সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হবে মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে

নিউজ ডেস্ক:: কোটাপ্রথা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে আইনগত ভিত্তি দিতে সংসদে উত্থাপিত হলে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ বিল পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগ হবে মেধা ও উম্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। তবে সংবিধানের উদ্দেশ্য পূরণ করতে সরকার ‘পদ সংরক্ষণ’ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।বুধবার জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক বিলটি পাস করার প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিলের ওপর আনীত জনমত যাচাই বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। গত ২১ অক্টোবর বিলটি উত্থাপিত হয়। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২৩ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সংসদে বিলের প্রতিবেদন পেশ করে।

আইনে সরকারি কর্মচারিদের দ্বারা ফৌজদারি অপরাধ সংঘটনের দায়েও বিনা অনুমতিতে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কৃর্তক অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে তাকে গ্রেফতার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কতৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে’।

আইনের ৩২ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের লঘু ও গুরুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। লঘু শাস্তির মধ্যে রয়েছে, তিরষ্কার, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন স্থগিত, বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনতি এবং সরকারি আদেশ অমান্য বা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়। গুরুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে, নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন স্কেলের অবনতিকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান, অপসারণ ও চাকরি হতে বরাখাস্ত। এছাড়া আইনে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে ৩৩ অনুচ্ছেদ যুক্ত করে বলা হয়েছে, ‘দায়ী কর্মচারির নিকট থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করতে হবে। ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে , তার বেতন, ভাতা, বা প্রাপ্য অন্যকোন আর্থিক সুবিধা হতে কর্তনপূর্বক আদায় করা যাবে।

অনরূপভাবে আদায় করা সম্ভব না হলে, তা পাবলিক ডিমান্ড এ্যাক্ট ১৯১৩-এর অধীন সরকারি পাওনা হিসেবে আদায় যোগ্য হবে’। একইসঙ্গে আইনের ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোন আপীল গৃহীত হবে না মর্মেও বিধান রাখা হয়েছে।

এই আইনে সরকারকে, সরকারি গেজেট আদেশ দ্বারা প্রজাতন্ত্রের যে কোন কর্ম বা কর্ম বিভাগ সৃজন, সংযুক্তকরণ, একীকরণ, বিলুপ্তিকরণসহ অন্য যে কোনভাবে পুনর্গঠন করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘জারিকৃত আদেশ দ্বারা নিয়োজিত সরকারি কর্মচারির কর্মের শর্তাবলির তারতম্য বা রদ করা যাবে। এমনকি আদেশের ভ’তাপেক্ষ কার্যকারিতা প্রদান করা যাবে’। এছাড়া ‘চাকরির দায় ও এখতিয়ার নির্ধারণ ও পরিবর্তন করতে এবং জনস্বার্থে আইনানুগ যে কোন কর্মে বা দায়িত্বে নিয়োজিত করতে পারবে’।

আইনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন বিষয়ে বলা হয়েছে, এই আইনের আওতাভুক্ত কোন কর্ম বা কর্ম বিভাগে সরাসরি জনবল নিয়োগের ভিত্তি হবে মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯(৩) এর উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। পদোন্নতরি ভিত্তি হবে, সতত, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ ও সন্তোষজনক চাকরি। সরকারি চাকরির শিক্ষানবিসকাল ও চাকরি স্থায়ীকরণ সম্পর্কিত বিষয় ও শর্তাধি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। এছাড়া আইনে কোন বিদেশী নাগরিককে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত করা যাবে না মর্মে বিধান রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, আউট সোসির্ংয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহণকে কোন অর্থেই প্রজাতন্ত্রেও কর্মে নিয়োগ বলে গণ্য করা যাবে না।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদে আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন ব্যক্তির কর্মেও শর্তাবলির তারতম্য ও রদ করার বিধান, ১৩৩ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রেও কর্মে কর্মচারীদেও নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের বিধান এবং ২১ অনুচ্ছেদে সব সময় জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়োগ ও কর্মেও শর্তাবলির বিভিন্ন বিষয়ে প্রণীত ভিন্ন ভিন্ন আইন, প্রয়োজন অনুযায়ী ১৩৩ অনুচ্ছেদেও ক্ষমতা বলে রাষ।ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি ও সরকারি অনুশাসন দ্বারা সরকারি কর্মচারীদেও চাকরি সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয়সমুহ বিবেচনায় নিয়ে সরকারি চাকুরি সংক্রান্ত একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নে প্রয়োজিনীয়তা দীর্ঘদিন থেকে অনুভ’ত হওয়ায় ‘ সরকারি চাকরি আইন. প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: