সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুই জায়গাতেই উপস্থিত ছিলেন বাবর

নিউজ ডেস্ক:: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিষয়গত (ফ্যাক্ট) যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর আসামিপক্ষে আইনি যুক্তি উপস্থাপনের জন্য পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আদালত।

বুধবার (২৯ আগস্ট) মামলার ফ্যাক্ট নিয়ে তোলা যুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা নিরপেক্ষ সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে পেরেছি যে, বাবর সাহেব (সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর) হাওয়া ভবন ও ধানমন্ডিতে আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসা-এই দুটি জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। বাবরের পক্ষে বিষয়গত যুক্তি উপস্থাপন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

অপরদিকে বাবরের খালাস দাবি করেছেন তারপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম। আদালতে তিনি বলেন, ‘মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অযৌক্তিক ও অসত্য বিধায় আমি তার বেকুসর খালাস দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘মামলার কোথাও আমি পাচ্ছি না যে, বাবর সাহেবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বিষয়ে কিছু আছে। আর মুফতি হান্নান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে বাবর সাহেবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বিষয়ে কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মামলা। আমি পেশাগত কারণে আদালতে অনেক কথা বলেছি। কেউ যদি আমার কথায় দুঃখ পেয়ে থাকেন তাহলে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

পরে নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবর সাহেবের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণ করতে পারেনি। রাষ্ট্রপক্ষ যেসব অভিযোগ এনেছেন আমরা তা মিথ্যা প্রমাণ করতে পেরেছি।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচারকাজ চলছে। আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর আসামিপক্ষে আইনগত যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আদালতে বিচারক বলেন, ‘আপনারা (আসামিপক্ষের আইনজীবী) সার্বিকভাবে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। একজন শেষ হলে আর একজন দিবেন। এজন্য অপেক্ষা করবেন না। আইনগত যুক্তি উপস্থাপন যেন সার্বিক হয় সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন।’

বিচারক বলেন, ‘আমাদেরকে এ মামলায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাই। আপনাদের অনেক কিছু ফেস করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করেছি আইন অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি পঙ্খানুপঙ্খুভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। মামলাটি এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছি।’

মামলা পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

আজ রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল এবং আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া।

সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে পেরেছি যে, বাবর সাহেব দুটি জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। হাওয়া ভবনে এবং ধানমন্ডিতে আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসায় হওয়া মিটিংয়ে। বাবর সাহেব অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। বাবর সাহেবের অফিস (সচিবালয়) থেকে কয়েক গজ দূরে ঘটনাস্থল। কিন্তু সেখানে তিনি পরিদর্শন করতে যাননি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আরজি জানিয়েছি। আশা করি, এ মামলায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে। ২১ আগস্ট মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ বলে তিনি জানান।

এ মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে তিনজনের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জন পলাতক। বাবর, সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন আসামি কারাগারে ও আটজন জামিনে রয়েছেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামিপক্ষ সাক্ষীদের জেরা করেছে। ২০১৭ সালের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত হন। এছাড়া নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান।

ওই ঘটনায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতা অল্পের জন্য বেঁচে যান। তবে প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: