সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাতীয় দলের জার্সিকে অপকর্মের ‘লাইসেন্স’ হিসেবে ব্যবহার!

স্পোর্টস ডেস্ক:: একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছেন ক্রিকেট তারকারা। নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক দণ্ড, জেলহাজত কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। তাহলে কি কেউ কেউ ধরে নিয়েছেন জাতীয় তারকা হওয়া মানে যেকোনো কিছু করার লাইসেন্স পেয়ে যাওয়া! লজ্জাজনক এসব কাণ্ডে আক্রান্ত হচ্ছে তাঁদের ক্রিকেটও। আর দলীয় খেলা বলে সামগ্রিকভাবে দলের ওপরও কুপ্রভাব ফেলছে এসব কলঙ্ক। বিস্তারিত আয়োজনে আমরা দেখতে চেয়েছি কেন এমন পথ হারাচ্ছেন তরুণ ক্রিকেটাররা। এ থেকে রক্ষার উপায়ই বা কী।

জাতীয় দলের জার্সিকে অপকর্মের ‘লাইসেন্স’ হিসেবে ব্যবহারের হিড়িক পড়ে গেছে। সময় এখন সেটি কেড়ে নেওয়ার। সেটিও এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। নিজাম উদ্দিনও তা বলে দিয়েছেন, ‘যতটা কঠোর হওয়া দরকার, বোর্ড কিন্তু তা হবে। এটা নিশ্চিত।’ নিশ্চিত সে ঘোষণাই আসতে চলেছে বোর্ড সভাপতি দেশে ফেরার পর। তিনি এলেন বলে…!

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ তখন বেঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন। জেগে থাকার সময়ও সেটি ছিল না। রাত যে বেজে গিয়েছিল দেড়টা! তবু ওই সময়ই ঢাকা থেকে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের ফোনে জাগতে হয় বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ককে।

বোর্ড সভাপতির ফোন ধরেই মাহমুদ জানতে পারেন হোটেলে সাব্বির রহমানের কক্ষে নারী অতিথি আছে। ওই মেয়েকে তখনই হোটেল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশনা ম্যানেজারকে দেন নাজমুল। সেই সূত্রে হাতেনাতে ধরা পড়া সাব্বির সেই নারী অতিথিকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গভীর রাতে হোটেল থেকে বেরোনোর অনুমতিও আদায় করেছিলেন।

একই সঙ্গে ধৃত হওয়ার সেই ঘটনায় তাঁর সতর্ক হওয়াটাও কম জরুরি ছিল না; কিন্তু হননি। বরং এর মাস দুয়েক পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ২০১৬-র বিপিএলের সময় আবারও তাঁর কক্ষে নারী অতিথি! সেবার রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলা সাব্বিরকে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করেও যে শোধরাতে পারেনি, পরের দুই বছরের নানা বিতর্কিত ঘটনাপ্রবাহ তা চোখে আঙুল দিয়েই দেখিয়েছে।

সাব্বির একা নন, তাঁর সঙ্গে আরো একাধিক ক্রিকেটারের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জাতীয় দলের জার্সিই যেন তাঁদের অপকর্মের ‘লাইসেন্স’ হয়ে উঠতে চলেছে! সামাজিক দৃষ্টিতে অশোভন কাজের সব অবশ্য প্রচার পায়নি। তবে অবস্থা এখন এমন যে সেসব নিয়েও কঠোর হওয়ার সময় এসে গেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘যেসব অভিযোগ এখনো প্রচারিত হয়নি, সেগুলোও এখন আমলে নিতে হবে। এসব থামাতে হবে।’

আর প্রচার না পাওয়া অভিযোগগুলোও বিসিবি প্রধান নির্বাহীর চেয়ে ভালো জানা নেই কারো। কারণ বিসিবিতে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা সবার আগে হাজিরা দেন নিজাম উদ্দিনের দপ্তরেই। দু-একবার হলে তবু মানা যায়, অভিযোগকারীর অভিযোগ তাঁকে শুনতে হয়েছে বহুবার। যেটি দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য খুব প্রীতিকর অভিজ্ঞতা বলেও মনে করেন না তিনি, ‘চরম বিব্রতকর অভিজ্ঞতা এটি। দেখা গেছে, ভীষণ জরুরি কাজে ব্যস্ত; কিন্তু ওই সময়ই হয়তো কোনো ক্রিকেটারের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কেউ বাচ্চা নিয়ে এসেছেন অভিযোগ করতে।’

অভিযোগ শুনেছেন এবং কখনো কখনো সমাধান দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন, ‘একই সঙ্গে এটি যেহেতু প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় সুতরাং আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব পারিবারিকভাবেই মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি।’ যেমন করেছেন জাতীয় দলে জায়গা হারানো এক তরুণ ফাস্ট বোলারের ক্ষেত্রেও। ওই ক্রিকেটার যখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এক শ্বেতাঙ্গিনীকে নিয়ে নিজের হোটেল কক্ষে রাত পার করছেন, তখন দেশে আরেক তরুণীর পরিবার রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিচ্ছিল। এমনকি বিসিবিতে নিয়মিত হাজিরা দিয়েও তরুণীর পরিবার ওই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল। তাতে কাজও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার দেশে ফিরেই তড়িঘড়ি বিয়ে করেন ওই তরুণীকে। বিয়ে না করেও এক তরুণীকে ‘অন্তঃসত্ত্বা’ করে ফেলার অভিযোগও এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এসেছে বিসিবিতে। দীর্ঘদিন ধরে রানে না থাকা এক ওপেনারকে নিয়ে সেই অভিযোগ জানিয়ে গেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। যার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠার কোনো খবর এখন পর্যন্ত নেই। মাঠের ভেতর রানে না থাকা সেই ক্রিকেটারের আসল মনোযোগ কোথায়, এই একটি ঘটনা থেকে তা আঁচ করে নেওয়াটা কঠিন নয়।

যাঁদের পরিবারও তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম।সেটিও অস্বাভাবিক নয়। কারণ বিশৃঙ্খল ক্রিকেটারদের সিংহভাগই উঠে এসেছে অসচ্ছল পরিবার থেকে। ক্রিকেট খেলে তাঁরাই পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে উঠছেন। পরিবারের চাহিদাও মেটাচ্ছেন বলে তাঁদের ওপর মুরব্বিদের নিয়ন্ত্রণও থাকে না। এ জায়গাতেই এখন লাগাম শক্ত হাতে ধরার সময় এসেছে বলে মনে করেন বিসিবি প্রধান নির্বাহী। তাঁর ভাষায়, ‘অভিভাবক হিসেবে বোর্ডেরই এখন ওদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাটা বেশি জরুরি।’ অবশ্য তিনি এটাও মনে করেন যে ‘কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে এসব বিষয় ঠেকানোর ব্যবস্থা নেওয়াই বেশি কাজের হতে পারত। তবে এখন যেটা মনে হচ্ছে, ঠেকানোর আগে আমাদের কঠোরই হওয়া উচিত। কারণ কোনোভাবেই ক্রিকেটারদের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’ যাচ্ছে না বলেই জাতীয় দলের জার্সিকে অপকর্মের ‘লাইসেন্স’ হিসেবে ব্যবহারের হিড়িক পড়ে গেছে। সময় এখন সেটি কেড়ে নেওয়ার। সেটিও এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। নিজাম উদ্দিনও তা বলে দিয়েছেন, ‘যতটা কঠোর হওয়া দরকার, বোর্ড কিন্তু তা হবে। এটা নিশ্চিত।’ নিশ্চিত সে ঘোষণাই আসতে চলেছে বোর্ড সভাপতি দেশে ফেরার পর। তিনি এলেন বলে…!


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: