সর্বশেষ আপডেট : ৩৬ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইইউয়ের কূটনীতিকদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:: ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর কূটনীতিকদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ইইউ-বাংলাদেশ ফোর্থ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ’ -এ বাণিজ্যমন্ত্রী কূটনীতিকদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া জানান।

বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বাধা ও সমস্যা দূর করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের মধ্যে চতুর্থ সংলাপ শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়। বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংলাপে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত রেনিসি তেরিংকসহ নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ আটটি দেশের রাষ্ট্রদূত, জার্মানীর কূটনীতিক এবং ইইউ বিজনেস সেক্টরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর পৌঁনে ১২টায় এই সংলাপ শেষ হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেষ করার আগে তাদের বলেছি- এটা নির্বাচনের বছর, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হবে। ক্ষমতাশীন দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। সরকারের আয়তন হয়তো ছোট হতে পারে, এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। সেই ম্যাসেজটি আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দিয়েছি।’

ইইউ’র কাছে ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা চায় বাংলাদেশ :

উন্নয়শীল দেশে উন্নীতের পর বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে সংলাপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ।

বৈঠকে পাঁচটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আলোচন ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের ভাল সিদ্ধান্তের কারণে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমরা বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছি। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হলেও আমরা ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তিরত হব। ২০২৭ সাল পর্যন্ত আমরা স্বলোন্নত দেশের সুবিধা পাব।’

তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমাদের রফতানি ২১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমাদের আমদানি হল ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আমরা ভারত-বাংলাদেশের ট্রেড গ্যাপ নিয়ে আলোচনা করি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বাংলাদেশে কত বড় ট্রেড গ্যাপ। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমারা ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্বাভাবিক করবো, এটাই প্রত্যাশা। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগকে আমরা এখানে উৎসাহিত করব। আমারা তাদের সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেব।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমরা ১০০টি ইকনোমিক জোন করেছি, সেখানে তারা বিনিয়োগ করতে চায়। সেখানেও তাদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। বড় যে বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি- আমরা যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়শীল দেশে রূপান্তরিত হবো, তখন যেন আমাদের জিএসপি সুবিধাটা ভিন্ন ফর্মে বলবৎ থাকে, জিএসপি প্লাসের মতো। যেটা তারা শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে দিয়েছে। সেই ব্যাপারে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাব। প্রতি ছয় মাস অন্তর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বৈষম্য তুলে ধরে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পাঁচটি ওয়ার্কিং গ্রুপ যারা বাণিজ্য ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কাজ করছে তাদের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা কাস্টমস, ট্যাক্স, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্লোজ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করছি। এটা একটা বড় বিষয়। এ বিষয়ে আজকে অগ্রগতি হয়েছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইইউ দেশগুলোতে ২১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়, যা মোট রফতানির প্রায় ৫২ শতাংশ। বাংলাদেশ ইইউভুক্ত দেশে অস্ত্র ছাড়া বাকি সব পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা ভোগ করছে। তবে ইইউভুক্ত দেশগুলোর যেসব কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যবসা করছে তারা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সেইসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে গত মে মাসে ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২০১৬ সালের ২২ মে প্রথম ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ হয়। ওই ডায়ালগে ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট বিষয় ও সেক্টরভিত্তিক পাঁচটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। কাস্টমস, ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্যাক্স, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্লোস এবং বিনিয়োগ বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উপায় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের আলোকে ইতোমধ্যে তিনটি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: