সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দূষণের হুমকিতে টাংগুয়ার হাওরসহ পর্যটন স্পটগুলো  

তাহিরপুর প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় টাংগুয়ার হাওরসহ পর্যটনগুলোতে পর্যটকগন যত্রতত্র ভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলায় দূষণের হুমকিতে পড়ছে দিন দিন। হাওর থেকে শুরু করে নদী,লেক সর্বত্রই ময়লা আবর্জনা চোখে পড়ছে। যেন দেখার কেউ নেই। এ অবস্থা উন্নতির লক্ষ্যে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তাহিরপুরের পর্যটন স্পটগুলো শ্রী হারিয়ে হুমকির মুখে পড়বে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

টাংগুয়ার হাওরসহ সরজমিন উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনস্পট গুলো ঘুরে দেখা গেছে,পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট কোন নিয়ম ও পরিকল্পনা না থাকায় তারা গাছের ছায়া কিংবা পর্যটক ছাউনি যেখানেই বসে নিজের সাথে আনা বিভিন্ন রখমের খাবার খাচ্ছেন। আর খাবার খেয়েই সেখানেই উচ্ছিষ্ট ময়লাগুলো ফেলে যাচ্ছেন। পর্যটকদের সাথে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে চোখে পড়ছে বিস্কুটের প্যাকেট,চিপস,চানাচুর,পলিথিন,প্লাস্টিকের বোতল,ওয়ান টাইম খাবারের তালা ও গ্লাস। সে গুলোর একটিও পচনশীল দব্য নয়। ফলে হাওর কিংবা নদীর জলে যেখানে এই অপচনশীল দব্য গুলো ফেলা হচ্ছে সেখানেই সে অবস্থায় দীর্ঘদিন একই অবস্থায় অপচনশীল দ্রব্য গুলো পড়ে আছে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়,তাহিরপুর উপজেলায় ২০০০সালের শুরু দিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় পর্যটক ও ভ্রমন পিপাসুরা সৌন্দর্যের টানে বিচ্ছিন্ন ভাবে টাঙ্গুয়ার হাওর,সীমান্তের ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর লেক (যা বর্তমানে শহীদ সিরাজ লেক নামে পরিচিত),যাদুকাটা,বারেকটিলা,শিমুল বাগান দেখতে ভ্রমন পিপাসু লোকজন দল বেধেঁ আসতে শুরু করে। এখানে এসে মুগ্ধ হয় সবাই। ফলে দিনদিন পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পায় এ এলাকার পর্যটন স্পটগুলোতে। বর্তমানে সরকারী বন্ধের দিন গুলোতে হাজরো পর্যটকের সমাগম ঘটে এ উপজেলায়। তাদের যাতায়াতে কমপক্ষে ছোট বড় শতাধিক নৌকা চলাচল করে পর্যটকদের নিয়ে পর্যটন স্পটগুলোতে বর্ষার এই মৌসুমে। পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই দিনে দিনে গুড়াফেরা করে চলে যান নিজ গন্তব্যে। আবার অনেকে রাতে হাওরে থেকে যান। আর পর্যটকগন খাওয়া-দাওয়াসহ সব কিছু নৌকাতে সারেন। আর যে যেখানে খাওয়া দাওয়া করেন সেখানেই উচ্ছিন্ন ময়লা গুলো ফেলে যান। প্রতিদিন এরকম ভাবে একজন দু’জন করে ময়লা ফেলতে ফেলতে চোখে পড়ার মত ময়লা জমে যাচ্ছে পর্যটন স্পটগুলোতে।

পর্যটন ও হাওর পাড়ের সাদেক আলী,জাকির হোসেন,শফিকুল স্থানীয় লোকজনসহ অনেকে ক্ষোবের সাথে জানান,এখনই এর প্রতিকার না করা গেলে একদিন দেখা যাবে এই উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো ময়লার বাগাড়ে পরিনত হবে। প্রকৃতির আর বিশুদ্ধ বায়ু পরির্বতিতে দূষনে আক্রান্ত হলে এখানে আগত পর্যটকগন আবার আসতে গিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে। তাই এ থেকে উত্তরনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া খুবেই দরকার।
নৌকার মাঝি জানে আলম,আল আমীন,শিবলি মিয়াসহ অনেকেই বলেন,পর্যটকরা যতক্ষন আমাদের নৌকাতে অবস্থান করেন ততক্ষন পানিতে কোন কিছু ফেলতে দেই না নিশেধ করি। তারা যখন নৌকা থেকে উপরে উঠে হাঠাহাঠি করে তখন কোন কিছু খেয়ে ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে যায় তখন তো সে বিষয়টি আমরা দেখতে পাই না। আমাদের কিছু করার থাকে না।

ফটোগ্রাফার পয়েল আহমেদ জানান,শিমুল বাগান ঘুরতে এসে তিনি দেখেন পর্যটকরা বারবিকিউ করে আগুনে পুড়া কাটগুলো বাগানেই ফেলে দিচ্ছে সে সময় এ নিয়ে তাদের সাথে পয়েল আহমেদের কথাকাটকাটি হয় বলে তিনি জানান।
ট্রাভেল অনলাইন ফেইস বাংলাদেশ এর এডিটর ভ্রমন প্রেমী শাহীন আহমেদ বলেন,আপনি পাহাড়,হাওর,নদী কিংবা ঝর্ণা যেখানেই যাবেন দেখবেন এর আশপাশে পর্যটকরা পানির খালি বোতল,চিপস,চানাচুর কিংবা পলিথিন ব্যাগ ফেলে আসছেন। শুধু তাহিরপুর নয় বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি পর্যটন স্পটের একই দশা।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব বলেন,আমি বিষয়টি দেখে সম্প্রতি নৌকার মাঝিদের নিয়ে বসেছিলাম। সবাইকে বলে দিয়েছি নৌকাতে একটা করে ঝুড়ি রাখতে সেই সাথে নৌকায় উঠার পর আগত পর্যটকদের বলতে তারা যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: