সর্বশেষ আপডেট : ৩২ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

১৩৭ রানের বিশাল ব্যাবধানে টাইগারদের লঙ্কা জয়

স্পোর্টস ডেস্ক ::
ম্যাথুজদের ১২৪ রানে বেঁধে লঙ্কা জয় করে নিলো টাইগার বাহিনী। গত এশিয়া কাপের ফাইনালে হারলেও এবারে টুনার্মেন্টের প্রথম ম্যাচে তার পুনরাবৃত্তি হতে দিলো না মাশরাফিরা। ১৩৭ রানের বিশাল ব্যাবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অনেকটা এগিয়ে রইলো মাশরাফির দল।

এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর তামিমের অনাকাঙ্ক্ষিত ইনজুরিতে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম টাইগার। খেলার শুরুতেই মালিঙ্গার ওভারের চতুর্থ বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন লিটন দাশ। এর রেশ কাটতে না কাটতেই মালিঙ্গার পরের বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন বাংলাদেশের ভরসা সাকিব আল হাসান।

সাকিবের পর মুশফিককে নিয়ে দলকে সামাল দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। কিন্তু সুরাঙ্গা লাকমলের করা দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে হাতের পুরোনো ইনজুরিতে আঘাত পান তামিম ইকবাল। তাতেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। সেখান থেকেই গেলেন হাসপাতালে। হাসপাতালে দ্রুত স্ক্যান করে দেখা হয় তামিমের কব্জিতে ছিড় ধরা পড়েছে। ছিটকে পড়েছেন এশিয়া কাপ থেকে।

তামিমের মাঠ ছাড়ার পর ক্রিজে মুশফিককে সঙ্গ দিতে নেমেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। সেখান থেকেই বিধ্বস্ত দলকে টেনে তুলেছেন মুশফিক-মিঠুন। মিঠুনের বিস্ফোরক ব্যাটিং ও মুশফিকের সাবধানী ব্যাটিংয়ে ভালোই সামাল দিচ্ছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৩১ রান তুলেছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। দুজনেই করেছেন অর্ধশতক। দলীয় ১৩৪ রানে সেই মালিঙ্গার বলেই কুশাল পেরেরার ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন মিঠুন। সাজঘরে ফেরার আগে ৬৮ বলে মিঠুনের সংগ্রহ ৬৩ রান। মিঠুনের বিদায়ের পর দলীয় স্কোরে ২ রান যোগ হতেই আপোনসোর বলে ডি সিলভার ক্যাচ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ।

এরপর আবার মালিঙ্গার আক্রমণ। তার বোলিং তোপে দিশেহারা বাংলাদেশ শিবির। দলীয় ১৩৬ রানে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর ২৮তম ওভারের শেষ বলে নিজের চতুর্থ উইকেটটি তুলে নেন মালিঙ্গা। উইকেটরক্ষক কুশল পেরেরার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এরপর ৩৪তম ওভারে সুরাঙ্গা লাকমলের বলে তার হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৫ রানে ফেরেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ১৯৫ রানে থারাঙ্গার বলে ধনাঞ্জয়ের হাতে ক্যাচ তুলে মাঠ ছাড়েন কাপ্তান মাশরাফি।

এরপর ৪৩তম ওভারের চতুর্থ বলে ডি সিলভার বলে এলবি ডব্লিউ’র শিকার হয়ে আউট হন রুবেল হোসেন। এর মধ্যেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন মুশফিকুর রহিম। ৬৭ বলে ফিফটি করার পর ১২৩ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান মুশি। এরপর মুশফিকের সঙ্গে ২৬ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ১০ রানে আউট হন মোস্তাফিজ। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হত তখনই। কিন্তু চমক দেখালেন ওপেনার তামিম ইকবাল। মুশফিককে সঙ্গ দিতে বাঁহাতে ইনজুরি নিয়েও ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পড়েন বাংলাদেশ সেরা ওপেনার।

তামিম নামাতেই ব্যাট হাতে লড়তে হয়েছে মুশফিককে। শেষ পর্যন্ত তামিমের জন্যই মুশফিক শেষদিকে তুলেছেন ৩২ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে পেরেরার বলে মেন্ডিসকে ক্যাচ দিয়ে মুশফিক তুলেন তার ক্যারিয়ারসেরা ১৪৪ রান। এশিয়া কাপে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ওয়ানডেতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকুর রহিমের এই ইনিংসটি দ্বিতীয় সেরা। ১৫৪ রান করে সবার উপরে আছেন তামিম ইকবাল।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে লাসিথ মালিঙ্গা ২৩ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন। অন্যদের মধ্যে সুরঙ্গা লাকমল একটি, আমিলা আপোনসো একটি, থিসারা পেরেরা একটি ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা দুইটি করে উইকেট শিকার করেন।

বিদেশের মাটিতে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়েই শুরু বাংলাদেশের খেলা। তারপর আরো ৫ দিন পরে দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। যেটি বাংলাদেশ দলের জন্য একটি চ্যালেঞ্জই। এছাড়া আছে আরব আমিরাতের গরম।

এদিকে দিনের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলেই কুশাল মেন্ডিসকে লেগ বিভোরের ফাঁদে ফেলেন ‘দ্য ফিজ’। কিন্তু আম্পায়ার টাইগারদের আবেদন নাকচ করে দেয়ায় রিভিউ নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পের একদম মাঝ বরাবর আঘাত হানতো। ফলে রিভিও জিতে নেয় বাংলাদেশ।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বল করতে এসে আরেক লঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে দেন মাশরাফি। উইকেট সোজা বলকে থার্ডম্যান বরাবর পাঠাতে চাইলে বলের সুইংয়ে পরাস্ত হন থারাঙ্গা। স্কোর বোর্ডে ২৮ রান সংগ্রহ করতেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

এরপর লঙ্কানদের আরও চাপে ফেলে দেন মাশরাফি। নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন টাইগার অধিনায়ক। আম্পায়ার আউট দিলেও এবার রিভিও নেয় শ্রীলঙ্কা। রিপ্লে দেখে আম্পায়ার তার সিদ্ধন্তে অটল থাকেন। ১ উইকেটে ২২ রান থেকে ৩২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা।

লঙ্কান ইনিংসকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে অষ্টম ওভারে স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজকে আক্রমণে আনেন মাশরাফি। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান খরচ করা মিরাজ নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই কুশাল পেরেরার উইকেট তুলে নেন। সোজা বলে ডিফেন্ড করতে গিয়ে পরাস্ত হন পেরেরা, বল গিয়ে লাগে তার প্যাডে। টাইগারদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পেরেরাকে আউটের ইশারা করেন আম্পায়ার।

শ্রীলঙ্কার পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে রান আউটে। ১৭তম ওভারে বল করতে আসেন মিরাজ। প্রথম বলেই অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পড়ে বল ব্যাটসম্যান ম্যাথুজের ব্যাটে লেগে লেগ সাইডে গড়ালে রানের জন্য দৌড়ে ক্রিজের মাঝপথে চলে আসা লঙ্কান আসা শানাকাকে ফেরত পাঠান অধিনায়ক ম্যাথুজ। কিন্তু ততোক্ষণে মিড উইকেট থেকে বল কুড়িয়ে সজোরে থ্রো করেন সাকিব আল হাসান। বল হাতে পৌঁছানো মাত্র নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন বোলার মিরাজ।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে পেসার রুবেল হোসেনের হাতে বল তুলে দেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিলেন ওভারের দ্বিতীয় বলেই লঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে লেগ বিভোরের ফাঁদে ফেলে আউট করে দেন রুবেল। মিরাজের বলে লঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারার পেরেরা রুবেলের ক্যাচে পরিণত হলে সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে শ্রীলঙ্কার।

ইনিংসের ২৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দারুণ এক লেন্থ বলে লঙ্কান টেল-এন্ডার ব্যাটসম্যান সুরাঙ্গা লাকমলকে বোল্ড করে দেন মোস্তাফিজ। ইনিংসে এটি তার দ্বিতীয় উইকেট।

শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডারের লেজ মুড়ে দেন দুই স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন ও সাকিব আল হাসান। ১২৪ রান তুলতেই সব উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় শ্রীলঙ্কা।

বল হাতে ৬ ওভারে ২ মেডেনসহ ২৫ রান খরচে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। ৬ ওভারে ২০ রান খরচে সমান ২ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ। স্পিনার মিরাজ ৭ ওভারে ২১ রান খরচ করে ২ উইকেট আর ১ উইকেট করে পেয়েছেন সাকিব, রুবেল এবং মোসাদ্দেক।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: