সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কারাগারে আদালত স্থাপন সংবিধান বিরোধী: বিএনপি

নিউজ ডেস্ক:: পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত বসিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রম শুরু করার সরকারি সিদ্ধান্তকে সংবিধানের পরিপন্থি আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিগগিরই রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়ার কথা বলেছে তারা। গতরাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা এতদিন একটি বিশেষ আদালত তৈরি করে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে চলছিল। আমরা জানতে পেরেছি- সরকার একটা বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আদালতটি স্থানান্তর করে নেয়া হচ্ছে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবিধান বিরোধী। সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫(৩) ধারা মতে, এই ধরনের মামলার বিচার প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এখানে ক্যামেরা ট্রায়াল করার সুযোগ নেই। আমরা তাদের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অসুস্থ দেশনেত্রীর খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা মনে করি- এটি ক্যামেরা ট্রায়াল। আমরা রাজনৈতিকভাবে এ বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা সর্বোপরি তিনি একজন প্রবীণ নাগরিক।

এখন সংবিধান লঙ্ঘন করে তার অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কী হতে পারে! এটাকে কোনোভাবেই হালকা করে নেয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, অন্যায় ও বেআইনিভাবে উচ্চতর আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার পরও বিভিন্ন কারসাজির মধ্য দিয়ে তাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই গণবিরোধী সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচারবিভাগকে নিজেদের লোক দিয়ে প্রভাবিত করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে দেশনেত্রীকে হয়রানি ও নির্যাতন করার উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মির্জা আলমগীর বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং একদলীয় শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার হীন উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম ঘোষণা করবো। পরবর্তী কার্যক্রম কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবো। সিআরপি’র ধারা ব্যাখ্যা করে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, একটি দেশ চলে সংবিধানের অধীনে।

সংবিধানের অধীনে অন্য কোনো আইন নেই বাংলাদেশে।অনেকেই মৌলিক অধিকারের কথা বলেন, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের কথা বলেন। দেশের মূল সংবিধান এখন পর্যন্ত যতবারই সংশোধন করা হয়েছে, ৩৫ ধারা কোনদিন সংশোধন হয়নি। ৩৫(৩)-এ স্পষ্ট করে বলা আছে যেকোনো ফৌজদারি মামলার বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। তিনি বলেন, আজকে জেলখানার অভ্যন্তরে বিচার করার অর্থ হলো ক্যামেরা ট্রায়াল। এটা আমাদের দেশে সংবিধান সম্মত নয়। সিআরপিসি তো প্রায় দেড়শ’ দুইশ’ বছর আগের। সেখানে দেখবেন ৩৫২ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে এই ধরনের বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। এখন যেটা সরকার করছে এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান পরিপন্থি। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা এই ব্যাপারে কথা-বার্তা বলবো। পর্যালোচনা করবো। কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে চিন্তা করবো। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইন সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: