সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নিদর্শন মৌলভীবাজার (১ম পর্ব)

মুবিন খান, মৌলভীবাজার:: ব্যস্ততায় সারা বছর পার করলেও বছর শেষে ভ্রমন বিলাশী মনকে কি এক জায়গায় বসিয়ে রাখা যায়! মন তো চাইবেই ছুটিতে পরিবার, পরিজন, বন্ধুদের নিয়ে দুরে-কাছে কোথাও ঘুড়ে আসতে। এমন চিন্তা যাঁদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁরা এই বছরের শেষের দিকে ঘুরে আসতে পারেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ নিদর্শন মৌলভীবাজার জেলায়।

মৌলভীবাজার জেলার সবকটি উপজেলাই পর্যটকদের জন্য সবসময় প্রস্তুত। প্রতিটি উপজেলায় রয়েছে আলাদা আলাদা সৌন্দর্য। চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলার ধারাবাহিক প্রতিবেদনে প্রথম পর্বে সকল তথ্য নিয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলোর উপর।
মৌলভীবাজার সদর থেকে ০২ কিলোমিটার দূরে কালেঙ্গা সড়কে অবস্থিত বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক। এই পার্কে প্রবেশ করলে প্রকৃতির মনোরম ছোয়ায় অশান্ত মন কখন যে শান্ত হয়ে বসে বুঝাই যায় না। পাহাড়ের মধ্যে নির্জন শান্ত গাছ আর বন্যপ্রাণীদের ভিন্নধর্মী ডাক যেনো এক মায়াজালে আবদ্ধ করে নিজেকে। জঙ্গলের মনোরম পরিবেশ বিশ্রাম করে উপভোগ করার জন্য সেখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি কটেজ। কিন্তু সংস্কারের অভাবে কটেজগুলো এখন বিলুপ্ত প্রায়। তারপর শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে শমসেরনগর সড়কে অবস্থিত মনু ব্যারেজ। ১৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মনু নদী ৯৩ কিলোমিটার ভারতীয় এলাকা অতিক্রম করে এ জেলার গোবিন্দপুর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বন্যার প্রকোপ থেকে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও মৌলভীবাজার উপজেলার ৫৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রক্ষায় মনু ব্যারেজ তৈরী করা হয়। এ ব্যারেজে একটি খননকৃত লেক আছে যেখানে প্যাডেল ও ইঞ্জিন চালিত বোটে পরিভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় এই ব্যারেজের অবস্থান। পর্যটকদের জন্য লেকের এক প্রান্তে ড্রীমস শিশু পার্ক নামে একটি পার্ক গড়ে তুলা হয়েছে। সেখানে সকল বয়সের মানুষ প্রবেশ করে মনের আনন্দে ঘুরতে পারে। সমশেরনগর সড়ক থেকে মনু ব্যারেজ সড়কে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে রাস্তার বেহাল দশার চিত্র। ১ কিলোমিটার এই রাস্তায় বড় বড় গর্তে তৈরী হয়েছে ছোট ছোট পুকুর। পৌর শহরের বেড়ীপাড়ে শাহ মোস্তফা সড়কে খরস্রোতা মনু নদীর গতিপথ পাল্টে শহরের উত্তর দিকে প্রবাহিত হওয়ায় একটি লেকের সৃষ্টি হয়। নামকরণ করা হয় বেরী লেক। একসময় মৌলভীবাজার শহরের এ বেরী লেকে সাঁতার কেটেছেন অনেকে, বিকেলে লেকের পাড়ে চলতো খেলাধূলা। এটিকে পর্যটন কেন্দ্রে পূণাঙ্গরুপ দিতে কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।

সুযোগ পেলে আরো যেতে পারেন শহরে অবস্থিত হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফে। মাজার জিয়ারতসহ অজানা অনেক ইতিহাস জানতে পারবেন সেখানে। হযরত শাহজালাল (র:) এর অন্যতম অনুসারী হযরত শাহ মোস্তফা (র:) ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (র:) এর বংশধর ছিলেন। প্রায় সাতশত বছর আগে মৌলভীবাজার জেলার মোস্তফাপুরে বসতি স্থাপন করেন এবং এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করেন। মৌলভীবাজার শহরের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লা হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর বংশধর ছিলেন।
মৌলভীবাজার ঘুরে দেখার জন্য এবং এখানে রাত কাটানোর জন্য রয়েছে জেলা পরিষদের ০১টি বাংলো ও ১৫টি আবাসিক হোটেল। তার মধ্যে পাঁচতাঁরা ও তিনতাঁরার হোটেল বিদ্যমান।

সচেতন নাগরিকরা বলেন, যদি পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যাবস্থা অরো উন্নত করা যায় এবং বর্ষীজোড়া ইকোপার্ক কে আরো সমৃদ্ধশালী করা হয় তাহলে এই উপজেলায় পর্যটকদের আরো সমাগম ঘটবে। এছাড়া বেরি লেইকে প্রতিনিয়তই বাঁশ-কাঠ দিয়ে গড় নির্মাণ করে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বাধা দিলেও পরক্ষণেই শুরু হয়ে যায় ভরাট বাণিজ্য। এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে এখই ব্যবস্থা না নিলে দ্রুতই লেকের মূল অংশটিও হারিয়ে যেতে পারে।

আমামী পর্বে থাকছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পর্যটন নিয়ে প্রতিবেদন…




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: