সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নিদর্শন মৌলভীবাজার (২য় পর্ব)

মুবিন খান, মৌলভীবাজার:: বছর শেষে শীতের ছুটিতে কি আর মন কে যান্ত্রিক শহরের ধূলাবালিতে ঠিকিয়ে রাখা সম্ভব! ভবঘুরে মন তো চাইবেই সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিতে। প্রকৃতি প্রেমি এমন পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত রাজনগরের চা-বাগান, হাওর ও ঐতিহাসিক কিছু নিদর্শন। নিজের অশান্ত মনকে শান্ত করার চিন্তা যখন মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তখন ঘুরে আসতে পারেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ নিদর্শন মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায়।

রাজনগরে প্রতিটি ইউনিয়ন তার নিজস্ব রূপে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত। প্রতিটি ইউনিয়নে রয়েছে আলাদা আলাদা সৌন্দর্য। উত্তরে হাওর আর দক্ষিনে মনু নদী আর পূর্বে পাহাড়ের অবারিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরো উপজেলাকে সারা দেশের কাছে তুলে ধরেছে। চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলার ধারাবাহিক প্রতিবেদনে দ্বিতীয় পর্বে সকল তথ্য নিয়ে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলোর উপর।

মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজনগর উগজেলা। ইতিহাস থেকে জানা যায়, সিলেট বিভাগের অন্যান্য থানা থেকে রাজনগর প্রাচীন এবং এককালের নিজস্ব সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ রাজ্য ছিলো। প্রাচীনকাল থেকে রাজনগর শিল্প সমৃদ্ধ এলাকা।
ছোট ছোট চাঁ বাগান, উচু-নিচু পাহাড় টিলা, খাসিয়া পান পুঞ্জিসহ সবকিছু মিলিয়ে এক অপরূপ সৌন্দর্যের নিদর্শন রাজনগর উপজেলা। উপজেলায় রয়েছে ঐতিহাসিক দীঘি, মাজার, রাজনগর চাঁ বাগান, করিমপুর চাঁ বাগানসহ মোট ১৪ টি চা বাগান। মৌলভীবাজার শহর থেকে যেকোনো গাড়ি করে রাজনগর এসে চাঁ বাগানের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। রাজনগর বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কুলাউড়া সড়কে টেংরাবাজার ইউনিয়নে অবস্থিত রাজনগর চাঁ বাগান। রাজনগর চাঁ বাগানের পাশেই আবার মাতিউড়া চাঁ বাগান। এককথায় টেংরাবাজার থেকে কুলাউড়া সড়কে যত সামনে অগ্রসর হবে ততই শুধু চাঁ বাগানের সমারোহ। মন চাইবে মিশে যেতে চাঁয়ের সাড়িসাড়ি মিছিলে।

এসব পাহাড়ে শুধু চাঁ নয়, আছে সাড়িবদ্ধ রাবার গাছ। রাবার বাগানে প্রবেশ করলে প্রকৃতির মনোরম ছোয়ায় অশান্ত মন শান্ত হয়ে উঠবে নিমিষেই। পাহাড়ের মধ্যে শীতকালে ঝড়ে যাওয়া পাতার রাবার গাছ গুলো কতো আবেগময়ী হয় তা না দেখলে কখনোই বুঝা যাবেনা। এ যেনো তার আরেক রূপ। আর হলদে পাখির হঠাৎ ভিন্নধর্মী ডাক তো আছেই। কখন চমকে উঠবেন বুৃঝতেই পারবেন না। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে যেনো এক মায়াজালে আবদ্ধ করে নিজেকে। চাঁয়ের রাজ্য থেকে ফিরে এসে মুক্ত বাতাসের উদ্দেশ্যে যেতে পারেন উপজেলার সাগরদীঘির পারে। রাজনগর উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তর দিকে রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের উত্তর পাশে এ দীঘির অবস্থান। প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে রাজ রাজন্যের বসবাস ছিল বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। কথিত আছে রাজ পরিবারের মধ্যে শেষ বংশধর হিসেবে রাজা সুবিদ নারায়ণের এ মহান কীর্তি এখনও কালের সাক্ষী হয়েই দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। রাজা সুবিদ নারায়ন রেখে যান নি রাজ প্রাসাদ অথবা রাজ বাড়ি। তবে, রেখে গেছেন ঐতিহাসিক এক দীঘি। কেউ বলেন সাগরদীঘি আবার কেউ বা বলেন কমলারাণীর দীঘি। সুবিদ নারায়ণের স্ত্রী কমলা রানীর নামেই এই দীঘিটি সমধিক প্রচারিত। তবে রাজনগর কলেজপয়েন্ট থেকে শুরু করে কুলাউড়া সড়কে উপজেলার শেষ সিমানা পর্যন্ত ভাঙা রাস্তা। চালকরা বলছেন সেই ভাঙা রাস্তা কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা পর্যন্ত বিদ্ধমান। তবে বর্তমানে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হলেও কখন তা আলোর মূখ দেখবে জানেনা কেউ।
তারপর উপজেলাশহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ফেঞ্জুগঞ্জ সড়কে মুন্সিবাজার ইউনিয়নের পাশে আবস্থিত করিমপুর চাঁ বাগান। উচু টিলার
উপর থেকে নিচের ছোটছোট ঘরবাড়ি দেখলে মনে হয় রাঙামাটির সাজেক পাহাড়ে বসে আছি। পাহাড়ে এসব চা পাতার সমারোহ একদিনে দেখে শেষ করার মতো নয়। মুন্সিবাজার পাড়ি দিয়ে উত্তরভাগ ইউনিয়নে প্রবেশ করলে পাওয়া যাবে ইন্দানগর চাঁ বাগান। সেখানে রয়েছে খাসিয়া পান পুঞ্জি।

উপজেলা থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ফতেপুর ইউনিয়নে অবস্থিত কাওয়াদীঘি হাওর। হাওরের নয়নাভিরাম জলাভূমিতে হাজারও শাপলা আর পদ্মফুল ফুঁটে। বিলের পানির উপর ঘুরে বেড়ায় ফড়িং। সকাল বিকাল চলে রঙিন ফড়িংয়ের বিরতিহীন শোভাযাত্রা। বৃষ্টিহীন উষ্ণ দিনে বিলে ফুলের পাশে আসে রঙিন প্রজাপতির দল। জীববৈচিত্র ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর কাওয়াদীঘি হাওর জলজ সম্পদের অমূল্য ভান্ডার। বিলের পানিতে ফোটা হাজারো পানা, শাপলা, পদ্ম আর নীলপদ্ম শোভিত মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক শোভা দেখে পর্যটক ও প্রকৃতিপিপাসুরা বিমোহিত হন। অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত এ বিল এখন আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হচ্ছে।
তাছাড়া শীত মৌসুমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আগমন ঘটে লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির। তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে কাউয়াদীঘি ও করাইয়ার হাওর। পর্যকটদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় স্থান।

ইতিহাস থেকে আরো জানাযায়, রাজনগরে রয়েছে অনেক প্রাচীন রাজবাড়ি। মনসুরনগর ও বালি দীঘির পাড়ে সুবিদ নারায়নের বংশরধরদের বাড়ী পর্যটকরা ঘুরে আসতে পারেন। কালের বিবর্তনে যদিও এগুলো আজ মৃত প্রায়।
রাজনগর সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি আহমাদ উর রহমান ইমরান বলেন, সিলেটের একমাত্র স্থান রাজনগর অঞ্চল যেখানে অনেক প্রাচিন নিদর্শন রয়েছে। কুমিল্লার ময়নামতিসহ প্রত্মতাত্তিক আবিষ্কারে আমরা অহংকার বোধ করি। কিন্তু আমাদের পাশে অনেকগুলো প্রাচীন প্রত্মতাত্তিক নিদর্শন বিদ্যমান। রাজনগরের প্রাচীন নিদর্শন সমূহকে সরকার প্রতœতাত্তিক স্থান ঘোষনা করে সংস্কার করা উচিৎ। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের জীবন যাত্রার মান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

আগামী পর্বে থাকছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পর্যটন নিয়ে প্রতিবেদন…




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: