সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘প্রাণের বর্জ্যে’ বিপন্ন প্রাণ!

নিউজ ডেস্ক:: প্রাণ উৎসর্গ করার মতো মানসিকতার মানুষ অন্য কোনো দেশে কতটা আছে জানা নেই। তবে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই বাংলাদেশে যে এর কোনো অভাব নেই—এ কথা অস্বীকার করার কোনো জো নেই। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে প্রায় সবাই যেন বিরামহীন তাদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন। প্রতিনিয়ত ভেজালের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের বেঁচে থাকতে হচ্ছে। কেউ বাঁচতে পারছেন, কেউ পারছেন না। অসুস্থ হয়ে জীবন উৎসর্গ করতে হচ্ছে।

প্রাণের বর্জ্যে এখন প্রাণ যাচ্ছে নাটোরবাসীর। কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ার লক্ষ্যে ২০০০ সালে নাটোরের একডালায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ তাদের কার্যক্রম শুরু করে। উন্নয়নের কথা চিন্তা করে এলাকার মানুষ তখন আপত্তি করেনি। বিশেষ করে উৎপাদন-পরবর্তী সময়ে তাদের এমন পরিবেশ বিপর্যয়ের মাঝে পড়তে হবে তারা তা কল্পনাও করতে পারেননি। যার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে। প্রাণের বর্জ্যে অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, বর্জ্যের কারণে শুধু জমির ফসলই নষ্ট হচ্ছে না, জলাশয় ও পুকুরের মাছও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবস্থা যখন এমন পর্যায়ে গড়িয়েছে, তখন বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে কোম্পানির পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা উচ্চারিত হয়। কিন্তু তাদের দেওয়া সেই আশ্বাস এক বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। জেলা প্রশাসন বিষয়টি জেনেছে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। ভুক্তভোগী এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এখন দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকল না।

মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, এলাকার চাষিদের কাছ থেকে প্রাণ এগ্রো লিমিটেড আম, টমেটো, হলুদ, মরিচ, চীনাবাদাম ও মুগডাল ক্রয় করে থাকে। এসবের কিছু একডালার কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে। বাকি পণ্য নরসিংদীর ঘোড়াশালসহ অন্য কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যেসব পণ্য নাটোরের একডালায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সেগুলোর বর্জ্য এলাকার বিভিন্ন স্থান দিয়ে আশপাশের খোলা জমি ও জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এতে আশপাশ এলাকার বিস্তীর্ণ জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, মারা যাচ্ছে জলাশয়ের মাছ।

ইতোমধ্যে কারখানাটির বর্জ্য পানিতে মিশে এলাকার প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। কারখানার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নারদ নদী এখন বর্জ্যে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তার পরও প্রাণ কোম্পানির বেশির ভাগ বর্জ্যই এখনো নারদ নদীকে বহন করতে হচ্ছে। পানি তার ব্যবহারিক যোগ্যতা হারিয়ে এখন দূষিত জলাধারে পরিণত হয়েছে।

আমরা মনে করি, এর একটি ইতিবাচক সমাধান হওয়া খুবই জরুরি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে ভুক্তভোগী এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ. আর. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: