সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিয়তির খেলা

নিকিতা জান্নাত:: আট বছরের প্রেম।মীরার পাগলামি ছিলো রাত দুপুরে তানিম কে ডেকে রাস্তায় দাড়ঁ করিয়ে বেলকনি থেকে দেখা।কিংবা প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে একসাথে রাজপথে হাটাঁ।তানিম কখনোই কোন অভিযোগ করতোনা।মীরার সবধরণের আবদার সে পূরন করতো।ভালোবাসে তো,তাই।

ঘুম থেক জেগে তানিম মোবাইল হাতে নিয়ে মীরার ছবি দেখলো,ফেসবুকে যেতেই মীরার স্ট্যাটাস শো করলো রিলেশনশীপ এংগেজ,ওর আংগুলে একটা ছেলে রিং পড়িয়ে দিচ্ছে।

তানিম মীরাকে ফোন করে এক নিঃশ্বাসে বলছে,শুনো এরকম মজা করা কিন্তু আমি একদম সহ্য করতে পারিনা।জানোতো,তোমার সব মেনে নিলেও এই ধরণের ফাজলামী আমার অপছন্দ,বলেই সে কাদঁতে শুরু করে।

ওপাশ থেকে মীরা খুব শান্ত সুরেই জবাব দিলো,না এটা ফাজলামী নয়।আমার দুঃসম্পর্কের কাজিন,এই শহরেই সে চারটি ফ্ল্যাটের মালিক।তাছাড়া দেশ-বিদেশে বিজনেস তো আছেই।
তুমি এখনো তেমন কিছু করো না আর তুমি তো চাইতে আমি সুখী হয়?প্লিজ,আমাকে সুখে থাকতে দাও।

তানিম বাকরুদ্ধ।পিছনের আটটি বছর প্রচন্ড রকম মনে পড়ছে,সে আসলে মীরাকে ছাড়া বাচঁবেই না।আত্নহত্যা ছাড়া আর কোন পথ নেই তার।

মধ্যরাতে তানিম রাস্তায় বের হলো,কোন একটা বেসামাল ট্রাকের নিচে পড়ে নিজেকে শেষ করে দিবে।সিগারেট টানছে,জীবনের শেষ নেশা,খেয়ে নিচ্ছে।দীর্ঘ আট বছর এই সিগারেট সে খায়নি,মীরা বলতো সিগারেট খেয়ে ফুসফুস নষ্ট করে ফেলবে,তোমার কিছু হলে আমি কাকে নিয়ে বাচঁবো?

তানিম হঠাৎ খেয়াল করে,রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের নিচে একজন বয়স্ক লোক বসে বসে কাদঁছেন।সে কাছে যেতেই লোকটি তাকে জড়িয়ে ধরলো,আরো কাদঁতে লাগলো।অজানা,অচেনা লোকটা এভাবে ধরে কাদঁছে কেন,তানিম বললো কাদুনঁ,মন খুলে কাদুঁন।লোকটি চোখ মুছতে মুছতে বললো,তোমার মতো আমার একটা ছেলে ছিল,গতকাল রোড এক্সিডেন্টে এখানে মারা যায়,ওর মা এখন পাগল প্রায় হসপিটালে রেখে আসছি,হুশ আসে তো যায়।চোখ খুললেই ছেলে কে দেখতে চায়।আমি কয় থেকে ছেলে কে নিয়ে দিবো বাবা?

তানিম কাদঁছে,ওর মা বাবার কথা মনে পড়ছে।না,সে আত্নহত্যা করবে না।তাহলে ঠিক একই ভাবে তার মা বাবা ও কাদঁবেন।

অনেক বছর পর তানিম যখন সুখের সংসারী,মীরাকে তার মনেই নেই তখন কোন এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলো,মীরা ভালো নেই,ওর স্বামী বিয়ে করেছে আরেকটা,টাকা পয়সার অভাব নেই,দুই স্ত্রীর ভরনপোষণ দিতে ও ঝামেলা হবে না।মীরাকে সাফ সাফ জানিয়ে দিলো,প্রতি মাসে যা খরচ লাগে দিবো,ভালো লাগলে থাকো নয়তো ডিভোর্স দিতে পারো।

তানিম ভাবছে,সে যা চেয়েছে তাই পেয়েছে,টাকা পয়সায় সুখ চেয়েছিলো সে,তাকে সুখী থাকতে দিয়েছি।
আর মীরার প্রতিটি মূহুর্ত অফুরন্ত বেদনায় কাটে,এতোই কষ্ট যে বুকটা বেদ করে বেরুলেই সে বাচেঁ।না পারছে বাচঁতে,আর না পারছে মরতে।


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: