সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হসপিটালে ৫ দিন

অবনী নাজমিন ::
ভোরবেলা সিন্থিয়া পেট ব্যাথা শুরু হলো। নিয়ে গেলাম হসপিটাল। ডাক্তার বললেন, এফএনডিসাইড অপারেশন লাগবে। ভয় পেলাম কারণ ওকে খুব ভালবাসি। আম্মা খবর পেয়ে আসলেন। শুরু হলো টেস্ট। আল্ট্রাসনো, সিবিসি, আরবিএস, ইউরিন, এক্সরে ইত্যাদি। স্যালাইন দেয়া হলো খাবার নিষেধ। সাথে আমার আর আম্মারও খাওয়া দাওয়া বন্ধ। শুক্রবার তাই হসপিটালে আজ কোন ডাক্তার নেই।

সকালে ডাক্তার দেখলেন, বললেন এফএনডিসাইড না। আরো কিছু টেস্ট দিলেন বললেন কিডনীতে সমস্যা। রাতে ব্যাথা বাড়ায় নার্সকে ডাকতে গেলাম, গিয়ে দেখি পুরুষ আর মহিলা নার্সটা একই নকশী কাথার নিচে ঘুমাচ্চে। না ডেকেই চলে আসি। ২ দিন পর ব্যাথা কমেনা ডাক্তার বললেন, এটা সার্জারি কেস না ওকে গাইনি ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দাও।

সেখানে যাওয়ার পর সবাই এসে জিজ্ঞেস করে কয় মাস, জামাই কই। যখন শুনে বিয়ে হয়নি কপাল কুচকে দুরে গিয়ে ফিসফিস। মনে হয় বিয়ের আগেই কাম সারছে। বেচারি সিহিন্তা আমাকে বলে আপু চল কেবিনে চলে যাই। কিন্তু কেবিন খালি নাই।

সকালে কান্না চিৎকার। এত সুন্দর মেয়ে জীবনে কম দেখেছি, ওর ব্যাথা উঠছে। ডাক্তার বলল, বাচ্চা হতে অনেক দেরি। অথচ কিছুক্ষন পর মেয়েটি বাচ্চা প্রসব করল। সবার চোখের সামনে কী একটা অবস্থা। মেয়েটির চিৎকারে বিল্ডিং কাপঁছে অথচ ডাক্তার নাই। আম্মাসহ কয়েকজন এগিয়ে গেলেন মেয়েটিকে সাহায্য করার জন্য। ডাক্তার এসে সবাইকে ধমকালো। সরে যাও সবাই, কী মজা দেখা হচ্ছে এখানে। মেয়েটিকে নিয়ে গেল পাশের রুমে। মেয়েটিকে সিটে এনে দিলেও বাচ্চাকে আনা হলোনা। ততক্ষণে বাচ্চাটি মারা যায়। বাচ্চাটি দুনিয়ায় ঠিকভাবে আসেনি ভেজালের পৃথিবীর কঠিন মানুষগুলো ওকে নিশ্বাস নিতে দেয়নি। আমার বাচ্চা, আমার বাচ্চা বলে মেয়েটির কান্না আজও কানে আসে।

সিন্থিয়ার পেট ব্যাথা আরো বাড়ল, রাত তখন ৩টা। নার্সকে গিয়ে ডাকলাম। উনি আমার ডাক শুনছে না দেখে মেয়েটির বাহুতে একটু ধাক্কা দেই। নার্স বলল, আমাকে টাচ করলেন কেন?
আমি অনেক্ষন ডাকছিলাম আপনি গভীর ঘুমে ছিলেন তাই। আমার বোনের ব্যাথাটা বেড়েছে।
তো আমি কী করব।
আচ্ছা তাহলে আমি ডাক্তারকে ডাকি।
নার্স বলল দাঁড়ান ফাইল চেক করে নেই। একটা ইনঞ্জেকসন দিল আনতে হবে। শীতের রাত, কুয়াশার চাদর যেন হসপিটালের ভিতর কেউ বিছিয়ে দিয়েছে। ৫তলা থেকে নিচে গিয়ে ইঞ্জেকসন আনলাম, ইনঞ্জেকসন দিয়েও ব্যাথা কমলনা। সকালে ডাক্তার বললেন, ওর জরায়ুতে সিস্ট আছে। আরেকজন ডাক্তার আসল বলল, রক্তে সমস্যা।বড় ডাক্তার মেডামকে কল দেয়া হলো উনি অপারেশনে পরে আসবেন। পরে আর উনার আসা হলোনা।
সিন্থিয়া তখন কলিমা পড়ছে ওর অবস্তা আরো খারাফের দিকে গেল। আমি আম্মা খুব কাঁদছি। ওকে নড়ানো যাবেনা নড়ালে ও খুব ব্যাথা পায়।

সিন্থিয়াকে যখন নিয়ে আসছিলাম, নিচে এসে দেখলাম সেই বড় ডাক্তার মেডামকে। ৫০ বছর হবে মহিলার। অথচ কী পরিপাটি সাজ। লাল লিপস্টিক, মেরুন কালার শাড়ি, খোপায় বেলি ফুল। হসপিটালের সামনে পেন্ডেল বাধা দুর্গা পূজার প্রোগ্রাম আজ। বড্ড ইচ্ছে হচ্চিলো কাছে গিয়ে বলি আপনাকে দারুণ লাগছে মেডাম। শাড়িতে আপনাকে হেব্বি দেখাচ্ছে। বলা হলোনা ততক্ষণে আমাদের গাড়ি এসে গেছে।

লেখক : সাংবাদিক




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: