সর্বশেষ আপডেট : ৫৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কঙ্কাল থেকে গাছের জন্ম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে গ্রিকদের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তুর্কিদের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই লড়াইয়ে মারা যান আহমেত হারগিউন। কিন্তু তার মৃত্যুর কথা জানা গেল এতো বছর পর।

সেই সময়ের যুদ্ধে ২ লাখ মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছিলেন। খোঁজ মেলেনি হাজারো লোকের। আহমেতও নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন। এতো দিনে তার মৃত্যুর খবর দিল পাহাড়ের গায়ে ডালপালা মেলে গজিয়ে ওঠা এক ডুমুর গাছ।

২০১১ সালে এক গবেষকের চোখে পড়েছিল গাছটিতে। পাহাড়ের গুহায় এ রকম একটি গাছ দেখে চমকে যান তিনি। কারণ, পাহাড়ি এলাকায় ডুমুর গাছ সাধারণত দেখা যায় না। খোঁজ শুরু করেন তিনি। লোকজন ডেকে গাছের চারপাশে মাটি খুঁড়তে শুরু করেন। আর এতে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। গাছের ঠিক নিচে চাপা পড়ে কঙ্কাল। একটু পাশে আরো দুটি দেহাবশেষ।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, মারা যাওয়ার আগে হয়তো ডুমুর খেয়েছিলেন আহমেত। মৃতদেহের পাকস্থলিতে থেকে যাওয়া ডুমুরের বীজই জন্ম দেয় এই গাছের।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আহমেত-সহ তিনটি লোককে গুহায় আটকে রেখে ডিনামাইট ফাটিয়ে খুন করেছিল প্রতিপক্ষরা। ডিনামাইটে বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল গুহার উল্টো দিকের দেওয়ালে। সেখান দিয়ে বন্যার পানি ঢোকে গুহায়। সূর্যের আলোও এসে পড়েছিল গুহার ভিতরে। পানি-আলো পেয়ে আহমেতের পেটে থাকা বীজ থেকে জন্ম নেয় চারাগাছ।

কঙ্কালটি যে আহমেতের তা জানা যায় আরো এক দল বিশেষজ্ঞের সৌজন্যে। দেহাবশেষ তিনটি মিলতেই তাদের খোঁজ শুরু করেছিলেন। ১৯৬৩-১৯৭৪ সালে গ্রিস ও তুরস্কের যুদ্ধে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল প্রায় দুইহাজার মানুষ। তাদের সন্ধানে ১৯৮১ সালে তৈরি হয়েছিল ‘দ্য কমিটি অন মিসিং পার্সনস ইন সাইপ্রাস’। নিখোঁজদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। পরিবারের থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির বর্ণনা নেয়া হয়। যেমন, শেষ দেখার সময়ে তিনি কী পরে ছিলেন ইত্যাদি। বাড়ির লোকেদের থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সেই সব মিলিয়েই জানা যায়, ওই গাছের জন্ম দিয়েছেন যে তিনি আরও কেউ নয় আহমত।

আহমেতের বোন মুনুর এখন ৮৭ বছরের বৃদ্ধা। বললেন, ‘আমাদের গ্রামে চার হাজার লোকের বাস ছিল। অর্ধেক গ্রিক, অর্ধেক তুর্কি। ’৭৪ সালে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়। আহমেত তুর্কিদের দলে যোগ দিয়েছিল। দিনটা মনে আছে। ১০ জুন। ভাইকে তুলে নিয়ে যায় গ্রিকরা। আর সন্ধান মেলেনি ওঁর। বছরের পর বছর খুঁজেছি। কিন্তু এ ভাবেও খোঁজ পাওয়া যায়! ভাবিনি।’







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: