সর্বশেষ আপডেট : ৩৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুলাউড়া মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাসের আকুতি

মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাস। কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের রংগীরকুল গ্রামে জাতীর এই শ্রেষ্ঠ বীর সন্তানের বাড়ি। যিনি প্রবল শক্তি, সাহস, মনোবল আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে ১৯৭১ সালে সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন ৪ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সি আর দত্তের অধীনে। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে গিয়ে পাল্টা আক্রএণর মুখেও পড়েছিলেন তিনি।

পাক বাহিনীর মর্টার শেলের আঘাত থেকেও প্রাণে বাঁচেন। দেশ স্বাধীনের পর সিলেটে অস্ত্র জমা দিয়ে ফেরেন নিজ বাড়িতে। মর্টার শেলের আঘাত থেকে বেঁচে যাওয়া সেই প্রাণকে বর্তমানে আর বাঁচাতে পারছেন না মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাস (৬৫)। পরিবারে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে চলছে তাদের সংসার। এক তো বয়সের ভার, তার ওপর শরীরে বেঁধেছে নানা রোগ। এরই মধ্যে গত ৭ অক্টোবর গভীর রাতে হঠাৎ করে স্ট্রোক করেন হরেন্দ্র দাস। সেই স্ট্রোকে তাঁর শরীরের বাম হাত ও পা দুটো নিস্তেজ হয়ে যায়।

জানা যায়, রংগীরকুল গ্রামের মৃত অষ্টিনী দাসের কনিষ্ঠ ছেলে মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাস দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ঠেঁলা চালিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নেই কোনো তাঁর নিজস্ব ভূমি। সরকারি খাস তিন শতক ভূমির ওপর একটি ঘর বানিয়ে থাকেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে যে টাকা পান, সেটা দিয়ে কোনো মতে একটি ঘর তৈরি করেছেন আর সংসার চালাচ্ছেন। ঘরের পুরো কাজ এখনো শেষ হয়নি। ঘরে নেই কোনো বিদ্যুৎ। পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বিদ্যুৎ রয়েছে।

হরেন্দ্র দাসের বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ লাইনের দূরত্ব হবে ১৫০-২০০ ফুট। ঘরের পাশে বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ থাকলেও টাকার অভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছেন না। ঠেলা চালিয়ে কোনো রকমে পরিবার নিয়ে খেয়ে বেঁচে আছেন। বয়সের ভার আর নানা অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন থেকে ঠেলা চালাতেও কষ্ট হয় তাঁর। এখন আবার হাত-পা পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কি দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা হবে আর কিভাবে খেয়ে বাঁচবেন, সেই চিন্তায় নির্বাক হয়ে ঘরের বারান্দায় বসে আছেন স্ত্রী শেফালী দাস।

সরেজমিন তাঁর বাড়িতে গেলে দেখা যায়, হরেন্দ্র দাস ঘরের বারান্দায় একটি চেয়ারে বসে আছেন। পাশে বসে একমাত্র সন্তান (মেয়ে) গীতা দাস বাবার পায়ে ঔষধ লাগাচ্ছেন। গীতা জানান, ৭ অক্টোবর রাত ২টার দিকে হঠাৎ স্ট্রোক করেন তিনি। ওই রাতেই তাকে সিলেটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শাকির আহমেদ শাহিনের অধীনে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ৭ দিন চিকিৎসার পর ১৫ অক্টোবর রাতে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার বলছেন আরো কিছুদিন থাকতে। কিন্তু টাকার অভাবে হাসপাতালে আর থাকা সম্ভব হয়নি। বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধার করে টাকা নিয়ে হাসপাতালের ১১ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেছেন।

একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ৭১-এ যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য, আর এখন যুদ্ধ করছি বেঁচে থাকার জন্য। ঠেলা চালিয়ে কোনোমতে চলছে পরিবার। কিন্তু ভালো কোনো কিছু খাবার বা কেনার সুযোগ হয় না। আমার বাড়ি থেকে বাইরে যাবার কোনো রাস্তা নেই। একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আমার ঘরে নেই কোনো বিদ্যুৎ। অথচ, যে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, সেই দেশে বাস করে এখন আমি বিদ্যুৎ ভোগ করতে পারছি না। এটা চিন্তা করলে আমার মনে অনেক পীড়া দেয়। রাস্তা ও বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে তিন বছর আগে স্থানীয় জয়চন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান কমরউদ্দিন আহমদ কমরু ও উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুশীল দে কে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

জয়চন্ডী ইউনিয়নের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা অমর আতিক বলেন, হরেন্দ্র দাস হলেন- একজন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা। আর্থিকভাবে সে খুবই দুর্বল। ৬৫ বছর বয়সে তিনি ঠেলা চালিয়ে অনেক কষ্ট করে পরিবার চালাচ্ছেন। কেউ তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি। আমি নিজে হরেন্দ্র দাসের চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেছি। কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্র দাসের বাড়িতে বিদ্যুৎ ও রাস্তার ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। – কালের কণ্ঠ




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: