সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের ৩ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: ‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ শ্লোগানে জেলার তিন উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সক্রিয় হয়ে উঠছে। গত এক বছর ধরে সুনামগঞ্জের ৩ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাম আদালতের সালিশ বৈঠকে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকগণের ঝগড়া-বিবাদ নিরসনে এবং তাদের ন্যায় বিচার পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তবে এসব গ্রাম আদালতের বিচারকদের আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গ্রাম আদালতের প্রচার বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করছেন তারা।
রবিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার পলাশ গ্রামের মতিন মিয়া আর কাজলের মধ্যে গরুর মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনে দ্বন্ধ আর সেই দ্বন্ধের বিচার নিয়ে আসলেন দুজনই গ্রাম আদালতে। একদিনেই অতি অল্প খরচেই তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করে দিলেন গ্রাম আদালত। প্রতিদিনই এমন অনেক গ্রাম্য বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে এই গ্রাম আদালতে।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর,বিশ^ম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার ২০ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে শুরু হয় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম। এই প্রকল্পের সামগ্রিক উদ্দেশ্য হল, বিচার ব্যবস্থায় দেশের সুবিধা বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণে অবদান রাখা। কার্যকরী গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় বিচারিক চাহিদা এবং যথাযথ আইনী সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অধিকতর দায়িত্বশীল করা। নারী, দরিদ্র ও বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুততম সময়ে, স্বল্প খরচে ও স্বচ্ছতার সাথে সালিশ নিষ্পত্তি করা। গ্রাম আদালতে সেসব বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারবে তা হল, ঝগড়া-বিবাদ, কলহ বা মারামারি, দাঙ্গা, প্রতারণা, চুরি, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, কোনো নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাত করা, পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার, ৭৫ হাজার টাকার অধিক মূল্যমানের যেকোনো বিরোধ সংক্রান্ত বিয়য়ে সুফল পাচ্ছেন গ্রাম আদালতে আসা লোকজন।

বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম জানান, গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানদের আইনবিষয়ক আরো প্রশিক্ষনের পাশাপাশি পারিবারিক মামলাগুলো গ্রাম আদালতের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি এই আদালতে নিজস্ব ভবন,এজলাস থাকা খুবই জুরুরি।
স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালনক মোহাম্মদ এমরান হোসেন জানান, আমরা খুব তাড়াতাড়ি জগন্নাথপুর,বিশ^ম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার ২০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি গ্রামের মানুষকে আমরা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গ্রাম আদালত মুখী করব।
উল্লেখ, বিগত এক বছরের গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে গ্রাম আদালতে মোট মামলা এসেছে ১০৪২টি আর এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে ৫০৫ টি মামলা।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: