সর্বশেষ আপডেট : ৪৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিয়ানীবাজারে ভয়ঙ্কর প্রেমের ফাঁদ, ২ মাসে ৩ ধর্ষণ

বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা:: উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে মেয়েটি। বাবা-মা’র স্বপ্ন তাকে প্রাথমিকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত করবেন। কিন্তু নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েটি মাধ্যমিকে পড়াবস্থায় ভিন্নপথে পা দেয়। প্রতিবেশী এক তরুণের সাথে সে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। গভীর প্রেম একসময় শারীরিক সম্পর্কে গড়ায়। তখন মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিলেও প্রেমিক কৌশলে ‘ব্রেকআপ’ করতে চায়। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর মেয়েটিও কৌশলের আশ্রয় নেয়।

গত ২১ অক্টোবর বিকেলে প্রেমিককে নিয়ে যায় এক নির্জন বাড়িতে। সেখানে তারা দু’জন একান্তে সময় কাটানোর সময় পুলিশ গিয়ে হাজির হয়। উভয়পক্ষের অভিভাবকরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। মেয়ের পক্ষ থেকে তখন প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দিলেও সে বিয়ে করতে সম্মত হয়নি। এরপর মেয়ের পিতা বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিক সাহেদ আহমদ (২৩) এর বিরুদ্ধে মামলা (নং ১২) দায়ের করেন।

পুলিশ গ্রেফতার সাহেদকে আদালতে প্রেরণ করে। সে বিয়ানীবাজার উপজেলার নবাং গ্রামের জিয়া উদ্দিন চুনু মিয়ার ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলে আমরা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করি।

বিয়ানীবাজারের দুবাগ এলাকার চরিয়া গ্রামে গত ১ অক্টোবর ধর্ষণের অভিযোগে আরেকটি মামলা (নং-১) দায়ের করা হয়। মামলার একমাত্র আসামী মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে বজলুর রহমান (৩৫) পলাতক রয়েছে।

সেও প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতিবেশী এক তরুণীকে ধর্ষণ করে। নি¤œবিত্ত পরিবারের ওই মেয়েটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুল ইসলাম জানান, আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পৌরশহরের খাসা গ্রামে অপর আরেক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে আব্দুল মালিক (৩৬) নামের এক লম্পট। তার স্ত্রীসহ দুই সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তরুণীর মা ও মামলার বাদী জানান, মাথিউরা গ্রামে তাদের বসতবাড়ি হলেও খাসা এলাকায় বাসা ভাড়া থাকেন। এ কারণে তার মেয়ের প্রতি কু-নজর পড়ে মালিকের। সে প্রেমের অভিনয় করে দীর্ঘদিন তার মেয়ের সাথে মেলামেশা করে। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়লে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়। প্রায় দুই মাস আগে এ ঘটনা ঘটে।

তিনি অভিযোগ করেন, আদালতে অসত্য তথ্য দিয়ে জামিন নিয়েছে ধর্ষক মালিক। এখন সে ও তার পরিবারের সদস্যরা মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি দিচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণের এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুকসানা বেগম লিমা।

তিনি বলেন, মেয়েদের আরো সতর্ক হয়ে চলাফেরা করতে হবে। প্রেম করার আগে ছেলেকে যাচাই-বাছাই করতে হবে। একইসাথে ধর্ষকদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ ধরণের জঘণ্য অপরাধ হ্রাস পাবে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: