সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দোয়ারাবাজারে সংঘর্ষে নিহত মাওলানা বশির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন : আটক ২০

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত মাওলানা বশির উদ্দিন (৫০) এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় ছাতক-দোয়ারাবাজারের বিশিষ্টজনসহ সর্বস্তরের সহ¯্রাধিক মানুষ শরিক হন। জানাজা শেষে শিবপুর গ্রামে তাদের পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

রোববার সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন্নবী, সহকারী পুলিশ সুপার দোলন মিয়া (ছাতক সার্কেল)সহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেফতার আতংকে উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর ও শিবপুর গ্রাম এখন পুরুষশূণ্য।

উল্লেখ্য, গাড়ি ভাড়ার ১০ টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে উপজেলার শিবপুর ও রাজনপুর গ্রামবাসীর সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত সালিশ পক্ষের মাওলানা বশির উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। তিনি শিবপুর গ্রামের মৃত মৌলভী ছোয়াব আলীর পুত্র ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত ফখর উদ্দিনের ছোট ভাই এবং স্থানীয় দোহালিয়া শাখা ডাকঘরের বর্তমান পোস্টমাস্টার ছিলেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বঙ্গবন্ধু বাজারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অপরদিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দোহালিয়া বাজার থেকে ইজিবাইকযোগে স্থানীয় বঙ্গবন্ধু বাজারে একটি ছাগল নিয়ে যাচ্ছিলেন শিবপুর গ্রামের জহুর আলীর পুত্র প্রবাসী বিল¬াল মিয়া। এসময় ভাড়া নিয়ে রাজনপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক তাজ উদ্দিনের পুত্র জাকারিয়া (১৫) এর সাথে তার বাক-বিতন্ডা হয়। এ সময় একই গ্রামের চালক ফকিরশাহ (৩৮) জাকারিয়ার পক্ষ নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এ নিয়ে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার রাতেই শিবপুর ও রাজনপুর গ্রামের লোকজন পৃথক বৈঠক করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে উভয়পক্ষে হাক-ডাক দিয়ে দুই গ্রামের লোকজন বঙ্গবন্ধুবাজার সংলগ্ন মাঠে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে দেশীয় অস্ত্র ও ব্যাপক ইট-পাটকেলসহ প্রায় দু’ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে উভয় গ্রামের শতাধিক লোক আহত হন। গুরুতর আহত ৩০জনকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের ছাতকের কৈতক হাসপাতাল, ছাতক ও দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিতসা দেয়া হয়েছে। দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশিল রঞ্জন দাস জানান, আটককৃৃত উভয়পক্ষের ২০জনের মধ্যে রাজনপুর গ্রামের ফকিরশাহ (৩৮), আনোয়ার হোসেন (৩৫), রমজান আলী (২৫), জাকির হোসেন (১৮) ও আলমগীর (১৮)কে ৫৪ ধারায় এবং শিবপুর গ্রামের মুক্তার হোসেন (২৫), রায়হান উদ্দিন (৩৩), মুহাজ উদ্দিন (৩৮), জয়নুদ্দিন (১৮), মনচুর আলী (৩২), রায়হান (২৫), জুবের (১৬),সোহেল মিয়া (১৭), জফির আলী (৪৫), রুবেল মিয়া (১৮), ময়নুল হক (২০), জাহেদ মিয়া (২১), আলীম উদ্দিন (২০), তাইজুল ইসলাম (১৮) ও মিজান (১৯)কে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ১৫১ ধারায় রোববার দুপুরে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে।


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: