সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন: পুনরায় পেনশনের আওতায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীরা

নিউজ ডেস্ক:: শতভাগ পেনশন উত্তোলনকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পুনরায় পেনশনের আওতায় আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বা আগামীকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এটি ২০১৭ সালের পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী শতভাগ পেনশন সুবিধা উত্তোলন করেছেন, কেবল তারাই পুনরায় এই পেনশন সুবিধার আওতায় আসবেন। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবসরের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৫ বছর। প্রাথমিকভাবে এ সুবিধার আওতায় আসবে প্রায় ২০ হাজার জন। এক বছর আগ থেকে এ সুবিধা দেয়ায় পেনশনের পাশাপাশি তাদের একটি করে ইনক্রিমেন্টও দেয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ পেনশন উত্তোলনকারীদের ফের পেনশনের আওতায় আনার প্রস্তাবটি প্রথমে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনুমোদন করেন।

অনুমোদিত প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা কোনো দাবি করতে অপরাগ। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে তাদের অতিরিক্ত পেনশন দেয়া যেতে পারে।’ এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি পেশ করা হয়। সম্প্রতি প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমোদন হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এসেছে।

জানতে চাইলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান রোববার বলেন, অবসরের পনেরো বছর পার হয়েছে শতভাগ পেনশন উত্তোলনকারীদের পুনরায় পেনশন অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়ে থাকলে এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা সম্ভব। কারণ প্রধানমন্ত্রী সবকিছুই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন। এ উদ্যোগ যাদের জন্য তারা বেশি খুশি হবেন।

সূত্র মতে, আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এই পেনশন সুবিধা চালু করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতি ও নিয়ম অনুসরণ করে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের নতুন পেনশন সুবিধাদি নির্ধারণ করা হবে। তবে ২০১৭ সালের পহেলা জুলাইয়ের আগে কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে না অবসরপ্রাপ্তদের।

আরও জানা গেছে, ১৯৯৪ সাল থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘শতভাগ’ পেনশন বিক্রি বা সমর্পণ প্রথা চালু হয়। আর ২০১৭ সালের ৩০ জুন এ পদ্ধতি বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি একই বছরের পহেলা জুলাই থেকে পেনশনের ৫০ শতাংশ সরকারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণের বিধান চালু করা হয়। দীর্ঘ ২৩ বছরে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পেনশনের একশ’ ভাগ টাকা তুলে নিয়ে অবসরে গেছেন। বর্তমানে এসব চাকরিজীবী বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী দুটি উৎসব বোনাস, বাংলা নববর্ষ ভাতা ও মাসিক চিকিৎসা ভাতা পাচ্ছেন।

আরও জানা গেছে, শতভাগ পেনশন উত্তোলনের পর পনেরো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে- এমন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বর্তমান ১৯ হাজার ৫৩৮ জন। এই প্রস্তাবটি ২০১৭ সালের পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর করা হলে তাদের পেনশন বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা। বিদ্যমান পেনশন পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে পেনশন সুবিধাভোগীরা ইনিক্রিমেন্ট পাচ্ছেন। ফলে ওই হিসাবে প্রস্তাবিত সুবিধার আওতায় ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পাবেন সংশ্লিষ্টরা।

এজন্য সরকারের আরও অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা। ফলে এ সুবিধা দিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১৪৫ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শতভাগ পেনশন উত্তোলনকারীদের অনেকে পেনশনের অর্থ বিভিন্নভাবে নষ্ট করে ফেলছেন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কেউ কেউ। আবার জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন অনেকে। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে প্রতারিত ও প্রলোভনে পড়ে প্রাপ্য অর্থ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ফলে পেনশনের অর্থ অনেকেই ধরে রাখতে পারেননি। ফলে তাদের অনেকে চরম আর্থিক দৈন্যে পড়ে আশ্রয় নিয়েছেন নিজের সন্তান এবং বৃদ্ধাশ্রমে। সরকারি চাকরিজীবী হওয়া, বয়স ও স্বাস্থ্যগত কারণে অনেকে অন্য কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বন্ধুদের মাসিক সাহায্যের ওপর বেঁচে আছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী (অবসরপ্রাপ্ত) এজেডএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০০৩ সালে তিনি শতভাগ পেনশন উত্তোলন করে এলপিআরে চলে আসেন। আজকের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনেক বড় সুবিধা এবং ভালো খবর।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা সহায়তা পেলেও পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত অসচ্ছল চাকরিজীবীরা এ ধরনের কোনো কর্মসূচিতে নেই।

ফলে তারা এক যন্ত্রণাময় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদে আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সূত্র জানায়, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের নতুন করে পেনশনের আওতায় আনার ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রবৃদ্ধি, বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান) প্রধান করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দুটি সুপারিশ করে।

এর মধ্যে প্রথম সুপারিশ হচ্ছে ‘শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় কমিটি তাদের পেনশন পুনঃস্থাপনের আবেদন যৌক্তিক ও বিবেচনাযোগ্য মনে করে।’ দ্বিতীয় সুপারিশে বলা হয়, ‘গৃহীত এককালীন পেনশনের অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী সরকারি চাকরিজীবীদের চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১৫ বছর সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর পেনশন পুনঃস্থাপন করা যেতে পারে।’

কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘শতভাগ পেনশন উত্তোলনকারী এককালীন অর্থ গ্রহণ করায় যে সুবিধা পেয়েছেন, সময়ের হিসাবে তা সমন্বয় হতে ১৫ বছর প্রয়োজন। অপরদিকে পেনশনভোগীরা মাসে মাসে টাকা পেয়েছেন।

প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের পেনশনের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। ফলে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের গ্রহীত অতিরিক্ত অর্থ ৮ বছর ৪ মাসের মধ্যে সমন্বয় হলেও সময় ও বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়ায় চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১৫ বছর সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর পেনশন পুনঃস্থাপন যুক্তিযুক্ত হবে।’




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: