সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ব্যাংকগুলো এত টাকা পাচ্ছে কোথায়?

নিউজ ডেস্ক:: ব্যাংকে যে পরিমাণ আমানত আসছে,ঋণ বিতরণ হচ্ছে তার চেয়েও বেশি।গত একবছরে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ে ব্যাংকে আমানত এসেছে ৯০ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে সংগৃহীত আমানতের চেয়ে ৪২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারে। তবে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে— ব্যাংকগুলো আমানতের চেয়ে অনেক বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে গত ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আগ্রাসী বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে (২০১৬ সালের জুন থেকে ২০১৮ জুন পর্যন্ত) ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। অথচ এই দুই বছরে আমানত সংগ্রহ করেছে মাত্র ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে, দুই বছরে সংগৃহীত আমানতের চেয়ে ৬৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থা তৈরির পেছনে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ জালিয়াতি বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সানেম’ এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি আমরা দেখছি না। যদিও ব্যাংক খাতে এখন বেপরোয়াভাবে ঋণ বিতরণ বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘গত ছয়টি নির্বাচনের বছর ও এর কাছাকাছি বছরগুলোতে আমরা দেখেছি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে যায়। অথচ হঠাৎ করে এখন ব্যাংক খাতে ঋণ বেড়ে চলছে।’ নির্বাচনের বছরে এই ঋণের টাকা প্রকৃতপক্ষে কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, এ বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৫ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত এক বছরে (১২ মাসে) ব্যাংকগুলো ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত এক বছরে (১২ মাসে) ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ করেছে ৯০ হাজার ৪২২ কোটি টাকা।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত কেবল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে এই ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। আবার এই বছরের জুন পর্যন্ত ইসলামি ধারার এসব ব্যাংকের ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে এই ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

জানা গেছে, সাধারণ ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামি ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৫ শতাংশ ঋণ দিতে পারে।এর বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারবে না।কিন্তু তিন ডজন ব্যাংক এই সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করায় তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ অর্থ জমা রাখতে পারছে না।এই জমা রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে কলমানিতে ধার করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানত সংগ্রহ বাড়াতে গিয়ে এর সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ঋণের সুদের হারও বেড়ে গেছে।বর্তমানে অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি)চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন,‘যেসব ব্যাংক সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে,তারা এখন নতুন করে ঋণ দিতে পারছে না।বিশেষ করে বড় অংকের ঋণ দিতে পারছে না। আমানত সংগ্রহ বাড়লে তারা আবারও স্বাভাবিক নিয়মে ঋণ দিতে পারবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,রাষ্ট্রীয় মালিকানার ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের আমানত কমলেও ঋণ বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের আমানতের চেয়ে ঋণের ক্ষেত্রে দ্বিগুণের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।এছাড়া, ৩০টি ব্যাংক এখনও সীমার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করছে।ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি খাতের বেসিক ব্যাংক মোট আমানতের ১০৫ দশমিক ৩২ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে,যা তাদের আমানতের চেয়ে বেশি।বাড়তি ঋণ তারা কলমানি থেকে ধার করে ও সরকারের দেওয়া মূলধন থেকে বিতরণ করেছে। সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক মোট আমানতের ১০০ দশমিক ৩২ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। বাকি অর্থ তারা সরকারের দেওয়া মূলধন ও ধার করে ঋণ বিতরণ করেছে।এছাড়া,বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংক মোট আমানতের ১০০ শতাংশেরও বেশি ঋণ বিতরণ করেছে।এর মধ্যে ফার্মার্স ব্যাংক এখনও গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: