সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জুড়ীতে যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধু সুমী

বড়লেখা ও জুড়ী প্রতিনিধি ::

জুড়ীতে যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পিতৃহীন গৃহবধু সুমী (১৯) বেগম। সে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের হরিরামপুর (বর্তমানে কলেজ রোডস্থ উত্তর ভবানীপুর) গ্রামের মৃত নেছার আলীর মেয়ে। তার স্বামী একই গ্রামের মৃত ক¦ারী নুরুজ্জামানের ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক কামাল হোসেন (২৯)। নির্যাতনের শিকার গৃহবধু সুমী গত ২৬ আগষ্ট স্বামীকে প্রধান আসামী করে ভাসুর ইকবাল হোসেন (৩৫) ও শ্বাশুরী রাহেলা বেগম (৫৫)সহ তিন জনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং ২৫৪/১৮) দায়ের করেছেন।

মামলার এজহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ৩ বছর পূর্বে জুড়ী মডেল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী থাকা অবস্থায় আসা-যাওয়ার পথে কামালের সাথে সুমী বেগমের পরিচয়ের সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে প্রেম বিনিময় ও অতঃপর গত বছরের ১৫ নভেম্বর ১ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্যক্রমে কামালের বড়ভাই ইকবাল ও মা রাহেলা বেগমের অজান্তে মৌলভীবাজার কোর্টে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাই ভাই ও মা এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। এরপরও কামাল নববধূ সুমীকে নিয়ে বাড়ীতে উঠে। তারা নবদম্পতিকে বাড়ীতে জায়গা দিবে না বলায় কামাল স্থানীয় গণ্যমান্যদের জানালে, তাদের মধ্যস্থতায় নবদম্পতি বাড়ীতে স্থান পায় এবং ঘরসংসার শুরু করে। এরই এক পর্যায়ে কামালের মা রাহেলা বেগম নতুন সিএনজি কেনার জন্য সুমীর পিত্রালয় থেকে ৩ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেন। কামাল তার স্ত্রী সুমীকে যৌতুকের কথা জানালে, সে বলে আমার পিতা নেই, আর আমার ছোট ভাইয়ের উপার্জনে কোনো রকমে সংসার চলে। এতো টাকা আমার বিধবা মায়ের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। এরপর থেকে কারণে-অকারণে তারা সুমীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। ঘটনাটি জেনে, সুমীর মা রঙ্গি বেগম মেয়ের সুখের কথা ভেবে সুমীর স্বামী কামাল হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপরও তারা থেমে নেই। বাকী টাকার জন্য নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতো কিছুর পরও মানসম্মানের দিকে তাকিয়ে নিরবে এসব নির্যাতন সহ্য করে সংসার চালিয়ে যায় সুমী। গত ২২ জুলাই সকাল ১০ টায় যৌতুকের টাকা এনে দিতে সুমীর স্বামী কামাল হোসেন, ভাসুর ইকবাল হোসেন ও শ্বাশুরী রাহেলা বেগম পুনরায় চাপ প্রয়োগ করায় সুমী তাতে অসম্মতি জানালে, তারা তখন ক্ষিপ্ত হয়ে সুমীকে শারীরিক নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে কয়েকজন স্বজন নিয়ে সুমীর মা রঙ্গি বেগম তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে বিগত ২৪ জুলাই সুমী জুড়ী থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে অভিযোগ গ্রহন না করে মৌলভীবাজার আদালতে মামলা দায়ের করতে পরামর্শ দেন।

সুমীর মা রঙ্গি বেগম জানান, আমার স্বামী নেই, আমি বিধবা। আমার মেয়েকে যারা নির্যাতন করেছে তাদের বিচার চাই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, অভিযুক্ত কামাল, তার বড়ভাই ইকবাল ও মা রাহেলা বেগম তাদের উপর আণীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের এ সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রীমহল আমাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: