সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অভিযান,জরিমানাকে সমাধান ভাবছেন ম্যাজিষ্ট্রেট,হকারের মতে পুনর্বাসন

 নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঈদের আগে টার্গেট থাকলেও মানবিক স্বার্থে ঈদ বাজার বিবেচনায় হকারদেও উচ্ছেদ অভিযান না এক রকম ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ঈদেও পর প্রথম উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া সাথে কথা বলে এ কথা জানা যায়। যাদেরকে বার বার বলেও লাভ হচ্ছেনা,তাদেরবে বার বার জরিমানা করা উচিত মনে করেন তিনি।

উচ্ছেদ অভিযানের ফাঁকে কথোপনে তিনি জানান, সার্কিট হাউসের সামনে থেকে একন কত সুন্দর নদী দেখা সম্ভব হচ্ছে। কয়েকদিন আগে যা অসংখ্য ট্রাকের কারণে অসম্ভব ছিল। আসলে নিজ নিজ উদ্যোগে আমরা চাইলে এসব সৌন্দর্যগুলো অনায়াসেই ফিরিয়ে আনতে পারবো। আবার আমরা অভিযান কওে সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনবো আর সাধারন মানুষ সচেতনতার ভ’মিকা দেখাবে না তাহলে কিন্তু এসব কিছু অসমাপ্তই থেকে যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিসি অফিসের জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়ার নেতৃত্বি ভ্রাম্যমান আদাতের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় চলাচলের রাস্তা দখল করে ভ্যানগাড়ি দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় ডিসি অফিসের সামনে ৩ ব্যবসীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যাদেও মধ্যে হাসান আলীকে ১ হাজার টাকা,আব্দুল কালামকে ২ হাজার টাকা এবং মো. রুুম্মান আহমেদকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এসময় জরিমানাকৃত টাকা দিতে গড়িমসি করায় ব্যবসায়ীদেও উদ্দেশ্য করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, এটা কি শপিংমল পেয়েছেন।আপনাদেও সাথে কি দরদাম কষাকষির জন্য এসেছি। নাটক করার মত সময় আমাদেও কাছে নেই। জরিমানা দিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে যান,তা না হলে মামলা দিয়ে মালপত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।

উপস্থিত সাংবাদিকদেও তিনি বলেন, একবার বললে তারা শুনতে চাইনা। সকালে বললে বিকেলে আবার এসে বসিয়ে দেয়।অফিসের গেইটের সামনে বসে পড়ে। ফুটপাত দখল কওে যা করছে তা অপরাধ হওয়া স্বত্ব্ওে মানবিক স্বার্থে অনেক সময় ছাড় দেওয়া হয়। অথচ তাদেও ছাড় দিতে দিতে দেখি মাথায় উঠে গেছে। ডিসি অফিসের সামনে বাঁশ বেধে এমনভাবে ব্যবসা করছে যেন জায়গাটা তাদেরই। মুখে বললে শুনতে চাইনা। ২ ঘন্টার পর আবার বসে পড়ে। এদেরকে প্রতিদিন জরিমানা করা উচিত।

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান,জরিমানা এতসবের পরেও এসব নিয়ে নিজেদের ভাবনাটা কি জানতে চাইলে জরিমানা দেওয়া ব্যবসায়ী রুম্মান জানান, আমরা গরীব মানুষ। পেটের তাগিদেই এখানে বসতে বাধ্য হয়। আমাদেও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাটা যদি করা হতো তাহলে নিশ্চয় আমরা জেনে শুনে এরকম কাজ করতাম না।

অপর ব্যবসায়ীর মতে, একদিকে আমরা ভ’য়া,অন্যদিকে যেন রোহিঙ্গা হয়ে গেছি।

তিনি বলেন,আমরা তো ব্যবসা করে খাচ্ছি। চুরি করছিনা। আমরা তাহলে কোথায় গিয়ে ব্যবসা কওে নিজেদেও পেট চালাবো বলেন।

এদিকে অভিযানে জরিমানা দেওয়া ব্যবসায়ীদেও সাথে কথা বলে জানা যায়, ঐসব ভ্যানগাড়িতে করে কাপড় ব্যবসাটা তাদেও নিত্যদিনের। যার মধ্যে কারো কারো এই ব্যবসার বয়স ৬ মাস আবার কারো ৬ বছর। একেকটি ভ্যানে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার মালামাল আছে। যা থেকে প্রত্যেকদিন আয় হয় প্রায় ১৫০০-২০০০ টাকা। আবার কোন কোন সময় বনিবাট্ট্রা না করেও বাড়ি ফিরতে হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাই জীবিকার নির্বাহের স্বার্থে অভিযান,জরিমানা না কওে ব্যবসয়ীদেও পুনর্বাসনের দিকে বেশি নজর দিতে বলছেন এইসব ব্যবসায়ীরা।

আবার এইসব ব্যবসায়ীদেরকে একেকজন মহাজন চালান বলেও অনেকের কাছ থেকে জানাগেছে। যে মহাজনরা এইসব অভিযান বা জরিমানার কথা শুনতে নারাজ থাকেন। যার ফলে জরিমানা অর্থ নিজেদেও বেতন থেকে কেটে ফেলা হয় বলে জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী।

ম্যাজিষ্ট্রেট সূত্রে জানা যায়, প্যানাল কোর্টের গণউপদ্রব ২৯১ ধারায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সার্কিট হাউস,ডিসি অফিসসহ ফুটপাত দখল করে বসে ব্যবসা পরিচালনা করার মাধ্যমে সৃষ্ট গণদুর্ভোগ নিরসনে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানা গেছে।


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: