সর্বশেষ আপডেট : ৪২ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ সালমান শাহকে হারানোর ২২ বছর

বিনোদন ডেস্ক ::

জনপ্রিয় চলচ্চিত্রশিল্পী সালমান শাহের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৬ সালের এইদিনে তিনি পাড়ি জমান অনন্তলোকে। সালমান শাহ বিদায় নিয়েছেন ২২ বছর হলো। তাঁর প্রসঙ্গ এলে এখনও বলা হয়- ‘বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সালমান শাহের শূন্যস্থানটি আজও কেউ পূরণ করতে পারেনি।’ আজও বর্তমান হয়ে আছেন অগণিত ভক্তের হৃদয়ে। এ জনপ্রিয়তা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।

তাঁর মূল নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। চলচ্চিত্রে এসে নাম নেন ‘সালমান শাহ’। ১৯৭০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। তিনি পরিবারের বড় ছেলে।

সালমান শাহ ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম সামিরা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। কিন্তু সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি এখনও এভারগ্রিন ওয়ান্ডারবয় সালমান শাহ।

তাঁর মৃত্যুতে সমগ্র চলচ্চিত্রশিল্পে শোক নেমে আসে। শোক সইতে না পেরে অনেক ভক্ত আত্মাহুতির পথও বেছে নিয়েছিলেন। অনেক উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে গেছে বাংলা চলচ্চিত্রশিল্প। এর সঙ্গে অনেকে সালমানের মৃত্যুকে মিলিয়ে দেখেন। তাই আজও নতুন কোনো শিল্পীর কথা উঠলেই স্বাভাবিকভাবেই উদাহরণ হিসেবে চলে আসে সালমান শাহ।

তাঁর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ছবি করা নায়িকা শাবনূর আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘সালমান বেঁচে থাকলে আমরা দুজনে উত্তম-সুচিত্রার মতো হতে পারতাম।’

আজও নতুন কোনো পরিচালক সালমান শাহ অভিনীত ছবির রিমেক করার উদ্যোগ নিলে প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে, অভিনয় করবেন কে? উত্তর পাওয়ার পরের প্রশ্ন, তিনি কি পারবেন সালমানের মতো করতে?

মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে সালমান শাহ খুব বেশি ছবিতে অভিনয় না করলেও যতটা করেছেন, মন দিয়ে করেছেন। দর্শকদের জন্য করেছেন। তাই তো দর্শকরা আজও তাকে ভুলতে পারেননি। আজও সালমান যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত সেখানে তার ভক্তরা নীরবে চোখের জল ফেলেন। আজও টেলিভিশনের পর্দায় তার অভিনীত ছবি প্রদর্শন হলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন দর্শকরা। আজও নতুন ছেলেরা সিনেমায় আসার স্বপ্ন দেখে সালমানের জন্য। এখানেই সালমান অনন্য, অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও চিরস্মরণীয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি স্মরণ করবে তাকে। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান জাগো নিউজকে জানান, ‘সালমান শাহের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ সেপ্টেম্বর এফিডিসিতে কোরআন খতম করানো হবে সকালে। দুপুরে দুস্থ মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে ও বিকেলে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।’

শিল্পী সমিতির আয়োজন ছাড়াও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও নানা অনুষ্ঠান প্রচার করবে সালমান শাহের মৃত্যু দিবসে।

এক নজরে সালমান শাহ

নাম : শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন (সালমান শাহ)
রাশি : বৃশ্চিক
উচ্চতা : ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি
জন্মস্থান : সিলেট
জন্মতারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
বাবা : কমর উদ্দিন চৌধুরী
মা : নীলা চৌধুরী
ভাই : শাহরান চৌধুরী ইভান
বিয়ে : ১২ আগস্ট ১৯৯২
স্ত্রী : সামিরা
পড়ালেখা : খুলনা বয়রা মডেল হাইস্কুল। এসএসসি:১৯৮৭, আরব মিশন স্কুল, ধানমন্ডি। আইকম : আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। বিকম : মালেকা সায়েন্স কলেজ, ধানমন্ডি।

অভিনীত ছবির সংখ্যা ২৭ টি। প্রথম ছবি : সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ” কেয়ামত থেকে কেয়ামত “। ছবি মুক্তি : ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ। প্রথম নায়িকা : মৌসুমী। সফল জুটি : সালমানশাহ-শাবনূর। সবচেয়ে বেশি ছবি : শাবনূরের সাথে।(১৪টি)
বিজ্ঞাপন : কোকাকোলা, মিল্কভিটা, জাগুরার কেডস, ফানটা।
নাটক : সব পাখি ঘরে ফিরে, সৈকতে সারস, পাথর সময়, স্বপ্নের পৃথিবী।
শেষ ছবি : বুকের ভিতর আগুন। শেষ ছবি মুক্তি : ১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর।
যে বাসায় থাকতেন : নিউ ইস্কাটন রোডের, ইস্কাটন প্লাজার B এর ১১ ফ্লাটে।
মারা যান : শুক্রবার ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
যে হাসপাতালে নেয়া হয় : সালমানশাহ কে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখা যায়।গলার রশি কেটে তাকে প্রথমে ” হলি ফ্যামিলি হসপিটালে ” নেয়া হয়। সেখানকার ডাক্তাররা ট্রিটমেন্ট করতে অপারগতা প্রকাশ করায় পরে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখানকার ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কবর : সিলেটের পূন্য ভূমিতে হযরত শাহজালাল (রহ: ) এর মাজারের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন চিরসবুজ নায়ক সালমানশাহ।
ভক্তদের আত্মহত্যা : সালমানশাহর মৃত্যু শোক সহ্য করতে না পেরে বেশ কয়েক জন নারী ভক্ত আত্মহত্যা করেন।
তদন্ত রিপোর্ট : সালমানের মৃত্যুর তদন্ত রিপোর্ট আজ ও রহস্য জনক কারনে প্রকাশিত হয়নি।
স্মৃতিস্তম্ভ : যে মানুষ সিনেমা কে এতো কিছু দিলো তার জন্য বলতে গেলে কিছুই করেনি এফডিসি। স্মৃতিস্তম্ভ তো দূরে থাক।
তাতে কি সালমানশাহ আছে প্রতিটি সিনেমা প্রেমীর অন্তরে। সেখান থেকে তাকে সড়ায় সাধ্য কার?
বর্তমান অবস্থা : সালমানশাহর ছোট ভাই বর্তমানে ইংল্যান্ড থাকেন। মা নীলা চৌধুরী সেখানেই বেশির ভাগ সময় থাকেন।
মাঝে মাঝে বাংলাদেশে আসেন। বাকি সময়টুকু ঘর তালাবদ্ধ থাকে।তালাবদ্ধ ঘরটি যেন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেন বলছে ”
কে তুমি উতসুক পথিক? থমকে দাঁড়াও! চোখ
ভরে দেখে নাও এখানেই জন্মেছিলেন
বাংলার চিরসবুজ নায়ক সালমানশাহ।”







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: