সর্বশেষ আপডেট : ২৭ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::  মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সদ্য জাতীয়করণ করা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষককে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের সুবিধার আওতায় আনতে নিয়োগের তারিখ ও ঠিকানা কাগজপত্রে বদলে ফেলা হয়েছে। উপজেলার রহমানিয়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে এসব শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব নিয়োগে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অনেকেই মুখ খুলতে রাজি হননি।
সংশ্নিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া নথি বিশ্নেষণ করে জানা যায়, গত বছর তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ হওয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ২০০৪ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়া বড়লেখা উপজেলার বেসরকারি রহমানিয়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয় জাতীয়করণের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্যে ওই প্রতিষ্ঠানে চারজন শিক্ষক কর্মরত থাকার কথা জানানো হয়। কিন্তু যেসব শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের জন্য মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে তারিখ ও ঠিকানায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ওই তিন শিক্ষক হচ্ছেন রোমেনা আক্তার, রত্না দেবনাথ ও রুজিনা আক্তার।
নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোমেনা আক্তার ও রত্না দেবনাথকে স্কুলে নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০০৪ সালে। আর রুজিনা আক্তারকে দেখানো হয়েছে ২০১১ সালে। কিন্তু তাদের কেউই ২০১১ সালের আগে এ এলাকায় অবস্থান করতেন না। তিনজনই অন্য উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। এর মধ্যে রুজিনা আক্তার চট্টগ্রাম বিভাগের স্থায়ী বাসিন্দা।
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, ২০০৪ সালে বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেখানো রোমেনা আক্তার রহমানিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলামের স্ত্রী। তাদের স্থায়ী ঠিকানা কুলাউড়া উপজেলায়। নজরুল ইসলাম ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম ২০০৪ সালে এই বাগানে কর্মরত ছিলেন না। তিনি এ বাগানে যোগদান করেন ২০১১ সালে। একইভাবে নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে ২০০৪ সালে নিয়োগ দেখানো হয় রত্না দেবনাথকে। রত্না দেবনাথ ওই বাগানে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) পদে চাকরিতে যোগদান করেন ২০০৯ সালে। বর্তমানেও তিনি বাগানের মিডওয়াইফ পদেই চাকরিতে আছেন। তার স্বামীর বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। অন্যদিকে রুজিনা আক্তার নামের আরেকজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার ঠিকানা দেখানো হয়েছে বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের মুর্শিবাদকুরা গ্রামে।
চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে পৌরশহরের এমএইচএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের নাম উঠে এসেছে। মাকসুদুর রহমান প্রথম ধাপে জাতীয়করণ করা এমএইচএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ লাভ করেন। প্রসঙ্গত, স্থায়ী ঠিকানা গোপন রেখে রহমানিয়া চা বাগানে নিয়োগ দেখানো রুজিনা আক্তার মাকসুদুর রহমানের ছোট বোন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও চা বাগানের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালে আমি বাগানে যোগদান করি। স্কুলটি আমার মিসেস দেখতেন। ২০১৫ সালে এমএইচএস স্কুলের মাকসুদ স্যার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিগার সুলতানকে নিয়ে আসেন। তখন মাকসুদ স্যার স্কুল দেখিয়ে তাদের বলেন, স্কুলের কাগজপত্র রেডি করি। তারা সম্মতি দেন। এরপর মাকসুদ স্যার সব কাগজপত্র রেডি করে আমার স্বাক্ষর নেন। উনার বোনকে চাকরি দেওয়ার জন্যই এসব প্রসেসিং করেন। পরে বুঝতে পারি, এখানে তথ্য জালিয়াতি করেছেন মাকসুদ স্যার।’
জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে এমএইচএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘কাগজ আমি প্রসেসিং করেছি, ঠিক আছে। ম্যানেজারের স্ত্রীর চাকরি জন্য এটা করেছি। এ ছাড়া আমার বোনের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। আমি মুক্তিযোদ্ধার নাতি। মুক্তিযোদ্ধার নাতি হিসেবে দেশের যে কোনো জায়গায় আবেদন করে চাকরি করা যায়। এটা সরকার স্বীকৃত।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিজ মিয়া বলেন, ‘অভিযোগ পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও প্রতারণামূলক কাজের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র : দৈনিক সমকাল




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: