সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুর্গাপূজায় কংস নারায়ণের রাজবাড়িতে অষ্টধাতুর প্রতিমা

নিউজ ডেস্ক:: শারদীয় দুর্গোৎসবের তীর্থস্থান রাজশাহীর তাহেরপুরে কংস নারায়ণ রায় বাহাদুরের রাজবাড়িতে বসানো হয়েছে অষ্টধাতুর দুর্গা প্রতিমা। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগমারা উপজেলায় অবস্থিত ৫৩৭ বছরের প্রাচীন মন্দিরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিমা বসিয়েছেন যুব ও ক্রীয়া প্রতিমন্ত্রী বিরেন শিকদার।

এরপর থেকেই ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন মন্দিরে। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় এই তীর্থস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা।

ইতিহাস বলছে, শক্তির উপাসনা করতে গিয়ে ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে এখানেই প্রথম দুর্গোৎসব আয়োজন করেন রাজা কংস নারায়ণ রায় বাহাদুর। এরপর তা ক্রমেই ভারতবর্ষে ছড়িয়ে যায়। এখন এই উৎসব সার্বজনীন রুপ নিয়েছে।

সনাতন ধর্মালম্বীরা জানিয়েছেন, প্রথম দুর্গোৎসবে রাজা কংস নারায়ণ ব্যয় করেছিলেন ৯ লাখ এক টাকা। এর ৫৩৭ বছর পর এবার সেখানে দুর্গোৎসব হচ্ছে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই অর্থ ব্যয় করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১ হাজার ৫০০ শতকের প্রথম দিকে কামদেব ভট্ট তাহেরপুরে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার উত্তরাধিকার সূত্রে রাজা হন কংস নারায়ণ। তিনি নিজেকে বিখ্যাত করার জন্য অশ্বমেধযজ্ঞ করার ঘোষণা দেন। তখন রাজপতি রমেশ শাস্ত্রী রাজাকে অকালবোধনের মাধ্যমে অসময়ে দুর্গাপূজা আয়োজনের পরামর্শ দেন।

রাবণ বধে রামের অকালবোধনের মাধ্যমে শরৎকালে দুর্গাপূজার বর্ণনা শুনে রাজা কংস নারায়ণও তা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। বাংলা ৮৮৭ সালের আশ্বিন মাসের মহাষষ্ঠী তিথিতে অকালবোধনের মাধ্যমে কংস নারায়ণ দেবী দুর্গার প্রতিমা গড়ে প্রথম দুর্গাপূজা করেন। এরপর থেকেই শরৎকালের দুর্গাপূজা ছড়িয়ে পড়ে সারা ভারতবর্ষে।

রাজা কংস নারায়ণ তাহেরপুরে পাশাপাশি গোবিন্দ মন্দির, শিব মন্দির, দূর্গা মাতা মন্দির এবং কালিমন্দির নামে চারটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরে রাজার বংশধররা ভারতে চলে গেলে ১৯৬৭ সালে রাজবাড়িসহ সব জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলা হয় তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজ। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে মন্দিরটি খুলে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। রাজার নির্মিত সেই চার মন্দিরে এখনও পূজা অর্চনা হচ্ছে।

মন্দির কমিটির সদস্য বিজয় চন্দ্র ভট্টাচার্য্য বলেন, তাহেরপুর থেকেই দুর্গাপূজার বিস্তৃতি লাভ করেছে। প্রথম দুর্গামন্দির হিসেবে তাহেরপুরের এই মন্দির জাতীয় দুর্গামন্দির ও তীর্থস্থান হিসেবে ঘোষণার দাবি রাখে। সরকার পদক্ষেপ নিলেই দেবী দুর্গার প্রথম আবির্ভাবস্থল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই মন্দির। তখন এটি বাংলাদেশের জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

মন্দির সংস্কার ও প্রতিমা তৈরির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএন ইঞ্জিনিয়ারিং- এর চেয়ারম্যান মুনিমুল হক জানান, ঢাকার ধামরাইয়ে ১২ জন কারিগর আট মাস ধরে প্রতিমা তৈরি করেছেন। ভারত থেকে আনা নকশার ওপরে কাজ করেছেন কারিগর। অষ্টধাতুর তৈরি দুর্গা প্রতিমার উচ্চতা ১০ ফিট। সব মিলিয়ে এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, এখানকার মন্দিরটিও ছিলো প্রাচীন এবং জরাজীর্ণ। কাঠামো ঠিক রেখে সেটি সংস্কার করা হয়েছে। এখানে ব্যয় হয়েছে প্রায় আট লাখ টাকার মতো। মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণের অংশ হিসেবে এই কাজ হচ্ছে।

রাজশাহী জেলা হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ট্রাস্ট্রি অনিল সরকার জানান, এই প্রতিমা উপ-মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং শ্রেষ্ঠ প্রতিমা। এ খবর ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্রই। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থী এখন থেকেই ভিড় শুরু করেছেন। এতে এখানে পর্যটনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক এ মন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তীর্থস্থান। প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন তাহেরপুরে। মন্দিরটির জাতীয় দুর্গামন্দির হিসেবে স্বীকৃতির জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। স্বীকৃতি পেলে ঐতিহাসিক এই মন্দির প্রাণ পাবে।

বিষয়টি মাথায় রেখেই সেখানে মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। তিনি জানান, সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রবিত্র এ স্থানটি পুরাকীর্তির অংশ। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি এখানে দৃষ্টিনন্দন মন্দির কমপ্লেক্স তৈরি করতে চান। এরই অংশ হিসেবে নিজ অর্থায়নেই প্রচীন মন্দিরটি সংস্কার করে অষ্টধাতুর প্রতিমা বসিয়েছেন। এতে প্রাচীন এই মন্দিরটি আরও সমৃদ্ধ হলো।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: