সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফেসবুক শিক্ষার্থীদের মনোযোগকে নষ্ট করে দিচ্ছে: জাফর ইকবাল

নিউজ ডেস্ক:: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অডিটরিয়ামে ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মিলনে এটুআই ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যৌথ উদ্যেগে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো ‘একুশ শতকের দক্ষতা অর্জনে কিশোর বাতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার।
কিশোর-কিশোরীরাই আগামীদিনের নাগরিক ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই তাদের মনন, বুদ্ধি, চিন্তাধারা, ধারণা, চেতনা, চৈতন্য বিকাশে ও আধুনিক বিজ্ঞান মনষ্ক প্রজন্ম গঠনে নানামুখি কাজ করে যাচ্ছে এটুআই। অনলাইন প্লাটফর্ম কিশোর বাতায়ন একটি উদাহরণ। শিক্ষার্থীদের প্রশান্তি, বিনোদন, মেধা বিকাশ ও সৃজনশীলতা চর্চার এক অনলাইন প্লাটফর্ম হলো কিশোর বাতায়ন। দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং এটুআই-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে কিশোর বাতায়ন। এখানে ১২-১৯ বছরের কিশোর কিশোরীদের জন্য রয়েছে পাঠ্যপুস্তক সহায়ক উপকরণ, বই, শিশু চলচ্চিত্র, বিজ্ঞান বিষয়ক কমিক্স, মাথা খাটাও , হাতে কলমে বিজ্ঞানের পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা, বই , জীবনদক্ষতাসহ খবর-দার এর মতো নানান শিক্ষা সামগ্রী। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া কিশোর বাতায়নের সদস্য  সংখ্যা ইতোমধ্যে  ২ লাখ ৪৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যারা নিয়মিত কিশোর বাতায়নে তাদের মতামত এবং কনটেন্ট শেয়ার করছে।
কিশোর বাতায়নের বিশেষ দিকগুলো হলো শিক্ষার্থীদের বহুমুখী বুদ্ধিমত্তা চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে সৃজনশীল কন্টেন্ট আপলোড করতে পারে, প্রত্যন্ত ও শহর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগের বৈষম্য দূর হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ এবং নিরাপদ বিনোদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।  শিক্ষার্থীদের সুন্দর মনন এবং গঠনমূলক সমালোচনা ও বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে সক্ষমতা বাড়ছে, বিজ্ঞান শিক্ষার আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
বছরজুড়ে কিশোর বাতায়নে চলে নানা কর্মসূচি  ২০১৭ সালের শেষভাগ জুড়ে ছিল “আমার জেলা, আমার অহংকার” প্রতিযোগিতা যেখানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে নিজ জেলা সম্পর্কে প্রায় ১০ হাজার উর্ধ্ব প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এসময় কিশোর বাতায়নে লেখালিখির উপর কনটেন্ট  আপলোড হয় প্রায় ২‘হাজার হাতে আঁঁকা ছবি ১‘হাজার ৬শ ক্যামেরায় তোলা ছবি ৫‘হাজার অডিও ও ভিডিও ডকুমেন্টরি ১‘হাজার।
কিশোর বাতায়নে খুব সহজে মোবাইলে ধারণকৃত একটি মুভি আপলোড করার যেমন সুযোগ আছে তেমনি বিজ্ঞানের কোন এক্সপেরিমেন্টও ভিডিও করে শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে। ছবি তুলে বা কার্টুন/ছবি এঁকেও মতামত শেয়ার করার সুযোগ রাখা হয়েছে এতে।
মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কে কেন্দ্র করে ভাষার মাস হিসেবে পুরো ফেব্রুয়ারি জুড়ে চলে “বইয়ের পাতায় প্রদীপ জ্বলে, বইয়ের পাতা স্বপ্ন বলে” শ্লোগান নিয়ে অনলাইন বই পড়া প্রতিযোগিতা এবং কৈশোরে বঙ্গবন্ধু, আমার কৈশোর, আমার স্বাধীনতা বিষয়ক ডিজিটাল কনটেন্ট প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে ৫‘হাজার শিক্ষার্থীর হাতে বিশ্ব সাহিত্য-কেন্দ্র ও এটুআই বই পুরস্কার হিসেবে তুলে দেয়া হয় অন্যরকম বিজ্ঞানবক্সের উপহার ও তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। আজকের শিক্ষার্থীদের একুশ শতকের জন্য দক্ষ করে তোলার একটি মাধ্যম  বাতায়ন। কিশোরদের দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে কিশোর বাতায়নের ভূমিকা হবে আধুনিক, অভিনব, বাস্তব, অনুশীলন ভিত্তিক ও একুশ শতকের চাহিদাভিত্তিক ও সময়োপযোগী। ব্যক্তিগত ও সামাজিক  দক্ষতার বিকাশ ঘটবে কিশোর বাতায়নের মাধ্যমে।  মুক্তিযুদ্ধ বাঙালীর অহংকার। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা, বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করবে কিশোর বাতায়ন। অনন্য এক অনলাইন প্লাটফর্ম কিশোর বাতায়ন শিক্ষার্থীদের সামনে সৃজনী ভাবনার ক্ষেত্রে একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করবে এসব তথ্য সেমিনারে উঠে আসে। এছাড়া সেমিনারে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ আর কী কী সেগমেন্ট কিশোর বাতায়নে অন্তর্ভূক্তি হতে পারে সে বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।

সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল । তিনি বলেন, ফেসবুক শিক্ষার্থীদের মনোযোগকে নষ্ট করে দিচ্ছে, এ নিয়ে আমি দু;শ্চিন্তায় আছি। ওদের বয়সের কোনো জিনিস নেই কোথাও  নেই তাদের উপযোগি কনটেন্ট। কিশোরদের তিনি বলেন, তোমাদের ভেতর রয়েছে প্রচুর শক্তি তাই তোমাদের মাঠে নামতে হবে , তোমরা মাঠে গিয়ে খেল একনাগাড়ে বসে থাকবে না কোথাও কিন্তু তিনি আক্ষেপ করে বলেন আমাদের মাঠের বড় অভাব। তিনি এটুআইয়ের উদ্ভাবনী কিশোর বাতায়নের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন পৃথিবীর কোনো দেশেই কিশোরদের এ ধরণের পোর্টাল তৈরি হয়নি। অনুষ্ঠানে অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কমিশনার প্রোগ্রাম বাংলাদেশ স্কাউট মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রিপন, ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার, জাতিসংঘ পপুলেশন ফান্ড ডাক্তার মোহাম্মদ মুনির হোসেন, ই-লানির্ং স্পেশালিস্ট প্রফেসর ফারুক আহমেদ,  যুগ্ম-পরিচালক প্রোগ্রাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রফিকুল ইসলাম সুজন, এডুকেশনাল টেকনোলজি এক্সপার্ট, এটুআই। এছাড়াও ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের আইসিটি ফর এডুকেশন অ্যাম্বাসেডর ও প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: