সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিপাকে ব্রিটেনের সাধারণ আয়ের মানুষ : সংসার চালাতে হিমশিম

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: কষ্টে আছে ব্রিটেনের সাধারণ মানুষ। পূর্ণকালীন কাজ করেও সংসারে শান্তি নেই। অভাব লেগেই আছে। দুই সন্তানের পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজন কাজ করলেও অনটন লেগেই থাকছে। নিজেদের ন্যূনতম সখ পূরণ দূরে, মৌলিক চাহিদাই তারা ঠিকঠাক পূরণ করতে পারছেন না। চ্যারিটি সংগঠন চাইলড প্রোভার্টি অ্যাকশন গ্রুপের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন ব্রিটেনের সাধারণ কর্মজীবী মানুষদের এমন কষ্টের কথা উঠে এসেছে। ওই গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে ২০ আগস্ট সোমবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি।

চাইলড প্রোভার্টি অ্যাকশন গ্রুপের গবেষণার বরাত দিয়ে বিবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো সিঙ্গেল প্যারেন্ট যদি সরকার নির্ধারিত ন্যুনতম বেতনে (ন্যাশনাল মিনিমাম ওয়েজেস) পূর্ণকালীন কাজ করেন, তাহলে সপ্তাহে তিনি কমপক্ষে ৭৪ পাউন্ডের অভাবে থাকেন। অর্থাৎ তিনি যা আয় করেন, তা দিয়ে তাঁর ন্যূনতম মানসম্পন্ন জীবনযাপন হয় না। ন্যুনতম জীবন মান বজায় রাখতে তাঁর সপ্তাহে আরও ৭৪ পাউন্ডের প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনে কাজ করেও সংসারের সকল চাহিদা মেটাতে পারছেন না। ন্যূনতম বেতনে পূর্ণকালীন (ফুলটাইম) কাজ করলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত্য তঁরা ৪৯ পাউন্ডের অভাবে থাকেন। অবশ্য এই পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় কিছুটা ভাল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা, গত বছর ন্যূনতম বেতনে কাজ স্বামী-স্ত্রী সপ্তাহে ৫৯ পাউন্ডের অভাবে থাকতেন। বর্তমানে ব্রিটেনে ন্যূনতম বেতন ঘন্টা প্রতি ৭ পাউন্ড ৮৩ পেন্স। ২০১৫ সালে জর্জ অসবর্ণ চ্যান্সেলার থাকা অবস্থায় এই ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করেছিলেন। এরফলে পূর্ণকালীন কাজ করে এমন মানুষের আয় বছরে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বেড়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয়। ২০২০ সালের মধ্যে ন্যূনতম বেতনের এই হার ৯ পাউন্ডে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

সরকারের এক মূখপাত্র বিবিসিকে বলেন, অতীতের চেয়ে অনেক কম পরিবার দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিক সংখ্যাক মানুষ কাজে যুক্ত রয়েছে। ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের আয় বছরে প্রায় দুই হাজার পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বিগত ২০ বছরের মধ্যে এক দফায় সবচেয়ে বেশি আয় বৃদ্ধির ঘটনা।

মানুষ আগের চেয়ে বেশি ঘন্টা কাজ করছে। দিনের বেশির ভাগ সময় আয়ের পিছনে ছুটছে। আয় করছেও বেশি। কিন্তু সব কিছুর খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। চাইলড প্রোভার্টি অ্যাকশন গ্রুপের গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৮ বছর পর্যন্ত একজন সন্তানকে লালন পালন করতে বর্তমানে গড়ে এক লাখ ৫০ হাজার ৮শ পাউন্ড খরচ হচ্ছে। যা গত এক দশক আগে ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ১শ পাউন্ড। সন্তান পালনে খরচ কিছুটা কমলেও ন্যূনতম আয়ের মানুষ বর্তমান সময় অনুযায়ী মানসম্মত জীবন যাপনে হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে, সরকারী বেনিফিট নিয়মের ক্রুটির কারণে কর্মক্ষম মানুষ বাধ্য হয়ে বেনিফিটে নাম লেখায় বলে অভিযোগ বেশ পুরনো। সরকার বেনিফিট ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করলেও কর্মজীবীদের অনুকুলে তা এখনো ন্যায্য হয়নি। যারা সাধারণ কর্মজীবী এবং কাজ করে জীবন যাপন করতে চান-তারা সরকারের তরফ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা পান না। ফলে স্বল্প আয় দিয়ে সাধারণ মানুষ উচ্চ বাসা ভাড়া ও খরচের চাপ সামাল দিতে পারেন না।

যেমন দুই সন্তানের কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যদি চাকরি করেন এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড আয় করেন, তাহলে তারা দুই বেড রুমের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ দুই বেড রুমের বাসা ভাড়ার দাম জায়গা বুঝে ২ হাজার পাউন্ড থেকে ১২শ পাউন্ড। তার সঙ্গে কাউন্সিল ট্যাক্স ও আনুষঙ্গিক বিল মিলিয়ে কেবল বাসা ভাড়া বাবদ মাসে খরচ পড়ে গড়ে প্রায় ১৭শ পাউন্ড। এই ধরণের পরিবার সরকারের কাছ থেকে বাসা ভাড়ার অনুকোলে কোনো সাহায্য পান না। ফলে একদিকে চাকরি করে নিজেরা পছন্দমত থাকতে পারছেন না, অন্যদিকে চাকরি করার কারণে সরকারের তরফ থেকে তারা কোনো সাহায্যও পান না। যে কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে পুরোপুরি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বেনিফিটে নাম লেখান। সরকারের টাকায় চলে তাদের সংসার।

এই পরিস্থিতি থেকে সাধারণ কর্মজীবীদের মুক্তি দিতে ন্যূনতম আয়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারী তরফে সাহায্যের উদ্যোগ গ্রহণে আহবান জানানো হয়েছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: