সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নির্বাচনকালীন সরকারে কারা থাকবেন

নিউজ ডেস্ক:: রাজনীতিতে এখন জোট-মহাজোটের রাজনীতি ছাড়াও বেশ জোরেশোরে আলোচনা চলছে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে। সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠানের ঘোষণা এই আলোচনায় এনেছে নতুন গতি। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী মহলের সর্বত্রই এই ইস্যুতে আলোচনা চলছে, কারা থাকবেন এই সরকারে— সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সদস্য, না এর বাইরের কেউ সুযোগ পাবেন। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি বর্তমান সংসদে না থাকায় তাদের এই সরকারে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, বিএনপি সংসদে না থাকায় নির্বাচনকালীন সরকারে তাদের থাকার সুযোগ নেই।

নির্বাচনকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে এ মাসেই। আগামী ২১ অক্টোবর দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল বৃহস্পতিবার এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে চলতি অধিবেশনই গঠন হবে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ছোট পরিসরের নির্বাচনকালীন সরকার। সূত্র মতে, সর্বসাকুল্যে অধিবেশনের মেয়াদ ৩ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৫ দিন হতে পারে। চলতি মাসের ৩১ অক্টোবরের আগে এ সরকার গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা দেবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকালীন ছোট সরকারের প্রধান থাকছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হবেন। তবে কারা ওই সরকারের মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পাবেন সেটি একান্তই সংসদ নেতার এখতিয়ার। এজন্য সংসদে কোনো বিল আনা কিংবা আলোচনারও প্রয়োজন হবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের পরিসর হবে খুবই ছোট। সংসদ না থাকায় এমপিদের কোনো ক্ষমতা থাকবে না। তবে মন্ত্রীরা রুটিন ওয়ার্ক কাজ করবেন। এই ব্যবস্থাতেই নির্বাচন হবে। এটাই আমাদের সংবিধানের নিয়ম। ওই সরকারের সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৫ সদস্যের বেশি হবে না বলেও জানান তিনি। একই ইঙ্গিত দিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

সংসদের অধিবেশনে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় সরকারের পরিসর ছোট করা হবে। সরকার নির্বাচনের সময়ে শুধু রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে না। আর জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে গিয়ে প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল থেকেই এই সরকারের সদস্য নির্বাচিত হবে।

এদিকে, নির্বাচনকালীন সরকারে কোন রাজনৈতিক দল থেকে কাদের ঠাঁই হবে— এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জাসদÑ এ তিন রাজনৈতিক দলের মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে প্রতিনিধি বাছাই নিয়ে বেশি আলোচনা চলছে। কারণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্যদের মধ্যে সবাই এ সরকারের থাকবে এ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী ছোট মন্ত্রিসভায় চমক হিসেবে আলোচনায় নেই কিংবা তার আস্থাভাজন এমন কাউকে স্থান দিতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রভাবশালী দু-একজন বাদও পড়তে পারেন। এদিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া মোস্তাফা জব্বার। একইভাবে জাসদে হাসানুল হক ইনুকে রাখা হলেও সেখানে নিজেকে যোগ্য হিসেবে ঢুকতে মরিয়া মঈনউদ্দীন খান বাদল এমপি।

আর জাতীয় পার্টির দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে। এরশাদ ও রওশনপন্থী নিয়ে রয়েছে চরম বিপাকে ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান। এরশাদ চান তার অনুসারী হিসেবে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ ও জিয়া উদ্দিন বাবলুকে ওই সরকারে ঢোকাতে। তবে সরকারের পছন্দ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী হওয়ার তাকে কোন ফরমেটে রাখা যায় সরকারে এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ। অপরদিকে, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ তার আস্থাভাজন হিসেবে ওই সরকারে দেখতে চান ফখরুল ইমাম এমপিকে। এর আগে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছেন হঠাৎ আলোচনায় এসে বিরোধী দলীয় নেতার আসন পাওয়া সাবেক ফার্স্টলেডি।

এছাড়া জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে এ মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংবিধানে যা আছে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। কারো মতে, এটি একেবারেই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যাকে ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা এই সরকারে রাখতে পারেন। সংসদের কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচনকালীন সরকারের অনুমোদন সংসদ থেকে নেওয়া হতে পারে। তবে এখনো এটি গঠন বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ে কোনো ধরনের বিল পাঠানো হয়নি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী একটি সরকার থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে আরেকটি সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। আর নির্বাচনের সময় আগের নির্বাচিত সরকারই তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। এই দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় যে বিধান, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই। এর অর্থ হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় সরকার যেভাবে দায়িত্ব পালন করে, জাতীয় নির্বাচনের সময়ও বিদ্যমান সরকারই স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করে যাবে। তারা বলেন, নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সরকারের কর্তব্য হবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সহায়তা করা।

সংবিধানের বিধান অনুসারে, বিদ্যমান সরকার ক্ষমতায় থাকতেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে গেলেও সরকারের ওপর তার প্রভাব পড়বে না। সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই অযোগ্য করিবে না’। সংবিধানের ৫৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকিলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে; তবে এই পরিচ্ছেদের বিধানাবলি-সাপেক্ষে তাহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাহারা স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, চলতি অধিবেশনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে। এরই মধ্যে অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন না কিন্তু খণ্ডকালীন সরকার প্রধান হিসেবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

আইনজ্ঞ স ম রেজাউল করিম বলেন, সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো বিধান নেই। নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকার স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। নির্বাচনের সময় সরকারের আকার ছোট করতে হবে এমন কোনো বিধান নেই জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে সেটি করতে পারেন। এতে সংবিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। অভিন্ন মত দেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: