সর্বশেষ আপডেট : ৪৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বন বিভাগের জায়গায় মুরতা চাষে বাধা : পুলিশ-গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৩

ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেটের জলার বন রাতারগুলে বন বিভাগের দখলমুক্ত করা ১৩১ একর জায়গায় মুরতা চাষ করতে গিয়ে হামলায় বন কর্মকর্তাসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাতারগুলের মহেষখের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ তিনজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

সিলেট বন বিভাগের সারি রেঞ্জের কর্মকর্তা আহত মো. সাদ উদ্দিন আহমদসহ তিনজনকে বেলা দেড়টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আর এস এম মুনিরুল মুনিরুল ইসলাম বলেন, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা গুরুতর।

ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, মুরতাবাগান করতে মঙ্গলবার সকাল থেকে কাজ করছিল বন বিভাগের একটি দল। ১ হাজার ৫০০ মুরতা চারা রোপণের পর বিকেলে আশপাশ এলাকার কিছু লোক জমিতে ধান চাষ করার দাবি জানিয়ে মুরতা চাষে বাধা দেয়। কিছু লোক রোপণ করা মুরতা উপড়ে ফেলে।

বুধবার সকালে দ্বিতীয় দফায় মুরতা চাষ করতে গেলে ওই লোকগুলো বাধা দেয়। একপর্যায়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশ ডাকা হলে ক্ষুব্ধ লোকজন গ্রামের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে বন বিভাগের কর্মীদের বাধা দেয়। এ সময় রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন বাধা দিলে তাঁকে তুলে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে বন বিভাগের আরও দুজন কর্মী মারধরের শিকার হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল জানান, এ অবস্থায় কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে ওসি জানান।

বন বিভাগ জানায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুলের মোট জমির পরিমাণ ৫০৪ দশমিক ৫ একর। পুরো এলাকা নিয়ে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রাতারগুল মৌজায় রয়েছে ৩৩৫ দশমিক ৮২ একর, পূর্ব মহেশখেড় মৌজায় ১৩১ দশমিক ১৮ একর ও বগাবাড়ি মৌজায় ৩৭ দশমিক ৫ একর। তবে এ জায়গাগুলোর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সরকারি জায়গা বেদখলে চলে যায়। গত বছরের ২০ নভেম্বর বন বিভাগ রাতারগুলের পূর্ব মহেষখেড় এলাকায় বেদখল হয়ে যাওয়া ১৩১ একর ভূমি উদ্ধার করে খুঁটি স্থাপন করে। ওই সময় মহেষখেড় এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মুনিরুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উদ্ধারের পর ওই জমিতে হিজল, করচ, জারুল, মুরতাসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ শুরু করে বন বিভাগ।

চলতি বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে গত ১০ জুন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বিতীয় পর্যায়ে পূর্ব মহেষখেড় এলাকায় বন বিভাগের ২০ হেক্টর জমিতে মুরতাবাগান ‘সৃজন’ প্রকল্পকাজ শুরু করতে চারা রোপণ করা হয়। মুরতা একধরনের বেত। শীতলপাটির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে শুধু সিলেট অঞ্চলে মুরতা চাষ হয়।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: