সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পিতার আশঙ্কা: সুনাম হত্যা মামলার আসামিরা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে

ফেঞ্চুগঞ্জের সুনাম হত্যা মামলার আসামিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা করছে বলে এমন আশঙ্কা করছেন নিহতের পিতা উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামের আব্দুল আহাদ লেচু মিয়া। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করে তার ছেলে হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে লেচু মিয়া বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শিব্বিরের সাথে আমার জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে মারামারিও হয়। এসব নিয়ে শিব্বির মামলা দিয়ে আমাদেরকে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করেছে। এছাড়া গত মার্চে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার বড় ছেলে আকসার মিয়া ইউপি সদস্য হিসেবে ৯ নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যায়। আমার বড় ছেলের প্রতিদ্বন্দ্বীতার ব্যাপারটি ভালভাবে মেনে নিতে পারেনি শিব্বির। নির্বাচনের পরদিনই প্রকাশ্যে আমার পরিবারের ২/১ জনকে হত্যার হুমকি দেয়। ওই নির্বাচনে সুনাম তার ভাইয়ের পক্ষে গণসংযোগ করেছে। ভোট চাইতে মানুষের দোয়ারে দোয়ারে গেছে। এছাড়া শিব্বিরের বোনের সাথে সুনামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনার জের ধরে সুনামের মাকে রাস্তায় পেয়ে শিব্বির হুমকী দিয়ে বলে-তোমার ছেলেকে ঠিক করে ফেলো নয়তো তাকে ছাড়বো না, পরে পস্তাতে হবে।

লেচু মিয়া বলেন, গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যারাতে শিব্বির মেম্বারের বড় ছেলে নাসিম সুনামকে বাজারে যাওয়ার জন্য ডাকে। সে না যাওয়ায় পরে শিব্বিরের ছোট ছেলে তানিম সুনামকে ডেকে নিয়ে যায়। কেননা তানিম সুনামের সমবয়সী ছিল। ওই রাতে সে আর বাড়ি ফিরেনি। আমরা তার অনেক খোজ করেও পাইনি। ২৫ আগস্ট ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ডাকবাংলা এলাকায় পরিত্যাক্ত ঘর থেকে সুনাম মিয়ার লাশ পাওয়া যায়। আমাদের ধারণা ডাকবাংলায় নেওয়ার পর শিব্বির ও তার ছেলেদের সহযোগীরা মিলে সুনামকে হত্যা করে। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর সাটারিংয়ের শ্রমিকরা মালামাল বের করতে গিয়ে আমার ছেলের লাশ দেখতে পান। খুনীরা তার মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শ্বাসরুদ্ধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে আমার স্ত্রী গিয়ে সন্তানের লাশ সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় শিব্বির এবং তার ভাই ও ছেলেসহ ৫ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করি। মামলায় আসামিরা হলেন, পিঠাইটিকর গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে শিব্বির আহমদ ও জুবায়ের আহমদ, শিব্বিরের ছেলে টুনু মিয়া, নাসিম মিয়া, তানিম মিয়া ও আব্দুস শহীদ দুলু মিয়ার ছেলে রিমন মিয়া। মামলার পর ডাকবাংলার ভূমি অফিসের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় সনাক্তের মাধ্যমে সুনাম হত্যাকান্ডে জড়িত অজ্ঞাতদের মধ্য থেকে শামসুজ্জামান শিমুল নামে এক ঘাতককে গ্রেফতার করে পুলিশ। খুনের ঘটনায় শিমুল আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতেও হত্যাকা-ের ঘটনায় শিব্বির ও তার ছেলে এবং সহযোগীরা জড়িত থাকার কথা বলে। তিনি বলেন, শিব্বিরসহ এজাহার নামীয় ৫ আসামি ঘটনা পর থেকে পলাতক রয়েছেন। পুলিশও তাদের খোঁজে পাচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। এরইমধ্যে পাসপোর্ট ঠিক করে নিয়েছে তারা। সংবাদ সম্মেলনে সুনাম মিয়ার হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান লেচু মিয়া। সংবাদ সম্মেলনে সুনাম মিয়ার মা কাজল বেগম, ভাই আকছার মিয়া ও ভাতিজা মো. ছিদ্দিক আহমদ উপস্থিত ছিলেন।  – বিজ্ঞপ্তি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: