সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জেলায় জেলায় মদের দোকান খুলবে সরকার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মদের চাহিদা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তাই জেলায় জেলায় সরকারি উদ্যোগে মদের দোকান ও বার খুলতে যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আবগারি দপ্তর।কথায় আছে, দুটি ব্যবসার কোনো মার নেই– ওষুধ এবং মাদক৷ দুটি বস্তুই যখন কারো দরকার হয়,না হলে চলে না। ফলে শিল্পহীন, চাকরিহীন, কর্মহীন পশ্চিমবঙ্গে অন্তত মদের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠছে প্রতি বছর, এটাই সরকারকে উৎসাহিত করার পক্ষে যথেষ্ট। এ কারণে সিদ্ধান্ত– সরকার মদের খুচরো বিক্রিতে নামবে।

এর আগে দেশি মদ এবং আইএমএফএল,অর্থাৎ ইন্ডিয়ান মেড ফরেন লিকার,যাকে চলতি কথায় ‘বিলিতি মদ’ বলা হয়,এই দুই ধরনের মদেরই বাণিজ্যিক সরবরাহের দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের হাতে নিয়েছিল।রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান,পানশালা এবং রেস্তোরাঁ,যেখানে মদ বিক্রি হয়,তাদের সবার লাইসেন্স নতুন করে নিতে হয়েছিল। এর পরের ধাপ ছিল চলতি বছরের জুলাইয়ে,এক হাজারেরও বেশি নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত, যা নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

কারণ,মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং পথ দুর্ঘটনা এড়াতে,সামগ্রিকভাবে দেশের সড়কগুলিকে অপরাধমুক্ত রাখতে কেন্দ্র সরকার ২০১৭ সালেই এক নতুন আইন করে জাতীয় সড়কের ১,৫০০ মিটার ব্যাসের মধ্যে মদের দোকান,পানাশালা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার লটারির মাধ্যমে মদের দোকানের লাইসেন্স বিলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেই বিধি-নিষেধ কার্যত আগ্রাহ্য করছিল।

তখন মমতা সরকারের যুক্তি ছিল, আশপাশের রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে মদের চোরা কারবার রুখতে, বেআইনি জাল মদের রমরমা ব্যবসা বন্ধ করতে এবং মদ্যপায়ীরা যাতে খাঁটি মদ পান, তা নিশ্চিত করতেই নতুন দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এবার সরকার নিজেই মদের ব্যবসায় নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় অবশ্য আসল কথাটি বলেছে।

বলেছে, মদের বিক্রি যে হারে বাড়ছে, সরকার এই খাতে রাজস্ব আদায় আরো বাড়াতে চায়। এবং সেই রাজস্ব আদায় করতে চায় সরাসরি, সরকারি মদের দোকান এবং পানশালার মাধ্যমে। এখন রাজ্যে প্রায় ৪,৫০০ বেসরকারি মদের দোকান, যার থেকে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। রাজ্যের আবগারি দপ্তরের অনুমান, সরকার সরাসরি মদের ব্যবসায় নামলে এই আদায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২০ হাজার কোটি হতে পারে৷

প্রাথমিক পর্যায়ে ঠিক হয়েছে, প্রায় ২,০০০ মদের দোকান এবং পানশালা খুলবে সরকার। জেলার সেইসব অঞ্চলে, যেখানে এখনো কোনো মদের দোকান নেই। এইসব দোকান চালাবে রাজ্য সরকারের বেভারেজ করপোরেশন, বা পানীয় নিগম।

কিন্তু মমতা ব্যানার্জি সরকারের এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়ে সঙ্গত কারণেই আপত্তি, অভিযোগ উঠছে৷ বিশেষত প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে যেখানে মদ্যপানের সমস্যা থেকে সমাজকে মুক্তি দিতে রাজস্ব ক্ষতি সত্ত্বেও মদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সরকার, গুজরাটে দীর্ঘদিন ধরেই মদ কেনা-বেচা নিষিদ্ধ, বিধিনিষেধ আরোপিত আছে মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যেও, মূলত জনস্বাস্থ্য রক্ষার খাতিরে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ হঠাৎ কেন শুঁড়িখানার ব্যবসায় নামল, সে প্রশ্ন উঠছে।

যেখানে আরও বেশি স্কুল-কলেজ দরকার, সুলভে চিকিৎসার সুযোগ দরকার, আরো বেশি সরকারি হাসপাতাল দরকার, সেখানে কেন মদের দোকানের সংখ্যা বাড়াতে মনোযোগী হলো সরকার?‌

সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: