সর্বশেষ আপডেট : ৩৮ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সাহিত্যের হাজারতম আসর : বাংলা সাহিত্যের অনন্য নজির

শাহ সুহেল আহমদ ::

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ- কেমুসাস। উপমহাদেশের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানের যতেষ্ট সুনাম রয়েছে। কেমুসাস নামের সাথে মুহম্মদ নুরুল হক আর আল ইসলাহ নাম দুটিও ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। পাশাপাশি সংসদের সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর যেন সাহিত্যের ক্লাস হিসেবে মূল্যায়িত সিলেটের নবীন-প্রবীণ কবি সাহিত্যিকদের মাঝে।

আজ সেই আসরের ১০০০তম পর্ব। অর্থাৎ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য অসাধারণ নজির স্থাপনের দিন। হৃদয়-মননে যে আসরটি গেঁথে আছে আজও, সে আসরের হাজারটি আসর! সীমাহীন ভাললাগা- ভালবাসার বিষয়। এ আসরে উপস্থিত থাকলে নিজেকে ইতিহাসের একটি অংশ মনে হতো। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হলো না। যদিও এই হাজারতম আসরটি পেরিয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগে, তবুও আজ সে আসরের মূল পর্ব এবং হাজারতম আসরের পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এবার যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরষ্কার পাচ্ছেন তাদের অভিনন্দন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রবন্ধ সাহিত্যে আমারও সে পুরষ্কারটা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।

হাজারতম সাহিত্য আসরকে ঘিরে নানা স্মৃতি-প্রতিস্মৃতি ভেসে ভেড়াচ্ছে মনজগতে। তখন ২০০৩ সালের মাঝামাঝি। আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক বাংলার প্রফেসর কবি শামসুল হক বিন আপ্তাব একদিন বললেন, সুহেল- তুমি যেহেতু লেখালেখি করো সুতরাং কেমুসাস সাহিত্য আসরে তোমার যাওয়া উচিত। তাঁর কথা মতো সেদিন প্রথম কেমুসাস সাহিত্য আসরে পা রাখলাম। সেদিনকার আসরের সভাপতি ছিলেন পরম শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবকতুল্য কথাসাহিত্যিক সেলিম আউয়াল আর সঞ্চালনায় তারুণ্যের প্রতিক কবি আব্দুল মুকিত অপি। সেদিনের মুখ্যমণি কবি রাগীব হোসেন চৌধুরীর অসাধারণ আলোচনা আজও চোখে জ্বলজ্বল করে ভেঁসে বেড়ায়। প্রথমদিনের কবিতা পাঠ, কবিতার উপর আলোচনা এবং আসরের নতুন অতিথি হিসেবে বরণ করে নেয়ার স্মৃতি যেন ভাস্মর হয়ে আছে আজও।

তারপর! আসরের নিয়মিত একজন কর্মী হিসেবে পরিণত হলাম। প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সেই জালালপুর থেকে সাহিত্য আসরে উপস্থিতি, লেখা পাঠ, নিজের পঠিত লেখার উপর আলোচকের আলোচনা, সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা শোনতে উন্মুখ হয়ে বসে থাকা। একটা সময় এই সাহিত্য আসরের সঞ্চালনার দায়িত্ব আমার উপর বর্তায়। শতাধিক আসর পরিচালনা শেষে জীবনের তাগিদে নানা ব্যবস্থতায় জড়িয়ে গেলে সাহিত্য আসর থেকে কিছুটা দূরে চলে আসা। বাহ্যিক দৃষ্টিতে দূরে হলেও মন-মগজকে কি দূরে রাখা সম্ভব! তাইতো মাঝে মাঝে ছুটে যেতাম আসরে। ততদিনে সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সম্পাদক দয়াদর্শনের প্রবর্তক গবেষক কবি সৈয়দ মবনু। সে হিসেবে সাহিত্য আসরের সভাপতির দায়িত্বও তাঁর। তখন আর আগের মতো লেখা পাঠ কিংবা সঞ্চালনা নয়, পঠিত লেখার উপর আলোচনার দায়িত্ব। এটি বেশ কঠিন। তারপরও সভাপতির নির্দেশ তো মানতে হতো।

সাহিত্য আসর বলতে যে সাদামাঠা একটি আড্ডা টাইপের আসর, আসলে কেমুসাসের সাহিত্য আসরটি তেমন নয়। পুরো যেন একটি সাহিত্যের ক্লাসের মতো কাজ করে এ আসর। প্রতি বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যার পর শহর ও শহরতলীর বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আসা সাহিত্যকর্মীরা জড়ো হন কেমুসাস সাহিত্য আসর কক্ষে। না, এখানে কোনো আলো জ্বলমল কল্পকাহিনী নেই, কিংবা রশদ যোগানোর কিছু। আসরের সবকিছু মিলিয়ে যেটা পাওয়া যায়, তাতে একজন লেখকের আত্মার খোরাক, পাওয়া যায় মনের কৌলিন্য দূর করার ওষুদ।

বর্তমান সময়ের প্রধান কবি আল মাহমুদ সবসময়ই বলে থাকেন, কবিতা কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয় না। এই দর্শনকে সামনে রেখে যারা সাহিত্য চর্চা করেন, তারা একদিন ঠিকই এ আলোর পথের সফল যাত্রী হিসেবে দেশ-দশকে আলোকিত করতে পারেন। কেমুসাস সাহিত্য আসরের প্রতিজন কর্মী ঠিক এভাবেই গড়ে উঠবেন, এটাই কাম্য।

লেখকঃ সদস্য- প্যারিস বাংলা প্রেসক্লাব।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: