সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সামনে ৫৭ পিছনে ৩২ মাঝে খনা

রাজিব বাবু:: অনেকেই শুনে থাকবেন খনার বচনের কথা। খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত। অনেকের মতে, খনা নাম্নী জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচনা এই ছড়াগুলো। তবে এ নিয়ে মতভেদ আছে। অজস্র খনার বচন যুগ-যুগান্তর ধরে গ্রাম বাংলার জন-জীবনের সাথে মিশে আছে। জনশ্রুতি আছে যে, খনার নিবাস ছিল অধুনা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসত সদর মহকুমার দেউলিয়া গ্রামে। অন্য একটি কিংবদন্তি অনুসারে তিনি ছিলেন সিংহলরাজের কন্যা।

আসলেই কি তার নাম খনা? না তার আসল নাম খনা নয়, তার আসল নাম লীলাবতী। খনা বলতে আমরা বুঝি যার জিহ্বা কেটে ফেলা হয়েছে এবং জিহ্বা কেটে ফেলায় সে আর কোন কথা বলতে পারে না। তাহলে কি বলা যায় খনার কথা বলতে পারতো না, তার জিহ্বার ছিলো না। হ্যাঁ, খনা কথা বলতে পারতো না এবং তার জিহ্বাও ছিলো না। ঠিক আছে, মানলাম। তাহলে খনার বচন আসলো কিভাবে?
হ্যাঁ, এবার আমি সেই প্রশ্নের উত্তরেই আসবো।

ধারণা করা হয়, বিক্রমপুরের রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজ সভার প্রখ্যাত জোতির্বিদ বরাহপুত্র মিহিরকে খনার (লীলাবতী) স্বামীরূপে পাওয়া যায়। কথিত আছে বরাহ তার পুত্রের জন্ম কোষ্ঠি গণনা করে পুত্রের আয়ূ এক বছর দেখতে পেয়ে শিশু পুত্র মিহিরকে একটি পাত্রে করে সমুদ্র জলে ভাসিয়ে দেন। পাত্রটি ভাসতে ভাসতে সিংহল দ্বীপে পৌছলে সিংহলরাজ শিশুটিকে লালন পালন করেন এবং পরে কন্যা খনার (লীলবতী) সাথে বিয়ে দেন। খনা (লীলাবতী) এবং মিহির দু’জনেই জ্যোতিষশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন। মিহির একসময় বিক্রমাদিত্যের সভাসদ হন। একদিন পিতা বরাহ এবং পুত্র মিহির আকাশের তারা গণনায় সমস্যায় পরলে, খনা এ সমস্যার সমাধান দিয়ে রাজা বিক্রমাদিত্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। গণনা করে খনার (লীলাবতী) দেওয়া পূর্বাভাস রাজ্যের কৃষকরা উপকৃত হতো বলে রাজা বিক্রমাদিত্য খনাকে (লীলাবতী) দশম রত্ন হিসেবে আখ্যা দেন।

কৃষকের উন্নতি সহ্য করতে না পেরে খনা (লীলাবতীর) এইসব জ্যোতিষশাস্ত্রীয় কথা ‘পূর্ব আষাঢ়ে দক্ষিণা বয়,
সেই বৎসর বন্যা হয়।’ ‘মঙ্গলে ঊষা বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা।’ ‘পাঁচ রবি মাসে পায়, ঝরা কিংবা খরায় যায়।’ ‘বেঙ ডাকে ঘন ঘন, শীঘ্র হবে বৃষ্টি জান।’ বন্ধ করার জন্য এবং রাজসভায় প্রতিপত্তি হারানোর ভয়ে প্রতিহিংসায় বরাহের আদেশে মিহির খনার জিহ্বা কেটে দেন। এরপর থেকে লালীবতীর নাম হয় খনা এবং তার বচনের নাম হয় খনার বচন। জিহ্বা কেটে দেওয়ার কিছুকাল পরে খনার মৃত্যু হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। এতে বহুল আলোচিত ৩২ ধারা বহাল রাখা হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের আওতাভুক্ত অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করিতে সহায়তা করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ৩২ (২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি উপধারা-১ এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুনঃ সংঘটন করেন, তাহা হইলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই ৩২ ধারা ছাড়াও ৫৭ ধারা তো আছেই।

এখন তো আর সেই সময় নেই যে মানুষের কথা বলার কিংবা কাহারো সত্য বলা বন্ধ করার জন্য খনার মত তার জিহ্বা কেটে নেওয়া হবে। এই ২১শতকের আধুনিক যুগে এটা কখনো মানায় না, এটা বর্বরতা। সেজন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস এবং পূর্বের ৫৭ ধারা, যাহাতে কাহারো কথা বন্ধ করতে খনার মত জিহ্বা কাটার প্রয়োজন না পড়ে। তাই বলা যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল এবং ৫৭ ধারা মানেই আধুনিক খনা।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: