যাডিসন থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী-১ (এপিএস-১) এবং প্রটোকলের চৌকস কর্মকর্তারা এসব খাবার প্রস্তুতের তদারকি করছেন। খাবারের ব্যবস্থাপনায় থাকছে পর্যটন করপোরেশন।

খাবারের মেন্যুতে আরো থাকছে পিয়ারু সর্দারের মোরগ পোলাও, চিতল মাছের কোপ্তা, রুই মাছের দো-পেঁয়াজা, চিকেন ইরানি কাবাব, বাটার নান, মাটন রেজালা, বিফ শিক কাবাব, মাল্টা, আনারস, জলপাই ও তরমুজের ফ্রেশ জুস, চিংড়ি ছাড়া টক-মিষ্টি স্বাদের কর্ন স্যুপ, চিংড়ি ছাড়া মিক্সড নুডলস, মিক্সড সবজি, সাদা ভাত, টক ও মিষ্টি উভয় ধরনের দই, মিক্সড সালাদ, কোক ক্যান এবং চা ও কফি।

সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেনকে সংলাপের চিঠি পৌঁছে দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ তার পছন্দের খাবার সম্পর্কে জানতে চান। তবে, ড. কামাল চিজ কেক ছাড়া বিশেষ কিছু বলেননি। এর আগের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ফোন করে আব্দুস সোবহানকে ড. কামালের পছন্দের খাবারের কথা জেনে আসতে বলেন।

বৃহস্পতিবার গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের ২৩ নেতা অংশ নেবেন। বুধবার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবাহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২৩ নেতার মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৯ জন, জাসদের দুই নেতা, সাম্যবাদী দলের একজন ও ওয়াকার্স পার্টির একজন উপস্থিত থাকবেন।

সংলাপে আওয়ামী লীগের ১৯ নেতার মধ্যে রয়েছেন— প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংলাপে উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মতিন খসরু, কাজী জাফর উল্লাহ এবং ড. আব্দুর রাজ্জাক সংলাপে অংশ নেবেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপুমনি, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং আইন সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিমও উপস্থিত থাকবেন।

১৪ দলের শরিকদের মধ্যে সংলাপে অংশ নেবেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ একাংশের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাসদ আরেক অংশের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল।

গত রোববার চলমান রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন। ওই চিঠি পাওয়ার পর জবাবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানান তারা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গণভবনে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে মঙ্গলবার ড. কামাল হোসেনকে চিঠি পাঠিয়েছেন। সংবিধানসম্মত যে কোনো আলোচনার জন্য তিনি সবসময় প্রস্তুত বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পাওয়ার পর মতিঝিলে নিজ চেম্বারে বিকেলে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. কামাল হোসেন। ওই বৈঠকে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল চূড়ান্ত করা হয়।

ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধি দলে বিএনপি থেকে থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস। নাগরিক ঐক্য থেকে থাকবেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও এসএম আকরাম। গণফোরাম থেকে মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী। জেএসডি থেকে আ স ম আব্দুর রব, আব্দুল মালেক রতন, তানিয়া রব। ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আ ব ম মোস্তফা আমিন ও স্বতন্ত্র হিসেবে থাকবেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসার দিন ঠিক হয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশের। ২ নভেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকল্পধারার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন তারা।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: