সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাম কিডনি ফেলা হলো, ডানেরটা কোথায়!

নিউজ ডেস্ক:: কিডনি রোগে আক্রান্ত চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রফিক শিকদারের অভিযোগ– ‘তার মায়ের বাম কিডনিটি অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, মায়ের শরীরে ডানের কিডনিটিও নেই। এখন একদিন পর পর মায়ের ডায়ালায়সিস করতে হচ্ছে। অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে।’ মায়ের এমন পরিণতির জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তি দাবি করেন রফিক শিকদার। তবে বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলছেন, কিডনি কোনও কারণে নন-ফাংশনাল হলে সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে না।

চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদার বলেন, ‘আমার মায়ের বাম পাশের কিডনিতে ইনফেকশন ছিল। চিকিৎসকরা জানান, এটি ফেলে দিতে হবে। তখন আমার মায়ের ডানপাশের কিডনি ভালো ছিল। মায়ের ডায়াবেটিস নেই, হাই ব্লাডপ্রেশার নেই। সবকিছু মিলিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, তার বাম পাশের কিডনিটা ফেলে দিলে তিনি ভালো থাকবেন। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর মায়ের বাম কিডনিতে অস্ত্রোপচার করা হয়।’

অস্ত্রোপচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘অস্ত্রোপচারের পর মা হাসপাতালে ছিলেন।এসময় চিকিৎসকরা বলেন,আপনার মাকে আইসিইউতে নিতে হবে। তখন মায়ের জ্ঞান আছে, কথাও বলছে। আমি বললাম, তাকে দেখে তো মনে হচ্ছে না, আইসিইউতে নিতে হবে। এসময় চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বিএসএমএমইউতে আইসিইউ খালি না থাকায় মাকে মগবাজারের ইনসাফ কিডনি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। ওই হাসপাতালের প্রফেসর ছিলেন ফখরুল সাহেব। তিনি বললেন, আপনার মায়ের কিডনি কেন ফাংশন করছে না তা জানা দরকার। তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠালেন। সিটি স্ক্যানের পর ল্যাবএইডের চিকিৎসকরা বলেন, আগের কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে আপনার মায়ের বাম কিডনি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার পর দেখা যাচ্ছে ডানের কিডনিও নেই। কিডনিটা কোথায় গেল? ওটা কি ফেলে দেওয়া হয়েছে? আমি বললাম, তাতো জানি না!’

রফিক শিকদার বলেন,‘সব রিপোর্ট দেখার পর ইনসাফ হাসপাতালের চিকিৎসক ফখরুল স্যার মাকে আর তার হাসপাতালে রাখতে চাইলেন না। পরে মাকে আবার বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসলাম।সেখানকার চিকিৎসক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন,আমার হাসপাতালের আইসিইউ খালি নেই তা আমাকে ফোনে বলতে পারতো।কেন তাকে (রোগীকে) প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হলো? আমি বললাম, আপনার হাসপাতালে রাখলে কি লাভ হতো, যদি দুটি কিডনিই না থাকে?

তখন তিনি বলেন, আপনি কারও কথায় কান দিবেন না। আপনার মায়ের পেটে কিডনি আছে। কিন্তু ফাংশনাল না, দেখা যাবে না।’চলচ্চিত্র পরিচালক আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করলাম। তারা বলেন, দৃশ্যমান জিনিস পেটের মধ্যে থাকলে তা কাজ করুক বা না করুক দেখা যাবেই। আমি ল্যাবএইড হাসপাতালের রিপোর্টের ওপর ভরসা করলাম না। বিআরবি হাসপাতালে গেলাম, অধ্যাপক এম এ সামাদের কাছে। তিনিও আল্ট্রাসনোগ্রাম করে বললেন, আপনার মায়ের পেটে কিডনি নেই।’

বিএসএমএমইউ এর চিকিৎসা ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘এই রোগীর বাম দিকের কিডনির সমস্যা অনেক দিনের। ২০১৬ সালে তিনি বাম দিকের কিডনির অস্ত্রোপচার করেন। আমি তখন বিএসএমএমইউ এর প্রক্টর। তখন আমার ইউনিটে এসে তিনি ভর্তি ছিলেন। তিনি যখন পোস্ট অপারেটিভে ছিলেন তখন চিকিৎসকরা আমাকে জানান, স্যার রোগী ভালো আছেন। তবে পরে চিকিৎসকরা বলেন, স্যার রোগীর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তখন আমি বললাম, আইসিইউতে নাও। কিন্তু পরে শুনলাম রোগীকে ইনসাফে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন,‘‘আমরা বাম দিকের কিডনি অস্ত্রোপচার করেছি।ডান দিকের কিডনি নিতে চাইলে আমাকে ডান দিকের কিডনি অস্ত্রোপচার করতে হবে।আর আমি নিয়েই বা কি করবো? রফিক আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘স্যার আপনি চলে আসার পর কেউ কেটে নিয়েছে কিনা।’ কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব! আমি নিজে একজন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টার।আমি কিডনি নিয়ে কী করবো? এটা তো কোনও কাজে লাগবে না।’’

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে সরাসরি কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। তবে আমি রিপোর্ট দেখে একটি তদন্ত কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছি। শনিবার সকালেই এই তদন্ত কমিটিতে কারা থাকবে তার ঘোষণা দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে রফিক শিকদার বলেন,‘তদন্ত রিপোর্টের ব্যাপারে আমার কোনও বিশ্বাস নেই।আমি রবিবার আদালতে একটি রিট আবেদন করবো।মায়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার চাবো। প্রয়োজনে সেই চিকিৎসকের চিকিৎসা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার জন্য বলবো।







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: