সর্বশেষ আপডেট : ৩১ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে আমার ভাবনা

মো: জুয়েল আহমেদ:: প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মূল ভিত্তি। প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষা জীবনের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় আবার রয়েছে বিভিন্ন পর্যায়, যেমন- শিশুদের পারিবারিক প্রারম্বিক শিক্ষা, নার্সারী পর্যায়ে (কেজি স্কুল) শিক্ষা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষা। আমি এখানে শুধুমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে শিক্ষাদান করা হয় সেই পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়ন বা পরিবর্তন ঘটেছে তা নিয়ে আমার ভাবনা উপস্থাপন করব। শিক্ষার মৌলিক পাঠদান সেটা প্রাথমিকেই হয়। তাকে মৌলিক অক্ষর-জ্ঞানের পাশাপাশি এই সময়ে ন্যায়নীতি, সততা, আদর্শ, সমাজনীতি, চরিত্র গঠন, দেশপ্রেম সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এর প্রারম্ভিক পর্ব যদিও পরিবারে, তবে প্রারম্ভিকতার ভিত্তি স্থায়ী হয় শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে। শিক্ষককে ভক্তি-শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে তারা বড়দের ভক্তি-শ্রদ্ধা করতে শেখে।

আমাদের শিক্ষায় এখন অনেক সাফল্য। সরকারের পাশাপাশি নানা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে । আজকাল গ্রামাঞ্চলে পর্যন্ত বিভিন্ন ট্রাস্ট ও সংস্থা প্রতি বছর প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে নানা ভাবে তাদের পড়াশুনা ও মেধা বিকাশে সহযোগিতা করা এদের উদ্দেশ্য । আমাদের সমাজে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি আছেন । এরাও নিজেদের উদ্যোগে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন ভাবে কাজ করেন ।

এ সব কারণে আমাদের সন্তানদের স্কুলগামীতা বহু গুণে বেড়েছে । কমেছে ঝরে পড়ার হার । সবার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে শিক্ষার দ্বার । আজ আর স্কুল বয়সী ছেলে মেয়েদের স্কুলের বাইরে দেখা যায় না । বিশেষ করে আমাদের নারী শিক্ষায় যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে, তা আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বড় ইতিবাচক দিক। সরকারের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, উপবৃত্তি চালু করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন, অধিক সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ইত্যাদি কারণে শিক্ষায় এ সব সাফল্য । অনেক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা এ সবের সুযোগ নিয়ে পড়াশুনায় অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে ।
তাই, আমাদের শিক্ষা নিয়ে ভাববার এখন উপযুক্ত সময় এসেছে। আমাদের শিক্ষা যেন শরীর, মন ও আত্মার সুষম উন্নয়ন সাধন করতে পারে, সে বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে । শিক্ষা যদি মানুষের মধ্যে মনুষত্ব জাগ্রত করতে না পারে, তবে সে শিক্ষার কী প্রয়োজন ?

শিক্ষক হচ্ছেন শিক্ষার ধারক ও বাহক। এক কথায় শিক্ষার মূল চালিকা শক্তি। শিক্ষকদের সামগ্রিক মর্যাদা সর্বাগ্রে প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য । শিক্ষকদের মধ্যে সরকারি বেসরকারি তফাত থাকলে চলবে না । সকল শিক্ষকের জন্য সম্মান ও মর্যাদার জীবন নিশ্চিত করতে হবে । শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে শিক্ষার সুফল আশা করা মোটে ও ঠিক হয় না ।

সারা জীবন শুনে এসেছি,’ শাসন করা তারই সাজে, সোহাগ করে যে’। শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষকের অফুরন্ত সোহাগ কিন্তু,শিক্ষার্থীদের শাসন করার অধিকার আজ আর শিক্ষকদের নেই। তাই,শিক্ষার্থীদের অনেকে আজ শিক্ষকের মাথায় চড়ে বসতে চায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর শাশ্বত মধুর সম্পর্কটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে । অভিভাবকদের মন-মানসিকতায় ও চিড় ধরেছে। এ বিষয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন ।

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এখন শ্রেণী পাঠদানকে শিক্ষকগণ করে তুলেন আনন্দময়। শিশুরা শিক্ষকগণকে গ্রহণ করেন বন্ধু হিসেবে। শ্রেণীকক্ষে প্রত্যেক শিশুরা যাথে সমান শিক্ষালাভ করতে পারে সেজন্য গ্রুপ তৈরি করে গ্রুপভিত্তিক পাঠদান করা হয়ে থাকে। হাতে তৈরি পাঠ সংশ্লিষ্ঠ উপকরণ ব্যবহার করে পাঠকে করা হচ্ছে শিশুদের কাছে বোধগম্য। এছাড়া পাঠের সাথে বাস্তবের মিল খুঁজতে শিশুদেরকে নিয়ে শিক্ষকগণ শেণীকক্ষের বাহিরে প্রাকৃতিক পরিবেশেও নিয়ে যান। শিক্ষাদান পদ্ধতি আরোও আধুনিকায়নের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অনেক উদ্যোগ রয়েছে। এখন নিজেদের সচেতনতা দরকার। কেবল মানসম্মত শিক্ষা বা উন্নততর অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়। শিক্ষর্থীদের আগামী দিনের জন্য সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উদার মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন অসাম্প্রদায়িক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে। নিয়মিত অ্যাসেম্বলি, শিক্ষর্থীদের শপথ পাঠ করানো, জাতীয় সংগীত গাওয়ানো, জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের বাইরে নিতে হবে, তাদের জ্ঞানমুখী করতে হবে। নির্ধারিত পাঠের বাইরে ক্রীড়া ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, জাতীয় দিবস উদযাপন, বইপড়া প্রতিযোগিতা, মা দিবস আয়োজনসহ নানা কর্মসূচি পালনে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এতে শিশুদের মানবিক বিকাশ বাড়ে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ে খুদে লাইব্রেরি বা বুক কর্নার স্থাপন করতে হবে। একেকজন শিক্ষককে এ দায়িত্ব দিতে হবে। প্রধান শিক্ষককে তা মনিটরিং করতে হবে। মাসশেষে শ্রেষ্ঠ পাঠককে পুরস্কার দিতে হবে; এতে তাদের মধ্যে বই পড়ার প্রতিযোগিতা বাড়বে। সর্বোপরি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাসহ প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তৎপর হতে হবে।

 লেখক: মেয়র, কমলগঞ্জ পৌরসভা।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: